Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি

আ.লীগ-বিএনপির লোভে ধ্বংস হচ্ছে বক্তাবলীবাসী

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

আ.লীগ-বিএনপির লোভে ধ্বংস হচ্ছে বক্তাবলীবাসী

আ.লীগ-বিএনপির লোভে ধ্বংস হচ্ছে বক্তাবলীবাসী

Swapno



নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী সদর উপজেলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন । দ্বীপ অঞ্চল হিসেবে এই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা বেশ দুর্গম। এই ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতি কৃষি ও ইটভাটা। বিগত সময় দেশের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে মাটি আমদানি করে ইটভাটায় ইট প্রস্তুত করা হলেও এখন খোদ বক্তাবলীর মাটি কেটেই পোড়ানো হচ্ছে ইটভাটায়। যার ফলে ধ্বসে পড়ছে তীরবর্তী জমি। এদিকে অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদীতে গ্রাফের মাধ্যমে অবৈধভাবে নদীর মাটি প্রকাশ্যে উত্তোলন করে স্থানীয় ইট ভাটায় বিক্রি করছে বর্তমানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সিন্ডিকেট একত্রিত হয়ে মাসে মাটি লুটে খাচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।


এদিকে সেই দুইভাগে এনসিপি ভাগ বসাতে গেলেই হামলার শিকারে উত্তপ্ত হয়ে উঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। তা ছাড়া প্রভাবশালীদের লোভের সামনে অসহায় ভূমিকার মালিকেরা প্রতিনিয়ত নিজেদের পৈত্রিক সম্পদ হারাচ্ছেন একটু একটু করে। এই অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে বাসিন্দারা বার বার দ্বারস্থ হয়েছেন পুলিশ, প্রশাসন এবং এমপির কাছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বেপরোয়া লোভের শিকার হয়ে সব হারাচ্ছেন বাসিন্দারা। কোন জায়গায় কোন প্রকারের সহযোগীতা পাচ্ছে না সেখানকার বাসিন্দারা।


অভিযোগ রয়েছে, বিগত দিনে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী তার বাহিনী নিয়ে ইটভাটায় মাটির যোগান দিতে গ্রাফের মাধ্যমে লুট করতেন মাটি। তা ছাড়া অন্যদিকে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক সামেদ আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক হাসান আলী, বক্তাবলী ১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মান্নেক খান, যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মেসিসহ আরো অনেকেই আলাদাভাগে নদীর অবৈধ মাটি কেটে লুট করেছেন।


বর্তমানে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুর ঘনিষ্ঠ কর্মী বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান, সহ-সভাপতি রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ এবং যুবদল নেতা আবুল খায়ের ও মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে এ গ্যাব ড্রেজার সিন্ডিকেট ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া সূত্র বলছে এখন শুধু বিএনপিই নয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ও আগের মতোই ভাগ-ভাটোয়ারার মাধ্যমে চালাচ্ছে এই অবৈধ ব্যবসা।


রেহাই দিচ্ছে না বক্তাবলীবাসীকে। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ধলেশ্বরী নদীর দুই পাশে অবৈধ ইটভাটা এবং অবৈধ মাটিকাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ ও বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী বরাবর নোটিশ প্রদান করেন সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। এরপর জেলা প্রশাসনের মাসিক বৈঠকেও এই বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। কিন্তু কোনভাবেই থামানো যায়নি এই অঞ্চলের মাটিকাটা।


এদিকে গত (২৮ সেপ্টেম্বর) মাটি কাটার ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে বক্তাবলী  ইউনিয়নে এনসিপির সাংগঠনিক সভা শেষ করে বের হবার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে। এদিকে হামলার ঘটনায় গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া বারোটার দিকে এনসিপি’র যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন।


এ মামলায় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে: ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ (৪৫), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান (৫০), বক্তাবলী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের (৩০)সহ আরো অনেকের নাম উল্লে করে মামলা করা হয়।


এদিকে গত ৩০ (সেপ্টেম্বর) অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের কথিত ‘মাটি কাটা সিন্ডিকেটের’ বৈঠকে ডিবি পুলিশের হানার অভিযোগ উঠেছে। মাটি কাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই কথিত সিন্ডিকেট টিকিয়ে রাখতে ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক কাদির সিপাহীর বাড়িতে বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বলছে, তাদের অভিযানটি ছিল নিয়মিত অভিযানের অংশ কোনো রাজনৈতিক বৈঠককে কেন্দ্র করে অভিযান চালানো হয়নি।


প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই বৈঠকে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক সামেদ আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক হাসান আলী, বক্তাবলী ১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সহসভাপতি মান্নেক খান, যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মেসিসহ ১৪-১৫ জন উপস্থিত ছিলেন।


স্থানীয় সূত্রের আরও অভিযোগ, ওই বৈঠকে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান ফকির, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আকবর আলী সুমন, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সলিমউল্লাহ প্রধান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মীর আলমগীর হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ বাদশা মিয়া এবং বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মহসিন মিয়া, আমির হোসেন বেপারী ও মোহাম্মদ দিদার হোসেনসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা ছিল।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ডিবির সদস্যরা কাদির সিপাহীর বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে থাকা কয়েকজন সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন নারী ডিবির সদস্যদের সামনে অবস্থান নেন। সেই সুযোগে সামেদ আলীসহ কয়েকজন সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।


ঘটনাস্থলে যাওয়া ডিবির একাধিক সূত্রের ভাষ্য, সামেদ আলীসহ সেখানে থাকা কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে না পারায় তারা সরে যেতে সক্ষম হন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ভোরের আলো ফোঁটার সাথে সাথেই ধরেশ্বরী নদীর বক্তাবলী অংশে প্রায় দু’টি গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে মাটি উত্তোলন করে ট্রলারে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ট্রলার থেকে মাটি বিক্রি থেকে প্রায় তিন হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। দৈনিক গড়ে প্রায় ২০০ ট্রলার মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ছয় লাখ টাকা এবং মাসে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।


এদিকে, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে নদীর নাব্যতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে; যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া স্থানীয় বিএনপি নেতারা ইট ভাটাকে পুঁজি করেই অবৈধপ্রন্থায় নদী থেকে মাটি কেটে দিয়ে, অনুমোদন ছাড়াই ইট ভাটা চালাতে সহযোগীতাসহ নানাভাবে ক্ষমতার জোরে কামিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। এদিকে বিএনপির সঙ্গে যোগ দিয়ে মাঠে রয়েছে আওয়ামী লীগ। বর্তমানে দুই বড় দলের লোভে দিশেহারা বক্তাবলীবাসী।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন