স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অনেক আলাপ-আলোচনার পর স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে শুরু করার কথা জানিয়েছেন ইসি। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জে যারা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করে সিটি, জেলা পরিষদ,উপজেলা পরিষদে নির্বাচন করতে যাচ্ছে তারা পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে বিগত সময়ে ইউনিয়ন পরিষদে যারা চেয়ারম্যান হয়েছেন তারা বেশির ভাগই ওসমান পরিবারের মুরিদ ছিলেন। কেননা ওসমানদের দরবারে মুরিদ না হলে তাদের নানা বাধা বিপত্তি পোহাতে হতে হত।
এদিকে স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে নৌকার যারা চেয়ারম্যান রয়েছেন তারা সহ ওসমানীয় দরবারে মুরিদ হয়ে চেয়ারম্যান বনে যাওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের চেয়ারম্যানি ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন জনকে ম্যানেজ করতে ব্যস্ত হয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে কেউ কেউ বিএনপি নেতা থেকে শুরু করে এমপিদের ম্যানেজে দৌরঝাপ করছেন। কেননা এখনতো আর তাদের দরবারের পীররা নেই। মুরিদদের রেখে পীররা পালিয়ে গেছে। আওয়ামী শাসনামলে নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের পলাতক সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও তার পরিবারের লোকজন ওসমানীয় সম্রাজ্য গড়ে তোলেন। বিশেষ সদর বন্দর সোনারগাঁয়ে যারা জনপ্রতিনিদি হতে চাইতেন তারা সকলেই তাদের সম্রাজ্যের দরবারে মুরিদ হয়ে তার পরে নির্বাচনে নামতেন। অন্যথায় নিব্র্চান করতে পারতেন না।
তারা মাঝে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নে নৌকা মার্কার মনোনীত চেয়ারম্যান জাকির হোসেন শামীম ওসমানের দরবারে মুরিদ হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন। তখন তিনি শামীম ওসমানকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে তার আশীর্বাদে চেয়ারম্যান হন তিনি। এছাড়া বন্দর উপজেলা কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন এই ওসমান পরিবারের আশীর্বাদে চেয়ারম্যান বনে গেছেন। সেই সাথে বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন শামীম ওসমান সেলিম ওসমান দুজনকে ম্যানেজ করে ডামি ভোটে চেয়ারম্যান বনে যান।
মুছাপুর ইউনিয়নে মাকসুদের ছেলে শুভ এবং মাকসুদ বন্দর উপজেলায় চেয়ারম্যান হন ওসমানদের আশীর্বাদ নিয়ে। তাদের প্রত্যেকেই ওসমান পরিবারের শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান, আজমেরী ওসমানকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে দিয়ে চেয়ারম্যান হন। তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় সহজে জয় পেয়ে যান। যদিও অভিযোগ রয়েছে ওসমানীয় সম্রাজ্য তাদের নির্বাচিত করার জন্য পেশি শক্তি কায়েম করেছে বিগত সময়ে। কিন্তু এই জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের চেয়ারম্যানি ধরে রাখতে নিজ এলাকার এমপি থেকে শুরু জেলা মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করে আবারো চেয়ারম্যানি ধরে রাখতে চান। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদেরকে মেনে নিতে নারাজ।
আলীরটেকের নৌকার চেয়ারম্যান জাকির হোসেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে নিয়ে এলাকায় শোডাউন দিয়েছেন। এতে করে তিনি বুঝিয়েছেন বর্তমান সরকার দলীয় নেতাদের তিনি ম্যানেজ করেছেন টাকার বিনিময়ে। তাছাড়া নৌকার চেয়ারম্যান হয়েও সম্প্রতি এলাকায় গিয়ে বলেন তিনি নৌকার চেয়ারম্যান না জনগণের নেতা। তাই তাকে সমালোচনা হচ্ছে স্লোম পাল্টিয়ে বিএনপি সাজতে মরিয়া হয়ে রয়েছেন। এছাড়া বন্দরের ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা নিজ এলাকার এমপিকে ম্যানেজ করে আবারো চেয়ারম্যানি ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৭ মে পর্যন্ত ধাপে ধাপে চলবে ইউপি ভোট। মোট ৪ হাজার ২৭২টি নির্বাচন উপযোগী ইউপিতে সাত ধাপে ভোট গ্রহণ হবে। এরপর শুরু হতে পারে পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। তবে ইউপি নির্বাচন শুরুর আগে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক, আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা নিরাপত্তা রক্ষায় সমন্বিত বৈঠক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে ইসি।