কাজল-মুন্নার মুক্তি দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের মানববন্ধনে বক্তারা
ওসমানদের ব্যবসা দেখভাল করছেন বিএনপি নেতারা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
ওসমানদের ব্যবসা দেখভাল করছেন বিএনপি নেতারা
নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের ব্যবসা-বাণিজ্য দেখভাল করছেন বিএনপি নেতারা এমন তথ্য সামনে এনেছেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা। নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ও আবৃত্তিশিল্পী জিয়াউল ইসলাম কাজল এবং সংগঠনটির সদস্য ও নাট্যকর্মী আতিকুল ইসলাম মুন্নার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে এসব কথা উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে। রফিউর রাব্বি বলেন, ওসমান পরিবারের কাদের কাদের বিদেশে পালাতে সাহায্য করেছেন, এখন পর্যন্ত তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন আমরা কিন্তু জানি।
বিভিন্ন গোয়েন্দাসংস্থাও জানে, আমরাও জানি। সুতরাং আপনারা যদি মনে করেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের দুইজন কর্মীকে আপনারা নাজেহাল করবেন, এটি সঠিক হবেনা। সাংস্কৃতিক জোট সবসময় একটি শক্তি রাখে, সেটি হলো মানুষের পক্ষে থেকে দুঃশাসনের বিরোধিতা করা। আমাদেরকে সরকারের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে দাঁড়া করাতে যাবেননা। এটা সরকারের জন্য ভালো হবেনা, এটি দেশের জন্য মঙ্গল হবেনা।
গতকাল (১৭ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মনি সুপান্থ। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিন।
রফিউর রাব্বি বলেন, আপনাদের কার কী মুরোদ আমরা কিন্তু জানি। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পরে কাকে কাকে আপনারা সেখানে টার্গেট করেছেন, জেলে নিয়েছেন আমরা জানি। আপনারা অনেক নিরীহ লোককেও আপনারা মামলায় জড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময় সারাদেশের কি চিত্র ছিল মানুষ জানে, নারায়ণগঞ্জের কি চিত্র ছিল তাও মানুষ জানে। নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক জোট ওসমান পরিবারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে, নারায়ণগঞ্জে যে আইয়ামে জাহিলিয়াত প্রতিষ্ঠা করেছিল তার রিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। আজকে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় তাদের কা কী ভূমিকা ছিল ওই দীর্ঘসময়ে, তাদের বলবো, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারাটা দেখেন।
রাব্বি বলেন, জিয়াউল ইসলাম কাজল দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণঞ্জের সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ছিল, আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে তার আন্দোলন চালু রেখেছিল। অতীতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীরা বিভিন্নভাবে নিগৃহিত হয়েছে এই ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, খুন-খারাবির বিরুদ্ধে কথা বলায়। কাজল একজন আইনজীবী, সে বিভিন্ন দলের ক্লাইন্টদের পক্ষে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু যে বিষয়টি বলা হচ্ছে, একটি স্লোগানকে কেন্দ্র করে, এরসাথে কাজল যুক্ত ছিল কি ছিলনা এটি বের করা খুব বেশি কঠিন ব্যাপার না। কাজল সেই স্লোগানের সাথে জড়িতই ছিলনা।
তিনি বলেন, মুন্না সেদিন আদালতেই যায়নি। মুন্না একজন নিরীহ ছেলে, সে অভিনয় করে, নাট্যকর্মী, সাতপাঁচে নাই। সে ওই দিন তার ভাইয়ের সাথে আদালতে গেলো তাকেও মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দিলেন। আপনারা যারা রাজনীতির নামে বিভিন্ন অপকর্ম করেন, আপনারা আপনাদের মতো করেন। কিন্তু আমাদেরকে এর সাথে যুক্ত করতে যাবেননা।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে রফিউর রাব্বি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে যেভাবে আইন-আদালত পরিচালিত হতো, এখনও তাই হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলবো, হাসিনাকে ডোবানোর জন্য এই অতি উৎসাহী প্রশাসন, এই আমলা-পুলিশ তারাই যথেষ্ঠ ছিল। পুলিশের এই নির্বুদ্ধিতা আর অপকর্ম না থাকলে শেখ হাসিনার হয়তো এতো তাড়াতাড়ি পতন হতো না। আজকে আপনার দলের এই অতিউৎসাহী নেতাকর্মী, অতিউৎসাহী পুলিশ প্রশাসনের যারা তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকেন।
আমরা সরকারের বিরুদ্ধে যেতে চাইনা। আমরা শেখ হাসিনার পতনের পরে একটি নতুন পরিবর্তিত সরকার চেয়েছি যাতে মানুষ তার অধিকার, বৈষম্যছাড়া একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিলাম। আপনারা এখন আবার নির্যাতন নিপীড়ন করে জেলে ভরে রাখবেন, এটি হবেনা। আপনাদের মনে রাখা উচিৎ, যেই ওসমান পরিবার দোর্দণ্ড প্রতাপ শক্তি নিয়ে নারায়ণগঞ্জে ছিল, তাদেরকে চ্যালেঞ্জ আমরাই করেছিলাম, আপনারা করেননি। আপনারা তাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হননি। দাবি রাখতে চাই, কাজল, মুন্নাকে নিঃশর্ত মুক্তি চাই। তারা যতদিন কারাগারে থাকবে ততদিন এটি সরকারের জন্য বুমেরাং হবে। তাই তাদের দ্রুত মুক্তি দেয়ার দাবি জানাই।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু, সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল ও শিল্পী অমল আকাশ।
মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু বলেন, গত ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর আদালতে জামিন নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জিয়াউল ইসলাম কাজল, তাঁর ভাই আতিকুল ইসলাম মুন্না এবং সংশ্লিষ্ট আরেকজন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের পূর্বের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রদীপ ঘোষ বাবু দাবি করেন, ওই ঘটনার সঙ্গে কাজল ও মুন্নার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
বিচারব্যবস্থা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবের বৃত্তে আটকে থাকলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এবং বিচারব্যবস্থা বিতর্কিত হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মানববন্ধন থেকে জিয়াউল ইসলাম কাজল ও আতিকুল ইসলাম মুন্নার অবিলম্বে মুক্তি এবং বিচারব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানানো হয়।


