Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

মাদকব্যবসায়ী অনিক-রাহাদ ছিলেন টিপুর বডিগার্ড

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

মাদকব্যবসায়ী অনিক-রাহাদ ছিলেন টিপুর বডিগার্ড

মাদকব্যবসায়ী অনিক-রাহাদ ছিলেন টিপুর বডিগার্ড

Swapno



শহরের অবৈধ সেক্টর নিয়ন্ত্রণে রাখতে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের নিজের বডিগার্ড বানিয়ে পাশে বসাতেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু। এদিকে হোসিয়ারী সমিতির কমিউনিটি সেন্টারের একটি কক্ষকে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে দখল করে রেখে সেখানে বিচার-সালিশ, দেন দরবার করেন এই টিপু। তার এই সকল অপকর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিশাল বাহিনী নিয়ে পাহাড়া দিয়ে থাকেন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী অনিক, রাহাদ, বাহার, সনি।


আর সেই সুবিধায় টিপুর আশ্রয়ে আমলাপাড়াকে মাদকের ‘সেইফ জোনে’ পরিনত করেছেন এই মাদক ব্যবসায়ীরা। তা ছাড়া এই মাদক ব্যবসায়ী বাহিনীর মাধ্যমে হোসিয়ারী সমিতির কমিউনিটি সেন্টারকে টর্চাল সেলে রূপান্তরিত করেছেন এই টিপু। এদিকে টিপু ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে থাকেন প্রশাসন নিয়েই। তাহলে তার বাড়ির থেকে কিছু গজ দূরে তা ছাড়া হোসিয়ারী সমিতির কমিউনিটি নামে টিপুর আস্থানার সামনেই মাদকের ছড়াছড়ি তা নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই কেন টিপুর উঠছে প্রশ্ন।


এদিকে সূত্র জানিয়েছেন, তার মাদক ব্যবসায়ী বাহিনীর সদস্যরা শহরের যে যে স্থানে মাদক ব্যবসায় দুর্বল সেই এলাকায় তাদের অবস্থান গড়তে বিপক্ষের মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চালাতেন অভিযান। এদিকে টিপুর প্রভাবেই আমলাপাড়ায় মাদক বিরোধী অভিযানে ও দেখা যায়নি প্রশাসনকে। তা ছাড়া টিপুর আস্থানা হোসিয়ারীতে বিএনপি নেতাদের মিলন মেলা সর্বদা থাকায় প্রশাসন ভিরে না সেদিকে যাকে ঘিরে সেই সাইডকেই মাদক ব্যবসায়ীরা ‘সেইফ জোন’ হিসেবে ব্যবহার করে কামিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। তা ছাড়া বিলাসী জীবন পাড় করছেন।


তা ছাড়া মহানগর বিএনপিকে টিপুর সার্পোট হিসেবে ছিল এই মাদক ব্যবসায়ীদের বহর। তা ছাড়া তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা গেছে এই মাদক ব্যবসায়ীদের। তার ছাড়া সর্বদা টিপুর পাশে কখনো আদালত চত্ত্বর কিংবা কখনো চাষাড়া তারা টিপুর গাড়ির পিছনে এই মাদক ব্যবসায়ীদের ছুটতে দেখা গেছে। এমন নানা ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল প্রায়। যাকে ঘিরে অভিযোগ উঠছে টিপুর মদদেই সাহস পেয়ে শহরের মূল পয়েন্টে শুভ চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন এই মাদক বাহিনী।


স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফাতেমা বেগম ওরফে ফতে পরিবার পুরো এলাকা জুড়ে কোটি কোটি টাকার মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করেন। যেখানে ফতে এর ছেলে অনিক এবং আত্মীয় বাহার ও রাহাদ প্রকাশ্যে মাদকের স্পট পরিচালনা করেন। বিগত দিনে ছাত্রলীগ নেতা কোরবানের শেল্টারে আমলাপাড়া এলাকায় বিশাল আধিপত্য বিস্তারে ছিলেন এই অনিক ও বাহার। গত ৫ আগষ্টের পর পুরো শেল্টার নেন বিএনপি নেতা টিপুর স্থানীয়রা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


তা ছাড়া এই অনিকের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে প্রকাশ্যে মিশনপাড়া থেকে গুলি করার বিষয়টি উঠে আসলে ও প্রভাবশালী টিপুর শেল্টারে নিজেকে ১৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা বলে দাবি করতেন। ইতিমধ্যে শুভ দাস হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ড হিসেবে পরিচিত অনিক যিনি পরিচিত বিএনপি নেতা টিপুর প্রধান হাতিয়ার হিসেবে। এরই মধ্যে ডিবি তার বাড়িতে হানা দিলেও ধরতে পারেনি অনিককে। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কোনমতে পালিয়ে যান।


কিন্তু এ অনিকের বিরুদ্ধে রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টার গ্রহণের অভিযোগ। গত দুই বছরে মহানগর বিএনপির একাধিক সভা সমাবেশ ও কর্মসূচীতে দেখা গেছে অনিককে। হোসিয়ারী সমিতি মিলনায়তনে এ অনিকের উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বিএনপির বিভিন্ন শ্রেণির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সঙ্গেও অনিকের একাধিক ছবি দেখা গেছে। নির্বাচনে বিএনপির প্রচারণার পাশাপাশি ব্যক্তিদের পাশেও দেখা গেছে অনিক ও বাহারকে।


অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন চায়ের দোকানগুলোতে ও মাদক ব্যবসায়ীরা গাপটি মেরে বসে মাদক ব্যবসা চালান। এদিকে ফতের ছেলে অনিক রামকৃষ্ণ মিশনের পিছনে মাদকের আলাদা স্পট তৈরি করেছিলেন। তা ছাড়া সারাদিন মাদক ব্যবসা চালিয়ে অনিক দিন শেষে আশ্রয় নিতেন কিল্লারপুলের বিবি মরিয়ম স্কুলের পাশের ৭ তলা ভবনটিতে। তা ছাড়া মাদক সম্রাট অনিককে একাধিক সময় নানা পোগ্রামসহ নানা কর্মকাণ্ডে টিপুর আশপাশেই বেশি দেখা যেত।


একই সাথে মাদক ব্যবসায়ী বাহার ও রাহাদ দুই ভাইকে ও হোসিয়ারী সমিতিতে টিপুর আশপাশে দেখা যেত। তা ছাড়া টিপু ও হিরা সরদারে শেল্টারে বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী মানিক ও সনি একই এলাকায় একই গ্রুপ হয়ে আলাদা মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করেন। তা ছাড়া সনির আন্ডারে মিশনপাড়া এলাকায় ফুটপাতের সকল চায়ের দোকান নিয়ন্ত্রণ হয়। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় এক ধরণের অভয়ারণ্য তৈরি করেছে, যার ফলে এলাকায় বিশাল মাদক সিন্ডিকেট, চুরি, ছিনতাই এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার নিয়ন্ত্রণে দায়ি টিপু দাবি স্থানীয়দের।


এদিকে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় হকার্স মার্কেটের পেছনে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা করা হয় শুভ দাসকে। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর ভোর বেলা হকার্স মার্কেটের পেছনে অবস্থিত দূর্গা মহলের সামনে থেকে শুভর লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো আমলাপাড়া এরাকার কালু মিয়ার ছেলে সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও মৃত সমর্চান সরদারের ছেলে মো. সোহান (২৪)। তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।


গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, অনিক ও সুমন মিলে শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। পরবর্তীতে অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল শুভকে হত্যাকা-ে অংশ নেয়। এ সময় অনিক ও অহিদ শুভকে গুলি করে এবং অন্যান্য সহযোগিরা চাকু দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। শুভ দাসকে হত্যাকারী মূল মাস্টার মাইন্ড অনিক ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে অনিকের সাথে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সাথে অনিকের ও রাহাদের ঘনিষ্ট ছবি বেরিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার শেল্টারে অনিক আমলাপাড়া সহ আশে পাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছিলো। তা ছাড়া টিপুর ক্ষমতায় হোসিয়ারী সমিতিকে মোটর সাইকেল রেখেছিলেন এই মাদক ব্যবসায়ী রাহাদ।


এদিকে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উক্ত অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের দেখিয়ে দেওয়া স্থান মোতাবেক রামকৃষ্ণ মিশনের দেয়াল ঘেষা গাছের ঝোপ থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। আর হত্যাকান্ডের সময় ব্যবহৃত মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের ভেতরের কক্ষ থেকে। অভিযানের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায় গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে গ্রেপ্তারকৃত আসামি সুমন ওরফে মাইগা সুমন হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের ভেতরে পার্ক করে রাখা একটি মটরসাইকেল দেখিয়ে দেয় এবং সেই মটরসাইকেলটি রাহাতের বলে জানায়।


এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের নিরাপত্তা প্রহরী ও কেয়ারটেকারদের ডেকে জিজ্ঞেস করলে তারাও জানান মটরসাইকেলটি রাহাতের। কবে থেকে এখানে মটরসাইকেলটি রাখা রয়েছে তারা সেটি সঠিক বলতে পারেনি। এক কথায় বলা চলে হোসিয়ারী সমিতির কমিউনিটি সেন্টার টিপুর টর্চাল সেল।


সেই হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের মালিকানাধীন হোসিয়ারী কমিউনিটি সেন্টারের একটি অফিস কক্ষ দখল করে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও জমা দেয় হোসিয়ারী সমিতির ব্যবসায়ী নেতারা। যাকে ঘিরে বর্তমানে নানা অভিযোগে টিপু গাঁ ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে লাপাত্তা টিপুর মাদক ব্যবসায়ি বডিগার্ডরা।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন