Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

নেতাকর্মীদের ছাতা দিয়ে পেটালেন বিএনপির টিপু

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

নেতাকর্মীদের ছাতা দিয়ে পেটালেন বিএনপির টিপু

নেতাকর্মীদের ছাতা দিয়ে পেটালেন বিএনপির টিপু

Swapno



একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সর্বদা সমালোচনায় থাকেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল খান টিপু। দলীয় বিভিন্ন পোগ্রামে কর্মী গালমন্দ, মারধর, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি যেন তার নিত্যদিনের ঘটনা। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে মহানগর বিএনপির আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে প্রকাশ্যে নিজ হাতের ছাতা দিয়ে কর্মীদের পিটিয়ে নাস্তানাবুদ করেন তিনি। তার অহেতুক কর্মকান্ডে বিএনপির মতো বড় দল সর্বদা নারায়ণগঞ্জে বিতর্কিত হয়ে উঠেন।


গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় নগরীর ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে এমন কাণ্ড ঘটান তিনি। এর আগে চলতি বছরের (৩০ মে) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বাষির্কীর দিনে সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নে আলীরটেক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে ঘুষি মেরে গাল কেটে ফেলে সমালোচনায় উঠে। এ ঘটনার দশদিন পূর্বে গত (১১ মে) এড. শিল্পীকে আদালত পাড়ায় লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছিলো এই টিপুর বিরুদ্ধে।


এদিকে বিতর্কিত এই টিপু নিজেকে ত্যাগী নেতা দাবি করলেও আদতে বিএনপির দুঃসময়ে পাশে ছিলেন না টিপু। দুঃসময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন দিশেহারা ঠিক তখন জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের হাত ধরে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট পার্টি (বিএনএফ) এ। আওয়ামী লীগের ১৭ বছর যখন বিএনপি নেতাকর্মীরা যখন মামলা-হামলায় দিশেহারা, তখনও দিব্যি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন এই টিপু। নারায়ণগঞ্জসহ  বিএনপির বাঘা বাঘা নেতাদের নামে যখন শত শত মামলা, তখনও মামলাবিহীন ছিলেন টিপু। যখন এই নিয়ে শরগোল তৈরি হয় তখনই ২০২৪ এর ৫ আগস্টের বছর খানেক আগে থেকে বিএনপির নেতা হিসেবে মামলা খাওয়া শুরু করেন আবু আল ইউসুফ খান টিপু।


জানা গেছে, টিপুর এই বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের কারণে গত ৫ আগস্টের পর অজানা কারণে বন্দরে বেধড়ক পিটুনি খেয়ে শিরোনামে আসেন এই বিএনপি নেতা। বিগত দিনে বর্তমান এমপি কালামা পরিবারের ভ্যানগার্ড হিসেবে থাকলে ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ। এরপর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। একাধিকবার বর্তমান এমপি কালাম সাহেবের পরিবারকে নিয়ে নানা মন্তব্য করে সমালোচনায় এসেছিলেন তিনি।


এদিকে টিপু কখনো অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, নিজ দলের কর্মীদের মারধর, আবার কখনো সাংবাদিক কিংবা পেশাজীবীদের সাথে মারধর, গালিগালাজ, রুঢ় আচরণ করে সংবাদের শিরোনামে আসেন এই বিতর্কিত বিএনপি নেতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্রাব্য ভাষার ব্যবহার এবং সভা-সমাবেশ-আলোচনায় গালিগালাজ, রূঢ় ব্যবহার, উগ্র মানসিকতা, অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য, ছোট করে দেখানোর মানসিকতার কারণে বিতর্কিত এই নেতাকে এড়িয়ে চলেন বিএনপিসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ীকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সম্মানিত ব্যক্তিরা।


অনেক সজ্জন বিএনপি নেতাদের নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিএনপির সরকার মূল্যায়ন করে পদায়িত করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং আশেপাশের মানুষের কাছে ক্ষোভ উগড়ে দিতে দেখা গিয়েছিলো এই বিএনপি নেতাকে। আন্দোলনের ১ বছর পূর্বে তার বিরুদ্ধে বেশি একটি মামলা হয়নি কেন তা নিয়ে উঠেছিলো নানা প্রশ্ন


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিএনপি নেতা মনে করেন, মূলত ওসমান পরিবারের আশীর্বাদে থাকায় টিপুর নামে মামলা হয়নি। যখন সবাই টিপুর মামলাহীন থাকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তখনই হঠাৎ টিপুর নামে মামলা দেয়া শুরু করে আওয়াম লীগ নেতারা। এসব মামলায় মাত্র একবার কারাগারে যেতে হয়েছে টিপুকে। এতেই ভাগ্য খুলে যায় টিপুর। তৈমূর আলম খন্দকার ও এটিএম কামালের বহিষ্কার এর সুযোগ লুফে নেয় টিপু। যদিও সেই সিটি নির্বাচনে টিপু কতখানি বিএনপির হয়ে কাজ করেছিলেন তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কেননা রাইফেল ক্লাবের আশেপাশে টিপুর আনাগোনা বেশি থাকায় খোদ বিএনপির কর্মীরাই তাকে সন্দেহের চোখে দেখতেন, এমনটাই জানা গেছে।


বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই মনে করেন, ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলানো যার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই ব্যক্তি কি করে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পান তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । তা ছাড়া বর্তমানে তার উর্গ আচরণে ক্ষোভ রয়েছে একাধিক বিএনপির ত্যাগী নেতাদের উপর।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন