রাঘব বোয়ালদের পরোক্ষ শেল্টারে মাদকের অভয়ারণ্যতে পরিণত হয়েছে শহরের আমলাপাড়া। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। নিয়মিতই মাদকের বিরোধে এলাকা জুড়েই ব্যাপক বিশৃঙ্খলা বিরাজমান। এদিকে এলাকায় প্রভাবশালী পঞ্চায়েত কমিটি থাকলেও "সর্ষের মধ্যে ভূত" থাকায় কমিটি নিজেদের অচল বা দুর্বল হিসেবে প্রমাণ দিচ্ছেন।
যাকে ঘিরে মাদকের ছোঁবল থেকে আমলাপাড়াবাসীকে রক্ষা করতে ব্যর্থ আমলাপাড়ার পঞ্চায়েত কমিটি। তবে সাম্প্রতিক মাদকের বিরোধে সেই এলাকার আরেক মাদক ব্যবসায়ী শুভ চন্দ্র দাস হত্যাকান্ড নিয়ে ফের সমালোচনা শুরু হয়েছে আমলাপাড়ার মাদকের নেটওয়ার্ক ঘিরে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আমলাপাড়া এলাকায় হর্তা-কর্তা হিসেবে পরিচিত সরদার পরিবার। যাকে ঘিরে এলাকা নিয়ন্ত্রণে গঠিত হয়েছে পঞ্চায়েত কমিটি যেখানে সভাপতি নুরুল ইসলাম সরদার ও সাধারণ সম্পাদক হানিফ সরদার। তারা দুইজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে পরিবারিকভাবে জড়িত। সেই ক্ষেত্রে বিভিন্ন মিছিল-মিটিং করতে দেখা যায় এই পঞ্চায়েতের নেতাদের। সেই হিসেবে তাদের বিভিন্ন মিছিল মিটিং মিছিলে কিংবা পারিবারিক নানা পোগ্রামে, জন্মদিনে এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফতের ছেলে অনিক, রাহাদ, বাহারকে দেখা গেছে।
একই সাথে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত থাকায় তাদের লোক হিসেবে মাদক ব্যবসায়ী সনি তা ছাড়া হর্কাস মার্কেট এলাকার মাদকের ডিলার মানিক নানাভাবে ব্যানার ফেস্টুনে নিজেকে নুরুল ইসলাম সরদারের লোক হিসেবে জাহির করেছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে "সর্ষের মধ্যে ভূত" নাকি কোন অদৃশ্য শক্তির ছয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের দেখেন না এই প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আমলাপাড়ার হর্কাস মার্কেটের সামনে দূর্গা মহল হিসেবে পরিচিত জজ এর বাড়ি রয়েছে। যার মাঠে মাদকের একটি বিশাল স্পট পরিচালনা হয়। তা ছাড়া এই আমলাপাড়ায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আমলাপাড়া প্রাইমারী স্কুল, আইন কলেজ, অফিসার্স ক্লাব, লেডিস ক্লাব এমন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এই এলাকায় থাকলে ও এর কয়েকগজ দূরে বসেই মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট চলমান রয়েছে।
এদিকে আমলাপাড়া পঞ্চায়েত কমিটির বড় বড় ৩টি গেইট থাকলে ও তা ব্যবহার করেই মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট তাদের কার্যক্রম অব্যহৃত রয়েছে। বিগত আমলে এই এলাকায় মাদকের পরোক্ষ শেল্টারে ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা, হাবিবুর রহমান রিয়াদ, কোরবানসহ অনেকেই। কিন্তু গত ৫ আগষ্টের পর মাদকের ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যাকে ঘিরে উত্তপ্ত এলাকায় পঞ্চায়েত কমিটি মানববন্ধন করেই নিশ্চুপ হয়ে পরেন।
এরপর গত ২ বছরে মাদককে ঘিরে নানা বিশৃঙ্খলা আমলাপাড়া জুড়ে দেখা গেলে ও পঞ্চায়েত কমিটির কোন পদক্ষেপ দেখা মিলেনি। এক কথায় বলা চলে মাদক ঠেকাতে কোন পদক্ষেপই রাখেনি এই পঞ্চায়েত কমিটি যা নিয়ে সমালোচনা উড়ছে। একই সাথে আমলাপাড়ার আওতাধীন চাষাড়া হর্কাস মার্কেট এলাকায় মাদক বিরোধে শুভ দাস হত্যাকাণ্ড হলে এমনকি হত্যাকাণ্ডে জড়িত মাদক ব্যবসায়ী রাহাদ-বাহারের মোটরসাইকেল আমলাপাড়ার হোসিয়ারী সমিতির কমিউনিটি সেন্টারে একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে ডিবি। এমন নানা ঘটনা ঘটলে ও কোন উদ্যোগ নেই পঞ্চায়েত কমিটির।
আমলাপাড়া পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হানিফ সরদার যুগের চিন্তাকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর আমলাপাড়া এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছি। পরবর্তীতে মাদক ব্যবসায়ীদের এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। আর নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছিলাম এখানে যেন আর না বিক্রি করে। তাছাড়া তাৎক্ষণিক ডিসি, এসপির বরাবর আমরা মাদকের বিরুদ্ধে স্মারকলিপিও দিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ে ব্যস্ত থাকি। সে সময় মাদক ব্যবসায়ীরা কোন এলাকায় এসে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন তা আমরা নিজেরাই বলতে পারি না। আমরা বলতে চাই এই ক্ষেত্রে মাদক ঠেকাতে আমলাপাড়ায় প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, আমরা আগামী সপ্তাহে পঞ্চায়েত কমিটি মিটিংয়ের মাধ্যমে এলাকায় মাদকবিরোধী মানববন্ধনসহ কি কি উদ্যোগ নেওয়া যায়, সেদিকে অগ্রসর হবো। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স আগেও ছিলাম, এখনও আছি।