Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

রাজনৈতিক ট্যাগ পুঁজি করে পরিবহন চাঁদাবাজি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

রাজনৈতিক ট্যাগ পুঁজি করে পরিবহন চাঁদাবাজি

রাজনৈতিক ট্যাগ পুঁজি করে পরিবহন চাঁদাবাজি

Swapno



রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শহরের মিশনপাড়া চাঁদাবাজদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। এই মিশনপাড়ার উপর দিয়ে কোন পরিবহন (বাস) উর্টান নিতে নিলে রাজনৈতিক একটি সিন্ডিকেট চক্র দাবি করেন মোটা অংকের চাঁদা। দাবি না মানলে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগে উঠেছে এই চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে। যাকে ঘিরে অস্থিরতায় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।


সপ্তাহ খানেক পূর্বে মৌমিতা বাস থেকে মাসে ৯০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও প্রয়াত যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাই মহানগর বিএনপির সদস্য মাহাবুব উল্লাহ তপন , ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বরকত উল্লাহ এর বিরুদ্ধে। এর কিছুর পরই পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একটি পরিবহন গাড়ি আটকে রেখে শ্রমিকদের মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রয়াত যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাই মহানগর বিএনপির সদস্য মাহাবুব উল্লাহ তপনের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে বর্তমানে সমালোচনায় বিতর্কে মহানগর বিএনপির রাজনীতি।


এদিকে বর্তমানে মিশনপাড়ার রাজনীতি চাঁদা দিলে বাস ঘুরবে, না দিল ঘুরবে না। এটিই যেন মিশনপাড়ায় পরিবহন সেক্টর চক্রের অঘোষিত আইন। এখানকার পরিবহন সেক্টরের একাধিক স্পট থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে । ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের থেকে শুরু করে প্রশাসন ও প্রভাবশালীরা এসব চাঁদাবাজির কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাস, ট্রাক, অটোরিকসা, সিএনজিসহ বিভিন্ন পরিবহন থেকে নিয়ে এসব চাঁদা আদায় করা হচ্ছে ।


রিবহন চালকরা বাধ্য হয়েই এসব চাঁদার টাকা দিয়ে চলতে হচ্ছে। চাঁদার টাকা না দিলেই সড়ক গুলোতে পরিবহন চালাতে দিচ্ছেনা ওইসব চাঁদাবাজরা। এক প্রকার চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে পুরো পরিবহন সেক্টর। এ ঘটনার প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা, যার ফলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ আড়াইঘন্টা বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব মহানগর বিএনপির যুগড়¥ আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা বিষয়টি মিমাংসা করেন


গতকাল বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে শহরের ১নং রেলগেট এলাকায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘট শুরু করেন মালিক-শ্রমিকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা, আর প্রশ্ন উঠেছেÑকার দখলে শহরের সড়ক।


দুপুরে ধর্মঘটের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী সব যাত্রীবাহী বাস বন্ধ হয়ে যায়। এতে কর্মস্থলগামী ও বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। বন্ধন পরিবহনের এক পরিচালক জানান, কোম্পানির একটি বাসের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার রাতে বন্ধন পরিবহনের সাবেক এমডি ও বিএনপি নেতা মাহাবুবউল্লাহ তপন মিশনপাড়া এলাকায় বাসটি আটকে দেন। এর প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খানের অনুসারী এবং বন্ধন পরিবহনের বর্তমান পরিচালক শাহাদাত খান লিটন ও এমডি দেলোয়ার হোসেনের নির্দেশে তাঁদের অনুসারীরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।


সিটি বন্ধন পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা মালিকরা আজ চরমভাবে নির্যাতিত। মিশনপাড়ায় আমাদের গাড়ি আটকে রেখে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে গাড়ি ফেরত দেওয়া হবে নাÑএমন হুমকি দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের মারধর করে গাড়ির চাকা পাংচার করে ফেলে রাখা হয়েছে। এমনকি পুলিশ গিয়েও গাড়ি উদ্ধার করতে পারেনি। এটা কোন আইনের শাসন।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, তপন প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে এই রোড তার, এখানে নির্দিষ্ট পরিবহন চলবে না।এ ধরনের দখলদারী আচরণকে তিনি সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে ন্যায্য বিচার চাই। চাঁদাবাজদের কোনো আশ্রয় থাকতে পারে না। কিছুদিন পূর্বে এই তপন চক্র মিশনপাড়ায় মোমৗমিতা পরিবহন চাঁদার দাবিতে বন্ধ করে দেয়। সেই সময় যদি এটার বিচার হতো তাহলে আজকে তারা ফের এই চাঁদাবাজি করতে সাহস পেত না।


মহানগর শ্রমিকদলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। মাত্র ১০ দিন আগেও একইভাবে একটি গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছিলেন ডেভিডের ভাই তপন। তখন ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজকের ঘটনা ঘটতো না। এখন পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদার জন্য গাড়ি আটকে শ্রমিকদের মারধর করা হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তপনকে গ্রেপ্তার করা না হবে, ততক্ষণ নারায়ণগঞ্জে কোনো গাড়ি চলবে না।


এর আগে ২০২৪ সালের (২২ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও বন্ধন পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পরিবহন চাঁদাবাজ ডেবিডের ভাগিনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিতর্কিত আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানা, মামা মাহাবুবুউল্লাহ তপন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে শ্রমিক ইউনিয়নের দুই নেতাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুই পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সংঘর্ষে। এসময় ঘটনাস্থলের চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যান যানবাহন চলাচল। পরে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করে।


তা ছাড়া গত (২০ জুন) মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে মাসে ৯০ হাজার টাকা না পেয়েচাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেন ‘মৌমিতা পরিবহন’ এর নারায়ণগঞ্জের পরিচালক রফিজুল ওরফে কালা। তিনি টিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, গত ২ বছর যাবৎ মাসে ৯০ হাজার করে মৌমিতা বাসের চাঁদা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু গত ৩ মাস যাবৎ চাঁদা দেওয়া বন্ধ থাকায় মৌমিতা বাস না.গঞ্জ রুটে চলাচল বন্ধ করারও অভিযোগ তোলেন তিনি।


এ সময় টিপুর নির্দেশনায় ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বরকতউল্লাহ, সহ-সভাপতি, মহানগর বিএনপির সেক্রেটারির পিএস শাহাবুদ্দিন, শহিদ, সনি, মহানগর বিএনপির সদস্য মাহাবুবউল্লাহ তপন, হিরা সরদার, মাসুম, দুলাল ও জুলহাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর মাধ্যমে। বর্তমানে শহরে এই চাঁদাবাজ চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থা নেই দলীয় নেতৃবৃন্দ কিংবা প্রশাসনের। বর্তমানে মিশনপাড়ায় ‘পরিবহন চাঁদাবাজ’ চক্রে বাড়ছে বন্ধন-উৎসব-মৌমিতাসহ একাধিক বাস শ্রমিক ও পরিবহন মালিকদের আতঙ্ক।


সদর থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, মালিকদের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। পরে আমি এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশা মালিকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করি। এরপর বাস চলাচল শুরু হয়। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন