Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ওসমান পরিবার ঘনিষ্ঠ চন্দন অরিজিৎ শীল ছিলেন দাম্ভিক

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

ওসমান পরিবার ঘনিষ্ঠ চন্দন অরিজিৎ শীল ছিলেন দাম্ভিক

ওসমান পরিবার ঘনিষ্ঠ চন্দন অরিজিৎ শীল ছিলেন দাম্ভিক

Swapno



নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিজেকে একজন সাদা সিধে সজ্জন সুশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে এক নাটকীয় কর্মযোগ্য চালিয়েছিলেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন গডফাদার শামীম ওসমানের আস্থাভাজন এবং শামীম ওসমানের সকল অপকর্মকে গালাবাজি করে সাপোর্ট করে বৈধতা দিতেন। এছাড়া চন্দন শীল গানে পারদর্শী ছিলে গানের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গিতে গান গেয়ে কুখ্যাত শামীম ওসমানের গুনকীর্তন করতেন।


অপরদিকে তার পুত্র অরিজিৎ শীল ছিলেন গডফাদার শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের ক্রাইম পার্টনার। অয়ন ওসমানের নেতৃত্বে আঁড়ালে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীদের লালন পালন করতেন। এছাড়া পিতা চন্দন শীল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর পুত্র অরিজিৎ শীল জেলা পরিষদকে লুটেপুটে খাওয়ার পায়তারা করেছিলেন। কিন্তু এরমধ্যেই আওয়ামীলীগের পতন ঘটে জেলা পরিষদের সিটও হাড়িয়ে ফেলেন। এছাড়া আওয়ামীলীগের পতন ঘটলেও নারায়ণগঞ্জ শহরেই ঘাপটি মেরে বসে আছেন চন্দন শীল এবং অরিজিৎ শীলরা। শামীম ওসমান এবং অয়ন ওসমানের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার উপর হামলার নেপথ্যে কাজ করেছিলেন চন্দন শীল এবং প্রকাশ্যে ছিলেন পুত্র অরিজিৎ শীল।    


সূত্র বলছে,নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমানের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নিজের পা হাড়িয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে শামীম ওসমানের পিছু না হাঁটায় বিশ্বস্ত হাতিয়ার হয়ে উঠেন চন্দন শীল। শামীম ওসমান চন্দন শীলকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত করেছিলেন। সেই সাথে ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি করেন। দায়িত্বে থাকাকালীন প্রথম সভাতেই তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে।


কমিটির নির্বাচিত ৫ জন সদস্য যৌথভাবে তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, চন্দন শীল সভাপতি হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেশ কিছু অনৈতিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।একই বছরের দলীয় প্রভাব এবং ওসমান পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে ২০২২ সালের জেলা পরিষদ নির্বাচনে অন্য কোনো প্রার্থীকে দাঁড়াতে না দিয়ে শামীম ওসমানের সহযোগীতায় হয়ে যান নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। যেটা জেলা আওয়ামীলীগের নেতাদের মনক্ষুন্ন হলেও শামীম ওসমানের প্রভাবের ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি।


এদিকে জেলা পরিষদে বসেই নিজের ইচ্ছেমত লুটপাট করতে জেলা পরিষদে সকল কিছুতে নিজের পছন্দ ব্যক্তিদের প্রধান্য দিতেন। এছাড়া জেলা পরিষদের সকল টেন্ডার থেকে শুরু করে সার্বিক কার্যক্রমে পুত্র অরিজিৎ শীলকে একছত্র নিয়ন্ত্রণ দেন। যার কারণে স্বল্প সময়ে গডফাদার শামীম ওসমানের প্রেসক্রিপশনে জেলা পরিষদের লুটপাট চালান। রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের গুনগানে সবসময়ে মগ্ন থাকতেন চন্দন শীল এবং ওসমান বিরোধীদের তুলোধনা করাও ছিল তার ছিল ওসমানদের পক্ষে চাটুকারিতার অন্যতম স্বভাব।


এছাড়া গান গেয়েও ওসমানদের মাতিয়ে রাখতেন এবং তাদের গুনকীর্তন করতেন। অপরদিকে চন্দন শীল পুত্র অরিজিৎ শীল ছিলেন শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের খালিফাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া পুত্র অরিজিৎ শীল পিতা চন্দন শীলের মত শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানকে রিপ্রেজেন্ট করতেন। এমনকি অয়ন ওসমানের বহু অপকর্মের ক্রাইম পার্টনার ছিলেন।


যার কারণে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত দমন-পীড়ন ও সহিংসতার ঘটনায় দায়েরকৃত একাধিক মামলায় চন্দল শীল আসামি করা হয়। অপরদিকে চন্দল শীল এবং পুত্র অরিজিৎ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অত্যান্ত গোপনীয়তার সাথে আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি চন্দন শীলের বাসভবনে ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ও চন্দন শীল পরিবারের যাতায়াত ছিল। তবে প্রশাসন এখনো চন্দন শীল পরিবারের কাউকে গ্রেফতারের আওতায় এখনো আনতে পারেননি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন