# মব কালচার এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি : অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
# পুলিশ সৎ, সুশৃঙ্খল হলে হামলার ঘটনা কমে যাবে : মাহবুবুর রহমান মাসুম
# প্রশাসনের প্রতি অপরাধীদের ভীতি হ্রাস পেয়েছে : হাজী নূর উদ্দিন
নারায়ণগঞ্জে চলতি বছরের প্রথম ছয়মাসে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে গত ১২ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৬৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর ৯ বার আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকবাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষও মবকালচারে জড়িয়ে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে।
জেলা পুলিশের হিসাব বলছে, বছরের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত গত ৫ মাসে ৫৪টি হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি ২৩টি, দস্যুতা ৪২টি, অপহরণ ৯টি, চুরির ঘটনা ১২৮টি এবং ১০৯টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে ৩৬টি অস্ত্র ও দুটি বিস্ফোরক, ৮৯৮টি মাদক ও ১১টি চোরাচালানের মামলা হয়েছে। অপরাধ বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তদন্তে বলছে, অপরাধপ্রবণ এলাকায় সন্ত্রাসীরা এখন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তারা ড্রোন ও উন্নত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। কোন এলাকায় পুলিশ প্রবেশ করলেই মোবাইল অ্যাপ ও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে অপরাধীরা।
আলোচিত ৪০ হত্যাকাণ্ডে ছড়িয়েছে আতঙ্ক
৬ জুলাই আড়াইহাজারের জাঙ্গালিয়ায় অটোরিকশাচালক হারুনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৪ জুলাই ফতুল্লায় পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে পিটুনিতে মারা যায় সিজান (২৫) নামে এক যুবক। মাসদাইর মোড়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এই ঘটনায় আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম মুফতি ও খেলাফত মজলিস সদর থানার সাবেক সহ-সভাপতি কাউছার আহমেদ কাশেমী, জেলার সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি,ওলামা দলের ফতুল্লা থানার আহবায়ক জিলানী ফকিরসহসহ ৬ জনের নামে মামলা করা হয়।
একই দিন ৪ জুলাই বন্দরে নিখোঁজের ছয় দিন পর পরিত্যক্ত ডোবা থেকে অটোরিকশাচালক মাছুম রানার (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। ২ জুলাই সকালে ফতুল্লার মাসদাইর এমপি গলি এলাকায় বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেনের তোশকে মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাত্র ২০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য মোতালেবকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন ঘাতক জাকির।
২৯ জুন সকালে ফতুল্লার দেলপাড়ায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জনিকে জবাই করে হত্যা করে স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি। এর তিনদিন আগে ২৬ জুন বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে আব্দুল মোতালিবকে (৬৪) পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয় ইউপ মেম্বার আনোয়ার ও তার ভাগিনা। ২৩ জুন সিদ্ধিরগঞ্জের আরামবাগে ডোবার ভেতর থেকে মুক্তার হোসেন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২২ জুন আড়াইহাজারে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ইদবারদী এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বাড়ির পাশের একটি ডোবায় পাওয়া যায় থকে দেড় বছরের এক শিশুর মরদেহ। ৭ জুন বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুবক জোবায়েরের (১৮) মৃত্যু হয়।
২৮ মে ফতুল্লায় শিশু ধর্ষণে অভিযোগে গণপিটুনির শিকার তরুণ হিরু ৬ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান। ২২ মে বিকেলে হিরুর বিরুদ্ধে একই এলাকার ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়লা গণপিটুনি দেয় । ২৭ মে সোনারগাঁয়ে বিকাশের সাড়ে ৮ হাজার টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে পিকআপচালক ও সহকারীর মধ্যে মারামারিতে সহকারী ইমন হাসানের (১৮) মৃত্যু হয়। ২৪ মে ফতুল্লা পঞ্চবটি পৌর টার্মিনালে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ট্রাকচালক সুমনকে (২৮) হত্যা করা হয়।
২০ মে রাতে আড়াইহাজারে মাটি কাটার দ্বন্দ্বের জেরে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনিকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সোনারগাঁয়ের দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১০ টাকা চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হলে তিনদিনের মাথায় ২০ মে মারা যান অটোচালক মো. মমিন। ১৯ মে তর্কের জেরে বন্দরের মদনগঞ্জে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় যুবক জুয়েল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
১৫ মে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জে ছোট ভাই মোহনকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বড় ভাই উজ্জল মিয়া। ১৩ মে সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মুক্তিশপুর এলাকায় সুতাব্যবসায়ী নজরুল ইসলামকে (৪৫) শ্বাসরোধ করে করা হয়। ৭ মে সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারীতে গার্মেন্টকর্মী বর্ষা আক্তারের (২০) অর্ধগলিত গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার হয়। ৬ মে শহরের নিতাইগঞ্জ কেরোসিন ঘাটে অজ্ঞাত এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া যায়।
২৫ এপ্রিল জেল খাটতে কেমন লাগে এমন অভিজ্ঞতা নিতে ফতুল্লা এলাকায় সমবয়সী ১১ বছরের ফুলবিক্রেতা শিশু হোসাইন হত্যা করে কিশোররা। ১৯ এপ্রিল বন্দরে মেরিন পশ্চিম ঘাটে এলাকায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। ৯ এপ্রিল সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের মিতালী মার্কেট এলাকায় গার্মেন্টকর্মীর বিপ্লব শেখ (২৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৮ এপ্রিল রূপগঞ্জে শিমুলিয়া কার্নিভাল ক্রু ঘাট এলাকায় অজ্ঞাত এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়। ৫ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের পিরোজপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শো-রুমের কর্মচারী লিটনকে (২৬) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
৮ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জে ছিনতাইয়ের সময় গণপিটুনিতে এক অজ্ঞাত যুবক নিহত হন। ৬ মার্চ ফতুল্লার পিঠালিপুলে মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে কুপিয়ে জখমের তিনদিন পর মারা যান সাব্বির নামের এক যুবক। ৫ মার্চ ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তারকে দুʼপক্ষের মারামারিতে ‘ন্যাড়া বাহিনী’র প্রধান রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবু মারা যান। ১ মার্চ রূপগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মাসুম মিয়াকে (২২) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে কারাগার থেকে বের হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফতুল্লায় মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন যুবক ইমন (৩৯)। ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজিতে নির্মাণাধীন ভবনের পানির ট্যাংকিতে পাওয়া যায় অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ। ৬ ফেব্রুয়ারি এক সপ্তাহ নিখোঁজের পর শহরের আমলাপাড়া এলাকার টয়লেট থেকে বিউটিপার্লারের মালিক ইতির মরদেহ উদ্ধার হয়।
১৮ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলীর নয়াপাড়া খালে ভাসতে থাকা ড্রামের ভেতর থেকে মো.আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৬ জানুয়ারি চুরি করতে দেখে ফেলায় রূপগঞ্জে ছুরিকাঘাতে হত্যা করায় আমেনা বেগম নামে নারীকে। ওই নারীকে হত্যার অভিযোগে এক যুবককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটুনি দিয়ে হত্যা করা করে স্থানীয়রা। ১২ জানুয়ারি ফতুল্লায় ইসদাইর রেললাইন এলাকায় রায়হান মোল্লা নামে এক বাবুর্চিকে সড়কের উপর কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৯ জানুয়ারি বন্দর থানা আমিরাবাদে তাওহিদ (২৬) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৭ জানুয়ারি ফতুল্লায় পাগলায় পুকুর থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর ৬ মাসে ৯ বার আক্রমণ :
গত ছয় মাসে অন্তত ৯ বার জেলায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ৪ জুলাই আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার এলাকায় হামলায় আহত হন পুলিশের এসআই নুরুজ্জামান মিয়া, কনস্টেবল শাহীন ও পুলিশের সোর্স মাসুম মিয়া ।
এর দুই দিন আগে ২ জুলাই বন্দরের হরিপুর ১১০ কেভি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরে শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাটে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য সৈকত মিয়া ও মো. মনিরুজ্জামান মুন্সির উপর ইঞ্জিচালিত নৌকায় করে আসা দুর্বৃত্তরা হামলা করে দুটি শটগান লুট করে নিয়ে যায়।
১৩ জুন ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মনির ওরফে ফাইটার মনির বাহিনীর হামলায় পুলিশের পাঁচ সদস্য এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন এবং কনস্টেবল আশিক আহত হন। ৬ মে বিকেলে ফতুল্লা থানার কাশিপুর থেকে আটক তিনজনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসময় কয়েকজন পুলিশের সদস্য আহত হন। এর একদিন আগে ৫ মে শহরের মাসদাইর বোয়ালিয়াখাল এলাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে র্যাবের তিন সদস্য এসআই নজিবুল, মাহী ও ইব্রাহীমকে কুপিয়ে জখম করে মাদকব্যবসায়ীরা।
৪ মে রূপগঞ্জে হত্যাসহ একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি বহিষ্কৃত যুবদল নেতা শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয়া হয়। হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এর তিনদিন আগে বন্দরের চৌধুরীবাড়ি এলাকায় ছিনতাইʼর অভিযোগের তদন্তে গিয়ে হামলার মুখে কনস্টেবল ফয়সাল ও এএসআই সোহেল রানা গুরুতর জখম হন। এ সময় পুলিশের একটি শটগান লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। গত ১৫ মার্চ সকালে শহরের গলাচিপায় রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল আরিফুল ইসলামের উপর হামলা করে তাদের থেকে কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ম্যানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। ৯ মার্চ ভোরে নাসিক নগর ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন সদর মডেল থানা পুলিশের এএসআই লুৎফর রহমান। এসময় তাঁর কোমড়ে থাকা পিস্তলটি লুট করে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
অপরাধে জড়াচ্ছে পুলিশ
গত ছয় মাসে চুরি, অপহরণের মতো অপরাধে পুলিশের সদস্য জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। ৪ জুলাই ফতুল্লার জামতলায় অভিযানের নামে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় পুলিশের এসআই খায়রুল বাশার ও কনস্টেবল আরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দুইজন সোর্সকে নিয়ে জামতলা ধোপাপট্টি এলাকায় মাদক উদ্ধারের জন্য সুমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে গহনা চুরি করেন।
১৯ জুন রূপগঞ্জে এক যুবককে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পুলিশের উপপরিদর্শক মামুন মাতুব্বর, এএসআই আমান উল্লাহ , কনস্টেবল কবির ও আকাশ আহাম্মেদ গণপিটুনির শিকার হন। পরে এই পুলিশ সদস্যদের চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী পুরোপুরি ব্যর্থ বলে মনে করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ঢাকা বিভাগ সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম। তিনি জানান, ‘আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর যখন হামলার ঘটনা ঘটে তখন সাধারণ মানুষ আরো অসহায় হয়ে পড়ে, উদ্বেগ বাড়ে। সৎ, সুশৃঙ্খল হলে কেউ তাদের উপর হামলা করবেনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন জানাবো, নারায়ণগঞ্জ শক্তিশালীভাবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী যাতে সাজানো হয়।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়াতেই এসব হত্যাকাণ্ড বেড়েছে বলে মনে করেন সামাজিক সংগঠন ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ এর সভাপতি হাজী নূর উদ্দিন মিয়া। তিনি বলেন, ‘আগের মতো আইনশৃঙ্খলা বর্তমানে নেই। যে কোন কারণেই হোক আইনশৃঙ্খলাবাহিনী আগের মতো শক্তিসামর্থ্য ও মনোবল নিয়ে তারা কাজ করতে পারছে না। এই সুযোগটিই দুষ্কৃতিকারীরা নিচ্ছে। প্রশাসনের প্রতি অপরাধীদের ভীতি হ্রাস পেয়েছে, নানা অপরাধ বেড়ে গেছে।এ থেকে উত্তোরণ চাইলে, এসব নিয়ে গভীরভাবে সরকারকে কাজ করতে হবে।’
হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, ‘ঘনবসতিপূর্ণ জেলা নারায়ণগঞ্জ। পারিবারিক কলহের কারণে, মাদকবাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, অন্য জেলা থেকে লাশ ফেলে যাওয়া ইত্যাদি কারণে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়ে যায়। ৫ আগস্টের পর থেকে মব কালচার বেড়ে গিয়েছিল, এখনো সেটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
জেলায় পুলিশ অনেকবার আক্রমনের শিকার হচ্ছে, এটি সত্য। এই পরিস্থিতি উত্তোরণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে ঘোষণাটি আসতে হবে। পুলিশের হাতে অস্ত্র দেয়া হয়েছে, সেটি ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে। আইনের বাইরে পুলিশ অস্ত্র ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্তমানে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।’