সদর এসিল্যান্ড অফিসের মাহফুজার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
সদর এসিল্যান্ড অফিসের মাহফুজার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযো
# অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : জেলা প্রশাসক রায়হান কবির
নারায়ণণগঞ্জ খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের সামনেই অবস্থিত সদর উপজেলা ভুমি অফিস। এই অফিসের সহকারি কমিশনারের কক্ষে প্রবেশ করতেই লেখা রয়েছে আমি ও আমার অফিস দুর্নীতি মুক্ত। অথচ গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে এই অফিসেই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি চলে। টাকা ছাড়া মানুষ সেবা পায় না। সম্প্রতি গত ৩১ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গরহাজিরা দেখেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর পান। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি এটা সম্পূর্ণ জালিয়াতি বলে মন্তব্য করেন ভুমি প্রতিমন্ত্রী। পরে বিকেলে দুই সহকারী কমিশনারসহ ২০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু তাদের এখনো তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানা য্য়া নাই।
এদিকে কারণ দর্শানোর তালিকার মাঝে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তারও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সদর এসিল্যান্ড অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা এক একজন জমিদারের মত করে অফিসে আসেন বলে জানান সেবা গ্রহিতারা। ৯ টার সময় আসার নিয়ম থাকলেও তা শুধু খাতা কলমেই থাকে। তারা ১০ টার পরে আসেন। তবে মন্ত্রীর অভিযানের পরে তাদের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
বিশেষ করে মাহফুজা সঠিক সময় উপস্থিত না হওয়ার সেবা গ্রহিতাদের থেকে অভিযোগ উঠে। আর এতে করে এসিল্যান্ড অফিসে ভুমির নামজারি, সহ নানা কাজে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সেবা নিতে আসা মানুষ। তাছাড়া টাকা ছাড়া নামজারি কেস নাম্বার না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নামজারি প্রস্তাব দেয়ার পরেও টাকা না দিলে এসিল্যান্ডে শুনানির তারিখ না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তবে তাকে কিছু টাকা দেয়া হলে তখন শুনানির সময় তারিখ দিয়ে দেন বলে জানান সেবা নিতে আসা একাধি ব্যক্তি।
তাছাড়া সদর উপজেলা ভুমি অফিসের মাহফুজা আক্তার সহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের খারাপ আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকে তাদের সাথে কথা বলা যায় না। এসিল্যান্ডের সাথেতো দেখাই করা যায় না এমন অভিযোগ সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের।
অভিযোগ রয়েছে নামজারি করতে গেলে ভুমি অফিস এসিল্যান্ড অফিসের কাননগো, সার্ভেয়ার, সহ যারা কর্মচারী রয়েছে তাদের টাকা দিতে হয়। টাকা ছাড়া তারা ফাইল ছাড়েন না। যার জন্য সেবা গ্রহিতাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া বেশি টাকা গুনতে হয়।
গত ৩১ আগষষ্ট ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ভূমি অফিসে পরিদর্শনে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত পাননি। তাদের উপস্থিত পাওয়া না গেলেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগেরদিন স্বাক্ষর করে গেছেন বলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান। যা গর্হিত অপরাধ এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর খ ধারার অপরাধের শামিল বলে তিনি জানান। এছাড়া যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত অফিসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সদর উপজেলার এসিল্যান্ড অফিসে হাজিরা জালিয়াতির ঘটনার পর ভূমি সেবাকে জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। কোন অনিয়ম প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সদর উপজেলা ভুমি অফিসের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনকল কেটে দেন।


