দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, দলীয় চাঁদাবাজ ও অপকর্মকারী, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন বিএনপি তথা সরকারের সাম্প্রতিক ‘অভিযান’ এখন সর্বমহলে আলোচনার বিষয়। সরকারের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ একে শুদ্ধি অভিযান বলে দাবি করছেন। এদিকে আগষ্ট-সেপ্টেম্বরে ‘শুদ্ধি অভিযান’ চললে ও অক্টোবর মাসে তা প্রকোট আকার ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন দলীয় সূত্র।
তা ছাড়া এদিকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও লাগাম টানা যাচ্ছে না বিএনপির একশ্রেণির নেতাকর্মীদের। এই নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, দখল এমনকি খুনের মতো গুরুতর অভিযোগে বিব্রত দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এসব ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা নেতাদের। এ অবস্থায় দলের তৃণমূল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার।
একই সাথে এই অভিযানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডিসেম্বরে দেশে আসার যে প্রপাগান্ডা তাতে ও বেশ প্রভাব পরবে বলে জানা গেছে। একই সাথে পুলিশের উপর মাদক ব্যবসায়ীদের দফায় দফায় হামলার মতো ন্যাকার জনক ঘটনা এমনকি প্রশাসনে রদবদল ও শুদ্ধি অভিযানের মধ্যেও বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী ও সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস পার হলেও জনপ্রশাসনে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন কতটা এসেছে, তা নিয়ে বিস্তর তদারকি করা হবে। এর বাহিরে ও মাদকের শেল্টার দাতারা ও এই অভিযানের আওতায় পরতে যাচ্ছে। অক্টোবর মাসের এই শুদ্ধি অভিযানের গুঞ্জনে নড়েচড়ে বসেছেন দলীয়-বিরোধী দলীয়সহ আওয়ামী লীগের দোসররা একই সাথে অপকর্মকারী একাধিক অংশ আতঙ্কে রয়েছেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম জানিয়েছিলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো নারায়ণগঞ্জে গুপ্তভাবে জনপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। নানা কর্মকান্ডে সেই দোরসদের প্রভাব এখনো অব্যাহত আছে। প্রশাসনে গুপ্ত বলয়ের কারণে নানা সরকারি কার্যক্রমে ধীরগতির অভিযোগও রয়েছে। এই কর্মকর্তারা ছদ্মবেশে বর্তমান সরকারের সঙ্গে মিশে গিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। এরা ও এই অভিযানের আওতায় পরতে যাচ্ছেন।
দলীয় ও প্রশাসনিক সূত্র জানায়, শুদ্ধি অভিযানে ৫ আগস্টের পর দলে আসা সুবিধাভোগী নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি যারা দলের সর্বোচ্চ সতর্কতা উপেক্ষা করে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন, তাদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলখ্যাত জেলাগুলোতে এই সাংগঠনিক অভিযানে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অবশ্য ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ‘রাতের ভোটে’ সহায়তাকারী ‘বিতর্কিত’ কর্মকর্তাদের প্রশ্নে দৃশ্যমান কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।
সেই অভিযান নারায়ণগঞ্জের ও কঠোর একশ্যান নেওয়া হবে। তা ছাড়া (র্যাব) সারা দেশে সাড়ে ৬ শতাধিক চাঁদাবাজের যে তালিকা তৈরি করেছে, তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল থেকেই সবচেয়ে বেশি অপরাধী চিহ্নিত হয়েছে। র্যাবের এই তালিকায় নারায়ণগঞ্জের প্রায় ১১০ জন শীর্ষ চাঁদাবাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে জেলা পুলিশের চাঁদাবাজির তালিকায় ৫০ জনের তালিকা উঠে এসেছে। আগামী অক্টোবরের অভিযানে এই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আসছে।
একই সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত নারায়ণগঞ্জের ২০টি মাদকের বড় স্পটে ব্যাপক অভিযান পরতে যাচ্ছে। তা ছাড়া সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জে পুলিশে জনবল সংখ্যা কম থাকায় বিশেষ অভিযানগুলোতে বাধা আসতে যাচ্ছেন এমন গুঞ্জন উঠছে সেই দিক থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকেই।
তা ছাড়া সূত্র আরো জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা পুলিশের কার্যালয়, গণপুর্ত বিভাগ, এলজিআইডি, জেলা পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়সহ সরকারির দপ্তরগুলোতে প্রভাব পরবে ‘শুদ্ধি অভিযানের’। সেখানে নতুন সরকারের আমলে গত ৬ মাসের কি কি দুর্ণীতি হয়েছে তিলে তিলে বের করা হবে। তা ছাড়া প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে জোরালোভাবে রদবদল এমনকি আগামী ডিসেম্বরে স্বৈরাচারের পক্ষ থেকে দেশে নাশকতা করার সকল পরিকল্পনা বেস্তে দেওয়া হবে। সকল দিক মিলিয়ে অক্টোবর মাস যেন অপকর্মকারীদের আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমানে আমাদের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে ১২২ জন অপরাধীকে আমরা গ্রেফতারে আনতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ী, নাশকতার নৈরাজ্যের পরিকল্পনাকারী, চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে করে গ্রেফতারের আওতায় আনা হচ্ছে। তা ছাড়া আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাস জুড়েই আমাদের নানা অভিযান অবহৃত রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী অক্টোবর মাসে সরকার ‘শুদ্ধি অভিযানের’ নির্দেশনা দিলে আমরা তা বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত রয়েছি। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক দিক থেকে আমরা কঠোরভাবে সকল অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর এক্যাশনে রয়েছি।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব আলম যুগের চিন্তাকে বলেন, আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাস জুড়েই আমাদের কঠোর অভিযান অব্যহৃত রয়েছে। আগামী অক্টোবরে শুদ্ধি অভিযানের জন্য এখনো কোন নির্দেশনা আসেনি। যদি তা ঘোষণা করা হয় আমরা যথাযথ প্রস্তুত রয়েছি।
সদর মডেল থানার অভিযান ইনচার্জ সাজেদুর রহমান যুগের চিন্তাকে বলেন, অভিযান আমাদের প্রশাসনের চলমান পক্রিয়া। মাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত নানা অভিযান চলমান থাকে। এরই মধ্যে সরকার যদি নতুন কোন অভিযানের ঘোষণা দেয় তা আমাদের পালন করতেই হবে। আগামী অক্টোবরে শুদ্ধি অভিযানের জন্য এখনো কোন নির্দেশনা আসলে তা বাস্তবায়নে আমরা প্রস্তুত রয়েছি