প্রিপেইড মিটার কেন গ্রহণযোগ্য নয়?
সহজে বিল পরিশোধ এবং উন্নত সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগে প্রিপেইড মিটার যুক্ত করার প্রক্রিয়া বেশ ক‘বছর হলো শুরু হয়েছে।শীতলক্ষ্যার পূর্বাংশের পুরোটাই প্রিপেইডের আওতায় চলে এসেছে,বিপত্তি দেখা দিয়েছে পশ্চিমাংশে।প্রিপেইড মিটার স্হাপনের চেষ্টা গ্রাহকগণ রুখে দিয়েছে, প্রিপেইড মিটার স্হাপনে সকল গ্রাহক ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়ে নানামুখী কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।আধুনিক প্রযুক্তির এই মিটার কেন গ্রাহকের কাছে গ্রহনযোগ্য হচ্ছেনা তা অবশ্যই গুরুত্ব সহ বিবেচনার দাবি রাখে।
লক্ষ্যার পূর্বাঞ্চলে প্রিপেইড যুক্ত গ্রাহকদের অসহনীয় দুর্ভোগ দেখে পশ্চিমাংশের গ্রাহকদের মাঝে ভীতির সঞ্চার হওয়া অস্বাভাবিক নয়।প্রিপেইড মিটারের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন দুর্ভোগ,যণ্ত্রনা এবং অনিয়মে অতীষ্ঠ বন্দরবাসীও চাইছে পোষ্ট পেইড মিটারের পুনঃস্থাপন, কারণ প্রিপেইড মিটার বন্দরবাসীর গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে।সম্প্রতি শতকরা প্রায় ১৭ টাকা হারে বর্ধিত বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করতে গিয়ে উটকো বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয় সকল গ্রাহককে।
নতুন হারের সাথে মিটারের সমন্বয় সাধনের জন্য বরাবরের ২০ সংখ্যার পরিবর্তে ২২০ সংখ্যার টোকেন নাম্বার কিবোর্ডে চেপে মিটার রিচার্জ করতে যে ঝামেলা পোহাতে হয়েছে তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ কল্পনাও করতে পারবেন না! টোকেন নাম্বার ২২০ সংখ্যার হওয়ায় বাধ্য হয়ে গ্রাহককে প্রিন্টকপি নিতে হয়েছে কারণ হাতে লিখতে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাছাড়া সময়েরও ব্যাপার রয়েছে।এজেন্টের পক্ষে প্রিন্ট করে দেয়া সহজ, নিরাপদ এবং লাভজনকও বটে। কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে বাড়তি টাকা ব্যয় করেও স্বস্তি মিলে না।একটি একটি করে ২২০টি সংখ্যা বাটন চেপে রিচার্জ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
একটি সংখ্যা ভুল হলে নতুন করে শুরু করার ঝামেলা।পরপর তিনবার ভুল হলে মিটার লক হয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা!এদেশের সাধারণ মানুষের খুব কম সংখ্যকই এই আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত,তাই ভুল হওয়াই স্বাভাবিক!বাড়তি টাকা খরচ করে অভিজ্ঞ কারও মাধ্যমে ভুল সংশোধন করতে হচ্ছে,নয়তো বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দ্বারস্হ হতে হচ্ছে।গাঁটের পয়সা খরচ করে এমন দুর্ভোগ পোহাতে কার ভাল লাগে?।এ তো গেল বিলবৃদ্ধি জনিত সমন্বয়কালীন সমস্যা! যখনই বিল বাডে তখনই এই সমস্যার উদ্ভব হয়।এছাড়াও কথিত আধুনিক মিটারটি আরও অনেক দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছে। বাটন ঠিকমত কাজ না করা অসংখ্য মিটার রয়েছে।
এমন মিটার নিয়মিত রিচার্জ করতে গিয়ে শুধুমাত্র ২০ সংথ্যার টোকেন নাম্বার চাপতেই অনেক গ্রাহক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিল রিচার্জের এই ঝামেলা পোহানো নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন যত যাচ্ছে মিটার তত পুরনো হচ্ছে,তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাটনের সমস্যা বেড়েই চলেছে।মিটারে স্হাপিত ব্যাটারি মেয়াদ শেষে অকার্যকর হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আরেক যণ্ত্রনা!অভিযোগ জানিয়ে নতুন ব্যাটারি প্রতিস্হাপনের জন্য তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করতে হবে যতক্ষণ না দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এসে ব্যাটারি পাল্টে দিচ্ছে। ততক্ষণ পর্যন্ত সংযোগ বিহীন অবস্থায় থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই।
পকেটের টাকায় কেনা বিদ্যুৎ পেতে এমন দুর্ভোগ কেন পোহাতে হবে?এজন্য কারও দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা আছে বলেও মনে হয় না।থাকলে তো এসব সমস্যার উদ্ভব হওয়ারই কথা নয়! আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এধরনের সমস্যার সমাধান না হওয়া হাস্যকর বলে সচেতন মহলের ধারণা।প্রিপেইড মিটারের আধুনিক সংস্করণ রয়েছে যেখানে বিল রিচার্জ স্বয়ংক্রিয় ভাবেই সম্পন্ন হয়ে যায়।নির্ধারিত সময় অন্তর ব্যাটারি প্রতিস্হাপন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে করা হলে এ সমস্যার সমাধানও সহজ হয়ে যায়। এসব বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিশ্চই কর্তৃপক্ষের রয়েছে, তারপরও সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না,এটি সকল ভুক্তভোগী গ্রাহকের প্রশ্ন। উত্তর না পাওয়া এবং সমস্যার সমাধান না হওয়ার কারণে প্রিপেইড গ্রাহকগণ বলতে বাধ্য হচ্ছেন “প্রিপেইড মিটার দরকার নেই,পোস্ট পেইড মিটার ফিরিয়ে দিন”।
উদ্ভুত সমস্যার সমাধান না করতে পারলে পূর্বাঞ্চল তথা বন্দরে স্হাপিত সকল সংযোগ পূর্বাবস্থায় অর্থাৎ পোস্ট পেইড মিটারে প্রতিস্থাপন করাই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।নাহলে গ্রাহক পর্যায়ে সৃষ্ট ক্ষোভ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে যা কোন ভাবেই কাম্য নয়।এমন পরিস্থিতি যেন কোনভাবেই তৈরি না হয় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাল বিলম্ব না করে এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল। লেখক : বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি ও পোশাক শিল্পের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা।


