Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

টিপুর আস্তানায় শুভ হত্যার পরিকল্পনা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

টিপুর আস্তানায় শুভ  হত্যার পরিকল্পনা

টিপুর আস্তানায় শুভ হত্যার পরিকল্পনা

Swapno



নারায়ণগঞ্জের বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের (হোসিয়ারি সমিতি) অফিস কক্ষ বা কমিউনিটি সেন্টার অবৈধভাবে দখল করে 'আস্তানা' বা 'সন্ত্রাসীদের ডেরা' বানানোর অভিযোগ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে। তা ছাড়া এর পাশেই আমলাপাড়া এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সনি, মাদক ব্যবসায়ী ও শুভ হত্যার আসামী অনিক, রাহাত, বাহারকে তার বডিগার্ড বানিয়ে পাশে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে শুভ দাস ওরফে বিল্লাল হত্যার পর আসামী রাহাতের মোটরসাইকেল হোসিয়ারি সমিতির কক্ষে পেলেই তা নিয়ে একের পর এক রহস্য উদঘাটন হওয়া শুরু করে।


এরই ধারাবাহিকতায় এই হত্যা মামলার আসামি সাকিব সরকার দিমুন ওরফে ধিমন (২৩) গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদীর শিলমান্দী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন হোসিয়ারি সমিতির ভিতর থেকেই একট্টা হয়ে শুভ হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়।  গ্রেফতাকৃত আসামী ধিমন (ভিডিও) ভাষ্যতে বলেন , সেদিন অনিক, অহিদ, জয়, ইমন, বিশুসহ আরো অনেকেই হোসিয়ারি সমিতির ভিতরে ছিলেন। তখনই শুভ এলাকায় ডুকছে শুনলে তারা সেখান থেকে শুভকে হত্যার উদ্দেশ্য বেড় হন। তা ছাড়া শুভকে হত্যার পরিকল্পনা পুরোই হোসিয়ারী সমিতির ভিতরেই হয়।  পরবর্তীতে আমলাপাড়া দিয়ে বেড়িয়ে হকার্স মার্কেট দুর্গা মহলের দিকে যাওয়া হয়।


এদিকে আসামী থেকে ডিবির নেওয়া ভাষ্যতে প্রথম নাম অনিক ও অহিদ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপুর শেল্টারেই এলাকায় বেপরোয়া ছিলেন। কথায় কথায় নানা অপকর্ম করতেন। সবই ধামাচাপা দিতেন খোদ টিপু নিজেই। তা ছাড়া মাদক ব্যবসা নিয়ে কিছুদিন পূর্বে অনিক ও বাহারের উত্তেজনা মারামারি দেখা দিলে ও তার মিমংসায় ছিলেন এই বিএনপি নেতা টিপু। তা ছাড়া টিপুর হুন্ডাবাহিনী হিসেবে পরিচিত এই বাহার, রাহাত, অনিকের নেতৃত্বেই।


এর আগে শুভকে হত্যার সময় অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও হোসিয়ারি সমিতির এ কমিউনিটি সেন্টারের প্রাঙ্গণ থেকে জব্দ করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। হত্যাকণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটিও অদূরে রামকৃষ্ণ মিশনের সামনে সড়কের এক কোনা থেকে উদ্ধার করা হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত একটার দিকে চাষাঢ়ায় হকার্স মার্কেটের পেছনের গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয় শুভ চন্দ্র দাসকে। এ হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা হরি চন্দ্র দাস সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা হোসিয়রি সমিতির ওই কমিউনিটি সেন্টারে নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে উঠে আসে।


মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম বলেন, অপর আসামি সুমনকে ৫ দিনের রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। আসামিদের তথ্য ও ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ধীমনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধিমনকে জিজ্ঞাসাবাদে সে শুভকে হত্যার পরিকল্পনা হোসিয়ারি সমিতির কমিউনিটি সেন্টারে করা হয় বলে ডিবির কাছে তথ্য দেয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে কীভাবে জড়িত সেই তথ্যও জানায়।


স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আমলাপাড়া এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফাতেমা বেগম ওরফে ফতে পরিবার পুরো এলাকা জুড়ে কোটি কোটি টাকার মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করেন। তা ছাড়া ফতে‘র ছেলে অনিক এবং আত্মীয় বাহার ও রাহাত প্রকাশ্যে মাদকের স্পট পরিচালনা করেন। বিগত দিনে ছাত্রলীগ নেতা কোরবানের শেল্টারে আমলাপাড়া এলাকায় বিশাল আধিপত্য বিস্তারে ছিলেন এই অনিক ও বাহার বাহিনী। পরবর্তীতে গত ৫ আগষ্টের পর পুরো শেল্টার নেন বিএনপি নেতা টিপুর স্থানীয়রা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


তা ছাড়া এই মাদক ব্যবসায়ী অনিকের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে প্রকাশ্যে মিশনপাড়া থেকে গুলি করার বিষয়টি উঠে আসলে ও প্রভাবশালী টিপুর শেল্টারে নিজেকে ১৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা বলে দাবি করতেন। ইতিমধ্যে শুভ দাস হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ড হিসেবে পরিচিত অনিক যিনি পরিচিত বিএনপি নেতা টিপুর প্রধান হাতিয়ার হিসেবে। এরই মধ্যে ডিবি তার বাড়িতে হানা দিলেও ধরতে পারেনি অনিককে। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কোনমতে পালিয়ে যান।


কিন্তু এ অনিকের বিরুদ্ধে রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টার গ্রহণের অভিযোগ। গত দুই বছরে মহানগর বিএনপির একাধিক সভা সমাবেশ ও কর্মসূচীতে দেখা গেছে অনিককে। হোসিয়ারী সমিতি মিলনায়তনে এ অনিকের উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বিএনপির বিভিন্ন শ্রেণির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সঙ্গেও অনিকের একাধিক ছবি দেখা গেছে। নির্বাচনে বিএনপির প্রচারণার পাশাপাশি ব্যক্তিদের পাশেও দেখা গেছে অনিক ও বাহারকে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন