# মাকে নিয়ে গালি দেয়ার প্রতিবাদ করায় টিপুর ঘুষিতে গাল কাটে ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আনোয়ারের
দিন দশেক যেতে না যেতেই এবার ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতাকে ঘুষি মেরে সমালোচনায় পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপু। মাকে নিয়ে গালি দেয়ার প্রতিবাদ করায় ওই ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকে ঘুষি মেরে গাল কেটে ফেলার ঘটনা ঘটিয়েছেন টিপু। শনিবার (৩০ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নে আলীরটেক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সাথে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আলীরটেক ইউনিয়নের বিএনপি নেতা আনোয়ার জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ, দোয়ার আয়োজন করে আলীরটেক ইউনিয়ন বিএনপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে দাওয়াত করা হয় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে।
অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে আমি সেলুনে চুল কাটতে বসছিলাম। চুল কাটা অর্ধেক হয়েছে এমন সময়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.টিপু আমাকে ফোন দিয়ে আমার মাকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমি তাকে বলি, অনুষ্ঠান শুরু হতে এখনো দেরী আছে, দুপুর দেড়টায় অনুষ্ঠান। অতিথিরা সাড়ে ১২টায় হাজির হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি কোন কথাই না শুনে আমাকে, আমার মা-বাবা নিয়ে গালিগালাজ করতে থাকে। আমি কোনমতে চুলকাটা রেখেই দ্রুত অনুষ্ঠানস্থলে চলে যাই।
সেখানে যাওয়া মাত্রই টিপু আমাকে দেখে গালিগালাজ করতে থাকেন। আমার মাকে নিয়ে গালিগালাজ করায় আমি প্রতিবাদ করি। তিনি আরো বিগড়ে গিয়ে আমার চোখ বরাবর ঘুষি মারেন, আমি সরে গেলে ঘুষিটা আমার গালের উপর লাগে। ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা এই ঘটনায় ফুঁসে উঠলে আমি কোনরকমে তাদের শান্ত করি। পরে দেখি, ঘুষিতে আমার গালের উপরে কেটে গেছে। আনোয়ার হোসেন জানান, মহানগর বিএনপির মতো বড় পদে এমন ব্যক্তি কোনরকমভাবে শোভা পায়না। কয়দিন আগে তিনি এক নারী আইনজীবীকে মারতে গেছেন, নারী আইনজীবীদের ‘নর্তর্কী’ বলে কটূক্তি করেছেন, সাংবাদিকদের সাথে মারামারিতে জড়িয়েছেন, এখন কর্মীরাও তার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা।
আনোয়ার হোসেন জানান, এই ঘটনা জানাজানির পর এড.টিপু আমাকে বারবার ফোন দিয়েছেন। তিনি আমাকে বলতে বলেছেন, আমি যাতে বলি তিনি আমাকে শাসন করেছেন। তিনি আমাকে ঘুষি মেরেছেন এই কথা তিনি আমাকে বলতে বারণ করেছেন। এই বিষয়ে মুখ খুলতে নিষেধ করেছেন। আমার মা-বাবাকে নিয়ে গালি দিয়েছেন, আমাকে মেরেছেন, গত ১৭ বছর বিএনপির সাথে থেকে এটাই আমার বড় প্রাপ্তি। আনোয়ার হোসেন বলেন, এড.টিপু যাকে তাকে ফ্যাসিস্ট, ফ্যাস্টিটের দোসর বলে ট্যাগিং করেন। আমি এইসব ঘটনার বিচার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চাই। তিনি ন্যায্য বিচার করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। টিপুর মতো নেতার হাত থেকে কর্মীদের বাঁচান এটুকুই দাবি জানাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপু বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল আলীরটেক বাজারে। একেকবার একেক জায়গার কথা বলেছে। আমরা তিনজন তিনদিকে চলে গেছি। এতে কিছুটা মেজাজ হারিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানস্থল নিয়ে হয়রানি করায় তাকে হালকা শাসন করেছিলাম। আমার হাতে আংটি ছিল, সেটা লেগে হয়তো কেটে গিয়েছে। ফ্যাসিস্টরা, ওসমানদের দোসররা এই ঘটনাকে বাড়িয়ে রঙচঙ মেখে বড় করছে। নেতাকর্মীদের শাসন করার অধিকার আমার আছে।’
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউছার আশা বলেন, ‘যাই ঘটুক, একজন কর্মীর গায়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতার গায়ে হাত তোলাটা সমীচিন হয়নি। এটি খুবই দুঃখজনক বিষয়।’
এবিষয়ে জানতে মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড.সাখাওয়াত হোসেন খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।