Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

জোর সুপারিশ করেছেন বেয়াই এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ

বিআরটিসি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেতে টিপুর লম্ফঝম্ফ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিআরটিসি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেতে টিপুর লম্ফঝম্ফ

বিআরটিসি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেতে টিপুর লম্ফঝম্ফ

Swapno



বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য জোর তদবির চালাচ্ছেন বিএনপির বিতর্কিত নেতা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, টিপু যাতে বিআরটিসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেতে পারেন এজন্য তার হয়ে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডিও (ডিমান্ড অর্ডার) লেটার ইস্যু করেছেন। ওই ডিও লেটারে যোগ্য ক্যান্ডিডেট (প্রার্থী) হিসেবে টিপুকে নিয়োগ দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন।


সূত্র জানিয়েছে, এক মাস আগে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদকে মহানগর বিএনপি নেতা টিপুর মেয়ের উকিল শ্বশুর বানানো হয়েছে। সেই সূত্রে বেয়াইয়ের সম্পর্কের আবদার নিয়ে বেয়াই নজরুল ইসলাম আজাদের ঘাড়ে ভর করে আকাশে ওড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন টিপু। এরআগে বহিষ্কৃত সাবেক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


এই পদে থাকাকালীন বিআরটিসিকে খাদের কিনারায় নিয়ে লোকসানের মুখোমুখি করেছিলেন তৈমূর। এখন ওই একই পদে বিএনপির বিতর্কিত নেতা টিপু অধিস্থিত হতে চাচ্ছেন। সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ জুলাই সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে বিএনপির ১২ নেতাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। এরপর থেকে আদা জল খেয়ে নামেন টিপু। বেয়াই নজরুল ইসলাম আজাদকে তাগাদা দিচ্ছেন সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে। এরআগে বিএনপির ১২ নেতাকে দায়িত্ব দেয়া জায়গাগুলো বিশ্লেষণ করা শুরু করেন টিপু।


খুঁজতে থাকেন কোন পদটি নেয়ার জন্য জোর তদবির করা যায়। অনেক ভাবনা চিন্তা করে তিনি বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান পদটি খুঁজে বের করেন। তবে এই পদ পেতে টিপুর ৫ আগস্টের পরের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কেননা, নারায়ণগঞ্জের পরিচ্ছন্ন বিএনপি নেতারা  টিপুর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য এড়িয়ে চলেন তাকে।


নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দল ও সামাজিকভাবে বিতর্কিত হয়েছেন টিপু। ৫ আগস্টের পর অজানা কারণে বন্দরে বেধড়ক পিটুনি খেয়ে শিরোনামে আসেন এই বিএনপি নেতা।  বিএনপির দুঃসময়ে জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের হাত ধরে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট পার্টি (বিএনএফ) এ। এরপর আবার ফেরেন বিএনপিতে। বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার এবং এটিএম বহিষ্কারের পর কপাল খোলে টিপুর। গত ১৭ বছরে মাত্র একটি মামলায় কারাবরণ করলেও পেয়ে যান মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ।


এরপর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। কখনো অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, নিজ দলের কর্মীদের মারধর, আবার কখনো সাংবাদিক কিংবা পেশাজীবীদের সাথে মারধর, গালিগালাজ, রুঢ় আচরণ করে সংবাদের শিরোনামে আসেন এই বিতর্কিত বিএনপি নেতা। সম্প্রতি এক নারী আইনজীবীকে মারধর এবং পরবর্তীতে নারী আইনজীবিদের ‘নর্তকী’ বলে সারাদেশে বিতর্কিত বিএনপি হিসেবে পরিচিত হন। এরকয়েকদিনের মাথায় আলীরটেকে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকে মেরে রক্তাক্ত করে আবারো সমালোচিত হন।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্রাব্য ভাষার ব্যবহার এবং সভা-সমাবেশ-আলোচনায় গালিগালাজ, রূঢ় ব্যবহার, উগ্র মানসিকতা, অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য, ছোট করে দেখানোর মানসিকতার কারণে বিতর্কিত এই নেতাকে এড়িয়ে চলেন বিএনপিসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ীকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সম্মানিত ব্যক্তিরা। অনেক সজ্জন বিএনপি নেতাদের নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিএনপির সরকার মূল্যায়ন করে পদায়িত করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং আশেপাশের মানুষের কাছে ক্ষোভ উগড়ে দিতে দেখা গিয়েছিলো এই বিএনপি নেতাকে।


যার ফলে তাঁর মনস্তাত্ত্বিক নেতিবাচক সমস্যা এড়াতে সজ্জন বিএনপি নেতারাও তাকে এড়িয়ে চলেন। নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বশীল ও পরিচ্ছন্ন নেতাদের  যাতে গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়ন করা হয় এই দাবি শক্তভাবে তুলে ধরছিলেন বিএনপির তৃণমূল। কোন বিতর্কিত নেতা যাতে এই দাবির সুযোগ লুফে নিতে না পারে বিএনপির হাইকমান্ডের প্রতি সেইদিকটিও বিবেচনার আহবান জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন