Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

নাসির হত্যার ঘটনাতেও টনক নড়েনি প্রশাসনের

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

নাসির হত্যার ঘটনাতেও টনক নড়েনি প্রশাসনের

নাসির হত্যার ঘটনাতেও টনক নড়েনি প্রশাসনের

Swapno



চাঁনমারি এলাকা নিয়ে নানাবিধ কুখ্যাতি থাকলেও মাদককারবারের কুখ্যাতি সর্বাধিক। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়টি চাঁনমারি এলাকাটি ঘেষে অবস্থিত হলেও বছরের পর বছর চাঁনমারি এলাকায় মাদকের হাঁট পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয়টি চাঁনমারি এলাকার দক্ষিণ পাশে অবস্থিত হলেও সর্বদাই পুলিশ প্রশাসন চাঁনমারি এলাকার মাদক কারবার বন্ধ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া বছরেও চাঁনমারি এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান হয় না।


সম্প্রতি মাদক ব্যবসা ও ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রয়ণকে কেন্দ্র করে চাঁনমারিতে নাসির হত্যা সংগঠিত হলেও চাঁনমারিতে পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যায়নি। অপরদিকে চাঁনমারিতে মাদক ব্যবসা নিয়ে লোমহর্ষক হত্যাকান্ড সংগঠিত হলেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এখনো মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না। সেই চাঞ্চল্য নাসির হত্যা মামলায় এখনো পুলিশ প্রশাসন তেমন কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি।


কারণ নাসির হত্যার দিনই স্থানীয় জনতার কৃতিত্বে নাসির হত্যায় সম্পৃক্ত ৪জন আসামী গ্রেফতার করলেও দীর্ঘ ১মাস অতিক্রম করে পুলিশের তদন্তের থাকা মামলাটির রহস্য উদঘাটন এবং প্রধান আসামীসহ মামলার অন্যান্য আরও ৬জন আসামীর একজনকেও গ্রেফতারে ব্যর্থ হয়েছেন পুলিশ।  


সূত্র বলছে, গত( ১৪ মে) দুপুর ১২ টা ৪৫ মিনিটে নাসির হোসেন চা পান করে ডিস গ্রাহকের কমপ্লেইন পেয়ে ‘ফ্রেন্ডস ক্যাবল’ অফিসে যান। পিছনে পিছনে নাসির হত্যার কিলার শরীফ এবং জুয়েল গিয়ে ক্যাবল অফিসের সামনেই ওত পেতে থাকেন। ক্যাবল অফিসে নাসিরের কর্মব্যস্ততাকে লক্ষ্য করে ক্যাবল অফিসে ডুকেই হত্যার উদ্দেশ্যে ছুড়ি এবং দেশীয় অস্ত্র বের করে গুরুতর জখম করে নাসির হত্যা নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা দৌড়ে পালিয়ে যান।


পরবর্তীতে ১টার দিকে অফিসের ভেতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে যান। অফিসের ভেতরে তারা নাসিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় নাসিরকে উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাশের বাড়ি থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহরের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। সিসিটিভির ফুটেজেও দেখা যায়, মহল্লার মূল রাস্তা দিয়ে একে একে শরীফ এবং জুয়েল দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এলাকাবাসীর বিভিন্ন বর্ণনায় জানা যায়, শরীফ,জুয়েলকে পালিয়ে যেতে সহায়াতা করেন শরীফের ভাই এবং চাচারা।


এদিকে ১৫মে শুক্রবার ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়- সেখানে  শরিফকে প্রধান আসামী করা হয়। পর্যায়ক্রমে অন্যান্যদের আসামী করা হয় জুয়েল (২০), আরিফ (৩০), সজিব (৩৬), শান্ত (২৮), নাঈম (২৫), মজিদ (৪২), আব্দুস সাত্তার বাবু (৫২), আবির (২৪) ও রুমি (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া মামলায় বলা হয়, আসামি শরিফ, রুমি সহ অন্যান্য কয়েকজন এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।


নিহত নাসিরের কারণে তারা এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছিল না। কয়েক মাস আগে ডিশ ক্যাবল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আব্দুস সাত্তার বাবুর সঙ্গে নিহত নাসিরের বাকবিতণ্ডা হয়। তখন সাত্তার বাবু ও তার ছেলে আবির নাসিরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে বাবুর ছেলে আবিরের সাথে প্রধান আসামী শরীফের ঘনিষ্ঠাতা ছিল। হত্যার মূল প্রতিপাদ্য উঠে আসে ডিশ ক্যাবল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনায় বাধা এর জেরেই রুমি,শরিফ,সাত্তার বাবুসহ অন্য আসামিরা পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন।


এদিকে ভিক্টিম পরিবারের সহযোগীতায় প্রধান আসামী শরিফের চার ভাই সজিব,শান্ত,আরিফ ও নাঈমসহ ৪জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও পুলিশ। প্রধান আসামী,শরীফসহ পরিকল্পনাকারী রুমি,বাবুসহ অন্যান্য আসামীদের করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এদিকে ৪ জন আসামী গ্রেফতারের পর ২দিনের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। তারপরও নাসির হত্যা মামলার অগ্রগতি ফিরেনি।


নাসির হত্যার প্রধান আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা অধরা থাকায় এখনো চানমারী এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। যেকোন সময়ে নাসির হত্যা নিয়ে চানমারী এলাকাবাসী আন্দোলনমুখী হতে পারেন। এছাড়া নাসির হত্যার মত এইরকম চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড সংগঠিত হওয়ার পরও চাঁনমারিতে এখনো মাদককারবার পরিচালিত হওয়াসহ নানারকম অপরাধ প্রবনতা লাগামহীন ভাবে চললেও প্রশাসনের অবস্থান একেবারেই নির্ভিকার।


এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী মো: শামীম যুগের চিন্তা বলেন, মামলার রহস্য উদঘাটন এবং আসামীদের গ্রেফতারে আমাদের তৎপরতা চলমান রয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই আসামীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হব।


Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন