হকার পুনর্বাসনের স্থান ৬০ ভাগ প্রস্তুত
বিবি রোডের ফুটপাত ছাড়তে রাজি নন হকাররা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
বিবি রোডের ফুটপাত ছাড়তে রাজি নন হকাররা
নানা চড়াই উত্তড়াই অতিক্রম করে নগরবাসীর অভিশাপ খ্যাত হকারকে ফুটপাত থেকে সরিয়ে রেললাইনের এক পাশে পুনর্বাসন করছে নাসিক। ইতিমধ্যে রেলওয়ের বাধা পেরিয়ে প্রায় পুনর্বাসন স্থানের ৬০ ভাগ কাজ শেষ। কিছু জায়গায় মাটি সমান করে ইটের সলিং বিছিয়ে সাইডের সুরক্ষা বেড়া দেওয়া হবে। এদিকে ফুটপাত ছেড়ে নতুন পুনর্বাসন স্থানে যেতে রাজি নয় হকাররা। একাধিক হকার জানিয়েছেন, আমরা শুশৃঙ্খলভাবে ফুটপাতেই বসতে চাই। রেললাইনের পাশে বসলে আমরা বেকার হয়ে পরবো। এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর হকারের সংখ্যা যেন রাতারাতি দ্বিগুন হয়ে যায়।
ফুটপাত দখলের পর তারা বঙ্গবন্ধু সড়ক দখল করেও দিনভর দোকানপাট বসাতে থাকে। নগরবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান গত এপ্রিল মাঠে হকার উচ্ছেদ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সে মোতাবেক গত ১৩ এপ্রিল সফল ভাবে হকার উচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই হকারদের পুনর্বাসনের দাবি উঠতে শুরু করে। কিছুদিন নগরীর ফুটপাত হকারদের দখলমুক্ত থাকলেও নতুন করে আবারো পুরোনো রূপে ফিরতে শুরু করে নগরীর চিত্র। বর্তমানে ২ নং রেলগেইট থেকে চাষাড়া মহিলা কলেজ পর্যন্ত রেললাইনের এক পাশে হকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেই নাসিক।
সেই হিসেবে টানা ৬ দিন ইটের সলিং, বাঁশের বেড়া, ময়লা পরিষ্কার করলে সেখানে ডাবল লাইনের জন্য রেলওয়ে প্রকল্প এসে তড়িগড়ি করে ইট সব উঠিয়ে দিয়ে যায়। যা নিয়ে রেলওয়ে প্রকল্পের মহা-যুগ্মসচিব সেলিম রওফের সঙ্গে নাসিক প্রশাসকের তর্ক হলে পরবর্তীতে ডাবল লাইনের কাজ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত হকার পুনর্বাসনের জন্য অনুমতি পায় সিটি কর্পোরেশন। সেই হিসেবে ইতিমধ্যে কাজ প্রায় ৬০% শেষ হলে ও হকাররা বিশেষ ইন্দনের কারণে নতুন স্থানে বসতে রাজি নয়। সূত্র জানিয়েছে, হর্কাস দলের সাবেক আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে কিছুদিন যাবৎ ফুটপাতের আশপাশে আনাগোনাসহ হকারদের সাথে ফের কানাকানি করতে দেখা যায়। সেই হিসেবে অনুযায়ী বিএনপির কিছু বিশেষ নেতার হাত ও সেই পুরনো হর্কাস দল নাম চাঁদাবাজ গোষ্টি ইন্দন দিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে ফুটপাতের চাঁদাসহ হকার বসতে দেওয়া বিদ্যুৎ লাইনের বিল ও কালেকশন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া বর্তমানে চোর-পুলিশ খেলে ফুটপাতেই থাকতে চায় হকাররা। নাসিকের উদ্যোগ তৈরি করা রেললাইনের এক পাশে হকার পুনর্বাসন স্থান সেখানে যেতে রাজি নয় কেউ। তাহলে এতো বাধা অতিক্রম করে নাসিকের উদ্যোগে জনগণের ট্যাক্সের লাখ লাখ টাকা দিয়ে বানানো এই প্রকল্প কি বেস্তে যাবে।
আমাদেরকে সেখানে বসার কথা বলেছে। আমরা বলেছি আমাদেরকে সেখানে কতদিনের জন্য বসতে দিবে। বসার পর দুই মাসের মধ্যে আবার তুলে দেওয়া হলে আমরা তখন কই যাবো। রেলওয়ে থেকে সেখানে বসার কোন অনুমতি দিয়েছে কিনা এমন কোন কাগজ আমাদের দেওয়া হয়নি। আমরা জানিয়েছি আমরা এভাবে বসবো না। যতদিন আমাদের পুনর্বাসনের জন্য নিদিষ্ট কোন জায়গা না দেওয়া হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আমরা বিকাল ৫টার পর শৃঙ্খলা ভাবে ফুটপাতে বসতে চাই।


