ইউপি প্রার্থী হওয়ায় বিরোধে কালাপাহাড়িয়া যুবদলের সভাপতি জহিরকে কুপিয়ে হত্যা
দুইদিনেও অদৃশ্য ইশারায় হয়নি অভিযোগ কিংবা মামলা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
জহির ফকির, মোবারক হোসেন ও সাইফুল ইসলাম স্বপন
সোনারগাঁয়ে পূর্বশত্রুতা ও চেয়ারম্যান পদে ‘প্রতিদ্বন্দ্বি’ হওয়ার ঘোষণার জেরে আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহির ফকিরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশী মোবারক হোসেন ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন বাহিনীর বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের দুইদিনেও অদৃশ্য শক্তিতে আড়াইহাজার,সোনারগাঁও কিংবা মুন্সিগঞ্জ কোথাও হয়নি কোন অভিযোগ কিংবা মামলা। ঘটনার ৪৮ ঘন্টা অতিক্রম হলে ও কেন হচ্ছে না মামলা বা অভিযোগ তা নিয়ে শুরু হয়েছে ধুম্রজাল।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় নিজের ফার্মেসি বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত জহির ফকির (৪৫) কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর গ্রামের আব্দুর রহমান মাতব্বরের ছেলে। তিনি আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তিনি মুন্সিগঞ্জে বসবাস করতেন এবং সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় একটি ফার্মেসি চালাতেন। এলাকাটি মুন্সিগঞ্জের কাছাকাছি।
তা ছাড়া যুবদলের জহির ফকির ও ছাত্রদলের মোবারক হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা ও বিরোধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খোরশেদ আলম। একই সাথে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ জানিয়েছেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের সঙ্গে বিরোধ ছিল জহিরের।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও জহির ফার্মেসি বন্ধ করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে ১৫-২০ জনের একটি দল পথ আটকে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাঁকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তাকে কালাপাহাড়িয়ার খালিয়ারচর গ্রামে বাদ আসর জানাযা শেষে স্থানীয় এক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, আধিপত্য বিস্তার ও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশী মোবারক হোসেন পরিকল্পিতভাবে তার বাহিনীদের দিয়ে জহিরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এখানে কবির, রিজভী, পিয়ার আলী জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। আরেকটি পক্ষ এই হত্যার নেপথ্যে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের যোগসাজস রয়েছে বলে দাবি করেছেন। এই হত্যার ঘটনায় উত্তপ্ত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন। তারা অবিলম্বে খুনের নেপথ্য রহস্য উন্মোচন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক যুগের চিন্তাকে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। বর্তমানে রাত্র ১০টা এখনো কোন অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ হলেই সাথে সাথে মামলা রঞ্জু করা হবে। বর্তমানে কেউ এই ঘটনার অভিযোগের বিষয়ে থানায় আসেনি।


