নারায়ণগঞ্জ শহরের অলিগলি পাড়া-মহল্লাসহ ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ সদর এলাকার ব্যস্ত সড়কের পাশেই গ্যারেজগুলোতে রাত ও দিনের আলোতে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং। বাসার নিচতলা, গ্যারেজ কিংবা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে টেনে নেয়া তারে চার্জ দেয়া হচ্ছে শত শত গাড়ির ব্যাটারি। বিশেষ ফতুল্লা প্রতিটি পাড়া মহল্লা এলাকায় গড়ে উ্ঠা গ্যারেজ অবৈধ ভাবে চার্জিং দেয়া হয়। সম্প্রতি ১৩ সেপ্টেম্বর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে এমপি এড. আবুল কালাম অটো গ্যারেজ গুলোর তালিকা চেয়েছেন। কেননা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকে সতের হাজার আটশত মত ব্যাটারি চালিত অটো রিকশার অনুমোদন থাকলেও শহরের ৫০ হাজারের বেশি অটো মিশুক চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে এই সকল অটো মিশুক গ্যারেজ গুলোতে অবৈধ ভাবে অটো চার্জ দেয়া হয়।
এদিকে ১৪ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ চুরি রোধ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জের অটোরিকশা গ্যারেজগুলোতে মধ্যরাতে এক বিশেষ ঝটিকা অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। গত সোমবার রাতে এনওসিএস শীতলক্ষ্যা দপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় এ চিরুনি অভিযান চালানো হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব তারিফ আল তাওহিদ এবং এনওসিএস শীতলক্ষ্যা ডিপিডিসি দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এইচ এম তারেক তুষার-এর যৌথ নেতৃত্বে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।
যানাযায়, অভিযানে ৩ অটো গ্যারেজকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রাতের আঁধারে অসাধু উপায়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা গ্যারেজগুলোতে গোপনে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। অভিযানকালে হাতেনাতে এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এর ধারা লঙ্ঘনের দায়ে দোষীদের বিরুদ্ধে স্পটেই জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযানের বিষয়ে এনওসিএস শীতলক্ষ্যা দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব এ এইচ এম তারেক তুষার বলেন, বিদ্যুৎ চোরদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের নৈশকালীন অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব তারিফ আল তাওহিদ জানান, রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও ডিপিডিসি একযোগে কাজ করছে। জনস্বার্থে এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ সামনে আরও জোরদার করা হবে।
তথ্যমতে, প্রতি গাড়ির জন্য অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগকারী গ্যারেজ কর্তৃপক্ষ ৩শ’ থেকে ৪শ’ করে ফি নেয়্ াহয় অটো মিশুক চালকদের থেকে। ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের আস্কারায় প্রকাশ্যেই চলছে চার্জিং ব্যবসা। তবে প্রশ্ন উঠছে, এসব চার্জিং পয়েন্টের অনুমোদন আছে কি না। সম্প্রীতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করতে মাঝে মধ্যেই অভিযান চালানো হয়। এই অভিযান অভ্যাহত রাখান দাবী সকল মানুষের।
ফতুল্লার কাশিপুরেই প্রায় ২শ’র বেশি অটো গ্যারেজ রয়েছে, এছাড়া নগরীর খানপুর, তল্লা, পাইকপাড়া, সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ভেতরে সরু গলির শেষ প্রান্তে টিনশেড ঘরে তৈরি করা হয়েছে অটোরিকশার গ্যারেজ। আবাসিক এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই দেয়া হচ্ছে এসব চার্জ। একটি-দুটি নয়, অসংখ্য গ্যারেজে চলছে এভাবে বিদ্যুৎ চুরি।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ ঠিক মত না থাকায় মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ নিয়ে সংসদেও আলোচনা হলেও মানুষ এর থেকে সস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে। আর এদিকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অটো গ্যারেজ গুলো বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান মানুষ।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) তথ্য বলছে, সারাদেশে অটোরিকশার সংখ্যা ৪০ লাখ। সিপিডি জানিয়েছে, দৈনিক মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ বা ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে ব্যবহার হয়। যার মধ্যে বেশির ভাগই অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় জেলা প্রশাসক রায়হান কবির অটোগ্যারেজে ২০ টির বেশি চার্জ দেয়ার নিয়ম নেই। যারা অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অটো গ্যারেজ গুলোতে চার্জ দেয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অভিযান চালোন হচ্ছে।