Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বস্ত্র শিল্পের অবস্থা খুবই নাজুক : এম সোলায়মান

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

বস্ত্র শিল্পের অবস্থা খুবই নাজুক : এম সোলায়মান

বস্ত্র শিল্পের অবস্থা খুবই নাজুক : এম সোলায়মান

Swapno



বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিওয়াইএমএ) এর ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত সভাপতি এম সোলায়মান বলেছেন, দুই বছর ধরে দেশের বস্ত্রশিল্পের অবস্থা খুবই নাজুক। সারাদেশে ৭০০টি স্পিনিং মিল থাকলেও এখন ১৫০টির মতো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।  হাজী হাশেম স্পিনিং মিলস লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম সোলায়মান জানান, আমার নিজের প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার ৩০% কমে গেছে। যারা চলছে কেউ ৩০%, কেউ ৪০%, কেউ ৫০% লস দিয়ে ব্যবসা করছে।


ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কারণে হিমশিম খাচ্ছে। স্পিনিং মিলগুলোতে কাঁচামালের বিরাট সংকট রয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট রয়েছে। তুলা, সুতা, মেশিনারিজ সব জায়গাতেই সংকট রয়েছে। অথচ করোনার আপদকালীন সময়ে আমরা গার্মেন্ট সেক্টরে ৮০ পারসেন্ট সুতা আমরাই সরবরাহ করেছিলাম। বর্তমানে বিশ্ববাজার মন্দা হওয়াতে আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে কম মূল্যের সুতা আমাদের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে। আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছিনা। কিছুদিন ধরে ৫ পারসেন্ট প্রণোদনা দেয়া হলেও প্রায় মুমুর্ষু স্পিনিং সেক্টরে এটি যথেষ্ট নয়। সরকারকে আরো বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।


তিনি বলেন, ৫০ পারসেন্ট স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে। এরপরও কিভাবে চলছে এমন প্রশ্ন আসলে বলা যেতে পারে চালু রাখলে ২ কোটি টাকা লস হয়, বন্ধ রাখলে ৫০/৬০ লাখ টাকা লস হয়। বর্তমানে এই সেক্টরে নতুন কোন বিনিয়োগ হচ্ছেনা। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভ্যাট ট্যাক্স কমাতে হবে। সুতা আমদানি করতে ব্যাংকে লেনদেন করতে গেলে টার্নওভার যেখানে ছিল পয়েন্ট ২৫ এখন সেটি বেড়ে ১ পারসেন্ট। আমরা তো হাফ পারসেন্ট লাভও করতে পারিনা। টার্নওভারটা যাতে আগে যেটি ছিল সেখানে নিয়ে আসে সরকার।


ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়মান বলেন, ইয়ার্ন/সুতা ব্যবসায়ীরাও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এখানেও করুণ অবস্থা। সারা বাংলাদেশে ৬ হাজার এবং নারায়ণগঞ্জে ১৫০০ ইয়ার্ন ব্যবসায়ী রয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। গ্যাস বিদ্যুতের সংকটের কারণে মাধবদী শেখের চর, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ প্রোডাকশন ৫০ পারসেন্টে নেমে এসেছে, তাঁতীরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেনা। দেড় হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেকগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। লাখ লাখ তাঁতী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।  অর্থাভাব তো আছেই, কাপড় বেচাকেনা কম পাশাপাশি ইসলামপুরের কিছু পার্টি বন্ড সুতা এনে অবৈধভাবে বিক্রি করছে।


বন্ড সুতা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অপব্যবহার করে, এর প্রভাব মার্কেটে পড়ে। সরকার ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হয়। বিশেষ করে তাঁতশিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এখানে তাঁতীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই দুই ব্যবসার প্রভাব গার্মেন্টেসও পড়েছে। তারা কোন রকমে টিকে আছে।   তিনি বলেন, বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব আমাদের উপরেও পড়েছে। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামাল, মেশিনারিজের দাম অনেক বেড়ে গেছে। আমরা ভারতের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছিনা, কারণ তারা এই সেক্টরে অনেক প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে।
বিটিএমএ’র সাবেক পরিচালক এম সোলায়মান বলেন, আশার কথা হলো, সরকার এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন এসব সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন কমিটি করে দেবেন। আমরা সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি। বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে এই সংকটকালীন সময় থেকে কিভাবে উত্তোরণ করা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা, ব্যাংকের ইন্টারেস্ট হার কমাতে হবে। সরকার একটু নজর দিলেই আমরা গার্মেন্ট সেক্টরে ৮০ পারসেন্টের বেশি সুতা সরবরাহ করতে পারবো। গার্মেন্ট ব্যবসাও খারাপ, সেখানেও নজর দিতে হবে। সরকার সহযোগিতা করলে আমরা এইসব সমস্যা সমাধান করতে পারবো।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন