গোপন তথ্য ফাঁস করলেন বিএনপি নেত্রী রোজিনা আক্তার
চব্বিশের পর আ.লীগ নেতাকর্মীদের শেল্টার দিয়েছে বিএনপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
চব্বিশের পর আ.লীগ নেতাকর্মীদের শেল্টার দিয়েছে বিএনপি
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ফতুল্লায় আওয়ামী লীগ নেতাদের আস্ফালণ লক্ষ্য করা গেছে পরবর্তীতে। সরকার পতন হলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের এলাকায় অবস্থান নেওয়ার পেছনে বিএনপি নেতাদের শেল্টার দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই গোপন রহস্য ফাঁস করে দিয়েছেন বিএনপি নেত্রী জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি রোজিনা আক্তার। বিএনপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে রোজিনা জানান, ‘৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। কারণ আমরা বিগত ১৭ বছর যেভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তারাও যেন সেভাবে নির্যাতনের শিকার না হন। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই আপনারা পাগল হয়ে গেছেন, পাড়া মহল্লায় অরাজকতা শুরু করেছেন, এখন আর আপনাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবেনা।’ আওয়ামী লীগের নেতাদের যে বিএনপি নেতারা শেল্টার দিয়েছেন তা স্পষ্টত ফুটে উঠেছে এই বিএনপি নেত্রীর বক্তব্যে। বিএনপির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা লালিতপালিত হওয়ার কারণে এখন প্রশাসনকে নানা অরাজকতা মোকাবেলা করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে জানা গেছে, সর্বদাই থাকতেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা-এমপি ও তাদের স্ত্রীদের সঙ্গী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন রোজিনা আক্তার। সেই সুবিধায় তাদের সহযোগীতায় বিগত দিনে রাতের ভোটে হয়েছিলেন এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী মেম্বার। একই সাথে বিগত দিনে বিসিক-মাসদাইর এলাকায় বিশাল আধিপত্য বিস্তারে ছিলেন এই রোজিনা আক্তার। সরকার পরিবর্তনের পর এখন জাতীয়তাবাদী মহিলা দল নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি পদের বড়াই দেখিয়ে ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। একই সাথে বিগত দিনে মাসদাইর ও বিসিকের ব্যবসায়ীদের উপর নির্যাতনের খড়ক বসানো আওয়ামী লীগের চিহ্নিত দোসরদেরই দিচ্ছেন দলের শেল্টার। এমনটাই নিজ মুখে স্বীকার করেছেন এই রোজিনা আক্তার। এদিকে বিগত দিনে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত জনপ্রতিনিধি ও প্যানেল চেয়ারম্যানদের সাথে তাকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেছে। তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমানের স্ত্রী লিপি ওসমানের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় এই রোজিনা আক্তারকে দেখা যেত। সে সময় নানা ব্যবসায় দেখা যেত তাকে। গত ৫ আগষ্টের পর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে একত্মতা প্রকাশ করে গার্মেন্টসের ঝুট সেক্টর ফের নিয়ন্ত্রণে তিনি রোজিনা। তার ছেলে রাজুও মায়ের শেল্টারে ঝুট ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পরেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর অবস্থান নিয়ে যে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল, তার নতুন সত্যতা মিলল। এতদিন এই বিষয়ে নানামুখী সমালোচনা চললেও এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিরাপদ অবস্থানের অভিযোগ বিএনপি নেতারা অস্বীকার করে আসলেও, অবশেষে প্রকাশ্যেই তা স্বীকার করে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি রোজিনা আক্তার। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই তথ্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। সমাবেশে রোজিনা আক্তার বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। কারণ, আমরা বিগত ১৭ বছর যেভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তারাও যেন সেভাবে নির্যাতনের শিকার না হন। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই আপনারা পাগল হয়ে গেছেন, পাড়া-মহল্লায় অরাজকতা শুরু করেছেন। এখন আর আপনাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। রোজিনা আক্তারের এই অনভিপ্রেত ও বিস্ফোরক মন্তব্যের পর ফতুল্লার রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কথিত যোগাযোগ, সমঝোতা ও বৈঠক নিয়ে বাজারে যে গুঞ্জন ছিল, তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক এড. বারী ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এস এম মাহমুদুল হক আলমগীর, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাদুল্লাহসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পোগ্রামে এমন বক্তব্যে রাখলেও সরাসরি তাকে নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি সিনিয়র নেতারা। এর আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এক ঝুট সন্ত্রাসের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতার একটি গোপন বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, যাতে রোজিনা আক্তারকেও দেখা যায়। সে সময় ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে রকমতকে আত্মগোপনে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও রোজিনা আক্তার তা অস্বীকার করেছিলেন। তা ছাড়া অভিযোগ উঠছে, এই রোজিনা মেম্বার ৫ আগষ্টের পর বিগত দিনের মতোই প্রকাশ্যে মাসদাইর-বিসিক এলাকায় গার্মেন্টসের ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীরসহ ছাত্রলীগের দুর্ধর্ষ রিয়াদের পরিবার প্রধান বাড়ির লোকজনদের নিয়ে। বর্তমানে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ঝুট সেক্টর থেকে ইনকাম করছেন এই রোজিনা মেম্বার। তা ছাড়া ভূমিদস্যূতায়-টেন্ডারবাজিতে ও নাম রয়েছে এই রোজিনার। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ যুগের চিন্তাকে বলেন, রোজিনা মেম্বার আওয়ামী লীগকে নিয়ে কি বলতে চেয়েছিল এটা আমি বলতে পারছি না। কিন্তু আমার ধারনা তিনি আওয়ামী লীগকে ঘিরে যে বক্তব্যে দিয়েছেন তা সে বুঝাতে পারেনি। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু যুগের চিন্তাকে বলেন, মহিলা দল নেত্রী রোজিনা মেম্বার আওয়ামী লীগ নেতাদের ৫ আগষ্টের পর এলাকায় থাকতে সহযোগীতা করেছেন। এমন বিষয়টি খতিয়ে দেখে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিব। তিনি বলেন, তার সাথে আওয়ামী লীগের কি সম্পর্ক এটা আমাদের অবগত নেই। কিন্তু তিনি যা বক্তব্যে বলেছেন তা বড়ই দু:খ জনক।


