চিকিৎসাসেবার আড়ালে ডা.বিরুর আ.লীগ পুনর্বাসনের তৎপরতা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
চিকিৎসাসেবার আড়ালে ডা.বিরুর আ.লীগ পুনর্বাসনের তৎপরতা
সোনারগাঁয়ের নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের কসাই চিকিৎসক নেতা বিরুকে নিয়ে আবারো তৈরী হয়েছে নানা সমালোচনা। তার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার গুরুতর অভিযোগ। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামীলীগের পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে ফের চিকিৎসক কার্যক্রমের আড়ালে আওয়ামীলীগকে পুনর্গঠিত বা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার মিশনে রয়েছেন।
আওয়ামীলীগের শাসন আমলে ক্ষমতার প্রভাবে চিকিৎসার নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোপেডিক বিভাগের চেয়ারম্যান হয়ে ডা. বিরু অর্থোপেডিক বিভাগকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজনৈতিক আড্ডাখানা বা রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত করেছিলেন। ঠিক একই কায়দায় আওয়ামীলীগের পতনের কারণে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসার নামে দিনব্যাপী রোগী দেখার ছলে আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে গোপন বৈঠক করে আওয়ামী লীগকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার পাঁয়তারা করে যাচ্ছেন।
এছাড়া ডা. বিরুকে রাজাকারের আত্মীয় স্বজন বলে কটাক্ষ করতেন আওয়ামীলীগ নেতারা। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগের গডফাদার শামীম ওসমানের আর্শীবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগে প্রথমে পদায়িত হন। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠতে থাকেন। তার অর্থের প্রভাবে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নিজের ইচ্ছেমত শীর্ষ নেতাদের মাইনাস করে কমিটি করেন। পরবর্তীতে বিরুর বাসভবনে ওটমাতে সেই কমিটির মিটিং করতে আসেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল।
পরবর্তীতে সোনারগাঁয়ের মাইনাস করে নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে বিরু বাড়িতে হামলা চালিয়ে সেই মিটিং পন্ড করে দেন। এছাড়া সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগের উপজেলা চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী বাবুল ওমর বাবুর মেয়ে ডেঙ্গ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলে ডা. বিরুকে এই মৃত্যুর পিছনে দায়ী করেন। এছাড়া কাঁচপুরে আওয়ামীলীগের এক মিটিংয়ে তাকে মারধর করতে তেড়ে যান। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণায় আবু জাফরকে উদ্দেশ্য করে বাবুল ওমর তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'খেলা হবে বিরুর সাথে আমার সাথে। আমি খেলবো একা। আমার নাম বাবু। বইলা দিবা নারায়ণগঞ্জের সিপ্রোসিন ট্যাবলেট বাবু।
তর যদি কোন মায়ের লা*** থাকে মা****, ভোট কেন্দ্রে থাকবি। আমিও থাকবো। ২১ তারিখ খেলা হবে তোর সাথে।'এসময় ভোটারদের উদ্দেশ্যে ভোট চান বাবুল। বলেন, 'আমি জিতলে আমার পাঁচ বছর লাগবো না। আমি হেরে ঠিক কইরা ফেলমু এক মাসে। এমনিতেই তো ঠিক কইরা ফেলসিলাম, আল্লাহ জানে বাঁচাইসে। লুঙ্গি রাইখা দিসিলাম। আমি তো তার বাড়ির সামনেই হুমকি দিলাম। তার যদি বুকের পাটা থাকে আমার বাড়ির সামনে মিছিল করতে বইলেন। আমি তো তোমার বাড়ির সামনেই উল্টাপাল্টা কথা বলছি। তুমি যদি তোমার মায়ের দুধ পান করে থাকো তাইলে আমার বাড়ির সামনে মিটিং করে দেখাও,ওপেন চ্যালেঞ্জ করে গেলাম।
' এছাড়া সোনারগাঁয়ের সাবেক এমপি খোকা বলেন, রাজাকারের আত্নীয়-স্বজন আওয়ামীলীগের ঘাড়ে ভর করে আমাকে ঘায়েল করতে চায়। শুধু তাই নয়, তারা আমাকে ঘায়েল করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও ছোট করতে দ্বিধাবোধ করেনা। আমরা জনগনের ভোটে নির্বাচিত হবো। কে কি বললো তা শুনে আমাদের লাভ নেই। সেদিন কয়েকজন (আওয়ামীলীগ) নেতার বক্তব্য শুনলাম আমি নিজে নিজেই হাসলাম। ডা: বিরুর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, হায়রে ছাগল, হায়রে পাগল তোগো এসটাবলিশ করতে গিয়া আর আমারে ঘায়েল করার লেইগা নিজের নেত্রীকে তোরা ছোট করলি। বহুৎ লড়াই করে আমি আজ এ জায়গায় এসেছি।
আমাকে রাজনীতি শিখাতে এসো না। চাঁদাবাজির রাজনীতি ছেড়ে দেন। সোনারগাঁ জাতীয় পার্টি স্বাধীনতার এক বৃহত্তম শক্তি। এখানে আমরা স্বাধীনতার কোনো বিরোধী শক্তিকে মাথাচাড়া করতে দিবো না। আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা কোন মুখে বলেন সোনারগাঁয়ে উন্নয়ন হয়নি? কার রাজনীতি করেন? কোন রাজনীতি করেন? আমাকে ছোট করা মানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ছোট করছেন।
এছাড়া এই বিরুর কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতেও অস্থিরতা দেখা দেয়। আওয়ামীলীগের বিতর্কিত এই চিকিৎসক নেতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সাথে বিভাদে জড়ান। কিন্তু আওয়ামীলীগের নিগৃহীত হয়েও আবারও নারায়ণগঞ্জ তথা সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে ঢাকায় চিকিৎসা সেবার নামে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়মিত আওয়ামীলীগের মিলন মেলা করেন। সেই সাথে তার চেম্বারে আওয়ামীলীগ নেতারা কখনো রুগী সেঁজে আসেন।
আওয়ামীলীগের শাসন আমল থেকেই বিরু ঢাকাতে বসবাস করলেও এখনো ঢাকায় বসবাস করেন। আওয়ামীলীগ শাসন আমলে গ্রামে বাড়ি সোনারগাঁয়ে নিয়মিত যাতায়াত থাকলেও এখনো আর যাতায়াত করেন না। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ তথা সোনারগাঁয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা এবং হত্যা চেষ্টায় আওয়ামীলীগের হয়ে অন্যতম অভিযুক্ত থাকলেও এখনো প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। যার কারণে এখন নির্বিঘ্নে ঢাকায় বসে বসেই চিকিৎসাসেবার আড়ালে আওয়ামী লীগকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার মিশন বাস্তাবায়ন করছেন ডা. বিরু।


