বিএনপির টিপু-হিরা সরদারের আশ্রয়ে মাদকের ‘সেইফ জোন’ আমলাপাড়া
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
বিএনপির টিপু-হিরা সরদারের আশ্রয়ে মাদকের ‘সেইফ জোন’ আমলাপাড়া
রাজনৈতিক ও পারিবারিক দুই আশ্রয় প্রশ্রয়ে শহরের আমলাপাড়া মাদকের ‘সেইফ জোনে’ পরিনত হয়েছে। তা ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক একটি ডিবি অভিযান এবং চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটে শুভ চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একই এলাকার কয়েকজনের নাম সামনে আসায় আবারও আলোচনায় এসেছে আমলাপাড়ার মাদকের নেটওয়ার্ক।
সূত্র জানিয়েছে, আমলাপাড়া, উকিলপাড়া, মিশনপাড়া এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তারে নিজের হাত শক্ত করতে তা ছাড়া হোসীয়ারী সমিতিতে পাহাড়া দিতে আমলাপাড়ার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ উঠছে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে। একই সাথে টিপুর কর্মী ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিরা সরদারও এলাকার আধিপত্য বিস্তারে মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিক শেল্টার দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা। তা ছাড়া টিপুর আস্থানা হিসেবে পরিচিত মিশনপাড়া হোসীয়ারী সমিতির কমিউনিটি সেন্টারের একটি কক্ষ থেকে চাষাড়া হর্কাস মার্কেট এলাকায় শুভ দাস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত রাহাদ-বাহারের মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে ডিবি। তার পর থেইে হোসিয়ারী সমিতির কমিউনিটি জুড়ে থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। একই সাথে টিপুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের মালিকানাধীন হোসিয়ারী কমিউনিটি সেন্টারের একটি অফিস কক্ষ দখল করে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগও জমা দেয় হোসিয়ারী সমিতির নেতারা। ইতিমধ্যে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানে আমলাপাড়া মাদক ব্যবসা বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
তা ছাড়া এই অনিকের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে প্রকাশ্যে মিশনপাড়া থেকে গুলি করার বিষয়টি উঠে আসলে ও প্রভাবশালী টিপুর শেল্টারে নিজেকে ১৩ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা বলে দাবি করতেন। ইতিমধ্যে শুভ দাস হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ড হিসেবে পরিচিত অনিক যিনি পরিচিত বিএনপি নেতা টিপুর প্রধান হাতিয়ার হিসেবে। এরই মধ্যে ডিবি তার বাড়িতে হানা দিলেও ধরতে পারেনি অনিককে। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কোনমতে পালিয়ে যান। কিন্তু এ অনিকের বিরুদ্ধে রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টার গ্রহণের অভিযোগ।
গত দুই বছরে মহানগর বিএনপির একাধিক সভা সমাবেশ ও কর্মসূচীতে দেখা গেছে অনিককে। হোসিয়ারী সমিতি মিলনায়তনে এ অনিকের উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বিএনপির বিভিন্ন শ্রেণির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সঙ্গেও অনিকের একাধিক ছবি দেখা গেছে। নির্বাচনে বিএনপির প্রচারণার পাশাপাশি ব্যক্তিদের পাশেও দেখা গেছে অনিক ও বাহারকে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন চায়ের দোকানগুলোতে ও মাদক ব্যবসায়ীরা গাপটি মেরে বসে মাদক ব্যবসা চালান। এদিকে ফতের ছেলে অনিক রামকৃষ্ণ মিশনের পিছনে মাদকের আলাদা স্পট তৈরি করেছিলেন। তা ছাড়া সারাদিন মাদক ব্যবসা চালিয়ে অনিক দিন শেষে আশ্রয় নিতেন কিল্লারপুলের ৭ তলা বাড়িতে। তা ছাড়া মাদক সম্রাট অনিককে একাধিক সময় নানা পোগ্রামসহ নানা কর্মকাণ্ডে টিপুর আশপাশেই বেশি দেখা যেত।
এদিকে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় হকার্স মার্কেটের পেছনে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা করা হয় শুভ দাসকে। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর ভোর বেলা হকার্স মার্কেটের পেছনে অবস্থিত দূর্গা মহলের সামনে থেকে শুভর লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো আমলাপাড়া এরাকার কালু মিয়ার ছেলে সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও মৃত সমর্চান সরদারের ছেলে মো. সোহান (২৪)। তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, অনিক ও সুমন মিলে শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। পরবর্তীতে অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল শুভকে হত্যাকা-ে অংশ নেয়। এ সময় অনিক ও অহিদ শুভকে গুলি করে এবং অন্যান্য সহযোগিরা চাকু দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। শুভ দাসকে হত্যাকারী মূল মাস্টার মাইন্ড অনিক ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে অনিকের সাথে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সাথে অনিকের ঘনিষ্ট ছবি বেরিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার শেল্টারে অনিক আমলাপাড়া সহ আশে পাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছিলো।
ওই ভিডিওতে দেখা যায় গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে গ্রেপ্তারকৃত আসামি সুমন ওরফে মাইগা সুমন হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের ভেতরে পার্ক করে রাখা একটি মটরসাইকেল দেখিয়ে দেয় এবং সেই মটরসাইকেলটি রাহাতের বলে জানায়। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের নিরাপত্তা প্রহরী ও কেয়ারটেকারদের ডেকে জিজ্ঞেস করলে তারাও জানান মটরসাইকেলটি রাহাতের। কবে থেকে এখানে মটরসাইকেলটি রাখা রয়েছে তারা সেটি সঠিক বলতে পারেনি। এক কথায় বলা চলে হোসিয়ারী সমিতির কমিউনিটি সেন্টার টিপুর টর্চাল সেল।


