নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটির চাঁদনী হাউজিং এলাকায় নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তি অটোচালক জাকির হোসেন ওই হাউজিং এর একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া।
রবিবার (৪ অক্টোবর) রাতে চাঁদনি হাউজিং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনা জানাজানির পর উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে মারধর করে আটক করে রাখে। ঘটনার খবর পেয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম ফোর্সসহ অভিযুক্তকে আটক করতে গেলে উত্তেজিত জনতার ইট-পাটকেলের আঘাতে মাথায় জখমপ্রাপ্ত হয়ে আহত হয়েছেন। তবে উত্তেজিত জনতাকে সামলে অভিযুক্তকে আটক করে রাত ১২টার দিকে থানায় আনতে সমর্থ হন পুলিশ। এদিকে আহত ফতুল্লার থানার ওসিকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, ফতুল্লা চাঁদনী হাউজিং এলাকায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার খবর পেয়ে তিনি ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে যান। এসময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে আটকে রাখে। জনতা কিছুতেই অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে দিতে চাচ্ছিল না। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। এতে উত্তেজিত জনতা কিছুটা শান্ত হলে অভিযুক্তকে পুলিশের গাড়িতে তুলতে সমর্থ হই। তবে গাড়ি দিয়ে নিয়ে আসার সময় উত্তেজিত জনতা ধাওয়া দেয় এবং ইট-পাটকেল ছোঁড়ে। এতে তিনি আহত জন বলে জানান। ওসি বলেন, উত্তেজিত জনতা ফতুল্লা থানার বাইরেও অবস্থান নিয়েছে। আমি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসামিকে ফতুল্লা থানায় নেয়া হয়েছে।
এরআগে স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অভিযুক্ত অটোচালক ও ভিকটিম ওই শিশুর পরিবার টিনশেড বাড়ির পাশাপাশি বাসায় থাকতেন। ওই শিশু রাত আটটার দিকে টয়লেট থেকে বের হওয়ার পরপরই পাশের ঘরের অভিযুক্ত জাকির ওই শিশুর মুখ চেপে ধরে ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্ট চালায়। পরবর্তীতে শিশুটির ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। এবং অভিযুক্তকে জাকিরকে উত্তমমধ্যম দিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে থানায় খবর দেয়।
এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে ওই এলাকায় হাজারো লোক জড়ো হন। পরে ফতুল্লা থানার ওসি ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দীর্ঘক্ষণ হ্যান্ডমাইকে উত্তেজিত জনতাকে কিছুটা শান্ত করার পর ঘটানাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করতে সমর্থ হন। তবে ফেরার পথে উত্তেজিত জনতা আবার ধাওয়া দেয় এবং পুলিশের গাড়িতে অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়ে। এতে ফতুল্লা থানার ওসি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রবিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে অভিযুক্ত জাকিরকে ফতুল্লা থানায় নেয়া হয়েছে। তবে ফতুল্লার থানার বাইরে উত্তেজিত জনতা অবস্থান করায় পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।