Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

কালাপাহাড়িয়া যুবদলের সভাপতি জহিরকে কুপিয়ে হত্যা

ইউপি প্রার্থী হওয়ায় বিরোধ ছিল মোবারক-স্বপনের সাথে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

ইউপি প্রার্থী হওয়ায় বিরোধ ছিল  মোবারক-স্বপনের সাথে

ইউপি প্রার্থী হওয়ায় বিরোধ ছিল মোবারক-স্বপনের সাথে

Swapno



সোনারগাঁয়ে পূর্বশত্রুতা ও চেয়ারম্যান পদে ‘প্রতিদ্বন্দ্বি’ হওয়ার ঘোষণার জেরে আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহির ফকিরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, আধিপত্য বিস্তার ও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশী মোবারক হোসেন পরিকল্পিতভাবে তার বাহিনীদের দিয়ে জহিরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এখানে কবির, রিজভী, পিয়ার আলী জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।


আরেকটি পক্ষ এই হত্যার নেপথ্যে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের যোগসাজস রয়েছে বলে দাবি করেছেন। এই হত্যার ঘটনায় উত্তপ্ত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন। তারা অবিলম্বে খুনের নেপথ্য রহস্য উন্মোচন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় নিজের ফার্মেসি বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত জহির ফকির (৪৫) কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর গ্রামের আব্দুর রহমান মাতব্বরের ছেলে। তিনি আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তিনি মুন্সিগঞ্জে বসবাস করতেন এবং সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় একটি ফার্মেসি চালাতেন। এলাকাটি মুন্সিগঞ্জের কাছাকাছি।


এদিকে যুবদলের জহির ফকির ও ছাত্রদলের মোবারক হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা ও বিরোধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খোরশেদ আলম।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও জহির ফার্মেসি বন্ধ করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে ১৫-২০ জনের একটি দল পথ আটকে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাঁকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তাকে কালাপাহাড়িয়ার খালিয়ারচর এলাকা বাদ আসর জানাযা শেষে স্থানীয় এক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।


জহিরের ভাগ্নে ইসমাইল হোসেন ও বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা নিয়ে জহিরের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগেও মোবারক তাঁর লোকজন নিয়ে কয়েকবার জহিরের ওপর হামলা করেছিলেন। বুধবার রাতে মোবারক ও তাঁর লোকজন আড়াইহাজার থেকে এসে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জহিরকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ তাঁদের। তাঁরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


জহিরের ভাতিজি কান্নায় জর্জড়িত গলায় অভিযোগ করেন, আমার কাকা চেয়ারম্যান প্রার্থী অন্যদিকে মোবারক চেয়ারম্যান প্রার্থী যা নিয়ে আমার কাকার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিলো মোবারকের। আবার কাকাকে কয়েকবার হুমকি দিয়ে মোবারক বলেছিলেন তোরে মাইরা লামু তুই চেয়ারম্যান প্রার্থী হইতে পারবি না। মোবারকই আবার চাচার হত্যার খুনি।


অভিযোগের বিষয় অসত্য দাবি করে অভিযুক্ত মোবারক হোসেন বলেন, জহির হত্যাকাণ্ডের সাথে আমি জড়িত কেন হব। জহিরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো ছিল। গতকাল রাত ৮ টায় আমি একটি গ্রাম্য নাটকের রিয়াসেলের অনুষ্ঠানে ছিলাম। আমার চাচা সালাম ও জহির দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল, সেই হিসাবে তার চোখের দিকে তাকিয়ে আমি কখনো কথা বলিনি। আমার সাথে কোন দ্বন্দ্ব ছিলো না তার।


হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ যুগের চিন্তাকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের  ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রশাসন তদন্ত করে সঠিক রিপোর্ট উঠে আসলে সেই আসামী যে হোক তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিবো না।


তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পূর্বে ছাত্রদলের মোবারকের এক আত্মীয়র সঙ্গে জহির ফকিরের বিরোধ চলছিল। যা নিয়ে কয়েক মাস পূর্বে এলাকায় নানা হট্টগোলের ঘটনা ঘটলে আমরা বৈঠকে বসে তা সমাধানে ও হয়েছিল।


তিনি আরো বলেন, জহির আমাকে কয়েকবার বলেছে স্বপন চেয়ারম্যান সুযোগ পেলেই আমাকে মেরে ফেলবে। যাকে ঘিরে শিউর করা যাচ্ছে না কে মূল আসামী কে বর্তমানে প্রশাসন তদন্ত করছে বিচারের স্বার্থে তদন্তে যার নামই বের হোক তাকে ছাড় দিবো না।


আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহম্মেদ বলেন, ছাত্রদলের মোবারকের সঙ্গে হালকা কিছু দ্বন্দ্ব ছিলো যুবদলের জহিরের। যা আমরা বসে মিমাংসা করে দিয়েছিলাম। এখন হঠাৎ কিভাবে কি হলো বুঝতে পারছি না। বর্তমানে পুলিশ তদন্ত করছে। আমাদের দাবি তদন্তে আসামী যেই বেড়িয়ে আসুক তার যেন সর্বোচ্চ বিচার হয়।


এ বিষয়ে আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খোরশেদ আলম যুগের চিন্তাকে বলেন, জহির যুবদলের একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। তাঁর বাড়ি কালাপাহাড়িয়া এলাকায় হলেও তিনি মুন্সিগঞ্জে বসবাস করতেন।


তিনি বলেন, ‘জহির প্রায়ই আমাকে বলতেন, তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে। তবে শুনেছিলাম ছাত্রদলের মোবারকের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। বর্তমানে প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছেন।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক যুগের চিন্তাকে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। বর্তমানে রাত্র ১০টা এখনো কোন অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ হলেই সাথে সাথে মামলা রঞ্জু করা হবে।


এর আগে গত ৫ মাস আগে চলতি বছরের (২১ মে) আড়াইহাজারের দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকার একটি জমির মাটি কেটে বিক্রির দ্বন্দ্বের জেরে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি (৪০) কে হত্যার অভিযোগ উঠে দুপ্তারা ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান মিয়ার বিরুদ্ধে। কিন্তু বর্তমানে এ ঘটনার কোন সুষ্ঠ বিচার পায়নি পরিবার। বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিগত আন্দোলনের সহযোদ্ধারাই হয়ে উঠছেন শত্রু।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন