Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ডিস ব্যবসার পার্টনার-মাদককারবারীদের পথের কাঁটা সরাতে নাসিরকে হত্যা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

ডিস ব্যবসার পার্টনার-মাদককারবারীদের পথের কাঁটা সরাতে নাসিরকে হত্যা

ডিস ব্যবসার পার্টনার-মাদককারবারীদের পথের কাঁটা সরাতে নাসিরকে হত্যা

Swapno



শহরের চানমারী মাউরাপট্টিতে মাদক ব্যবসায় বাধার জের ধরে ডিস ব্যবসায় পার্টনার আব্দুস সাত্তার বাবু পুরো ব্যবসা দখলে নিতে ইন্ধন দিয়ে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে ঢুকে এর কর্ণধার নাসির হোসেন কুপিয়ে হত্যা করান এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী দ্বারা। যে দ্বন্দ্ব তুলে ধরে পরিবার দাবী করেন ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বের জের ধরে নাসিরকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে করে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী সায়মা আহম্মেদ। ইতিমধ্যে ফতুল্লা থানা পুলিশ মামলায় দায়েরকৃত ৪ জনকে গ্রেফতার করলে ও বাকিরা অধরা। দাপে দাপে উন্মোচন হচ্ছে রহস্য, শুধু মাদক ব্যবসায় বাধা ও ডিস ব্যবসা দ্বন্দ্বে পিছনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মহানগর কিংবা স্থানীয় কিছু নেতাদের ইন্দনও রয়েছে কিনা তা গুটিয়ে দেখা হচ্ছে।


সূত্র জানিয়েছে , মাদক ব্যবসায় বাধা ও ডিশ ব্যবসার দ্বন্দ্বেই বলি হয়েছেন নাসির। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ওই হত্যাকান্ডের পর দুই যুবককে দৌড়ে পালাতে দেখা গেছে। স্থানীয় কেউ কেউ বলছেন যারা পালিয়েছেন তাদের একজনের নাম শরীফ, অপরজন জুয়েল। হত্যাকান্ডের পর দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া কালো পাঞ্চাবী পড়িত শরিফ ও জুয়েল ছিলেন। তাদের মধ্যে শামীম ওসমানের ক্যাডার দাউদের ছেলে শরিফ পিচ্চি মানিক হত্যা সহ আরো তিনটি মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি ছিলেন শরিফ।


চানমারী স্ট্যান্ড ও মাউরাপট্টি এলাকাবাসী জানিয়েছেন, স্থানীয় মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের চারদিকে দীর্ঘ বছর ধরে মাদকের হাট পরিচালনা করেছেন রুমী আক্তারের নেতৃত্ব তার স্বামী লেবু মিয়া, বাবা মুক্কা ও ছোট ভাই ফজল সহ একদল মাদক ব্যবসায়ী। চাঁদমারী সবুজবাগ এলাকা রুমীর বসবাস থাকলেও মাউরাপট্টি, মাইক্রোস্ট্যান্ড ও এসপি অফিসের সামনে মাদক বিক্রি প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এই নিয়ে টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন করা হয়।


বিশেষ করে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়া পর একাধিক অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমান সরকার ক্ষমতা আসা পর ফের বেপরোয়া হয়ে উঠে রুমীর নেতৃত্বে মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় নাসির হোসেন। ইতোমধ্যে তাদেরকে এলাকায় বিক্রি না করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং নিজেই রুমীকে এমনকান্ডে নিষেধ করে ছিলেন নাসির। এমন সিদ্ধান্তে পরিবর্তনে নাসিরকে ম্যানেজ করার জন্য শরিফকে দায়িত্ব নিয়েছিলেন রুমী।


যাকে ঘিরে ম্যানেজ করতে রুমী তার লোক শরীফের মাধ্যমে চানমারী পঞ্চায়েত কমিটির সেক্রেটারী ও নিহত নাসিরের ভাই জাকির হোসনকে মাদক পরিচালনা থেকে প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা নাসিরকে দেয়ার প্রস্তাব করেন। তা ছাড়া নিয়মিত ৪০ হাজার টাকা দিবেন বলে ও জানান। এতে রুমী মাদক স্পট বন্ধ ও এসব থেকে সরে যেতে রুমীর নির্দেশনায় লোক শরীফ নাসিরের ভাই জাকিরকে জানান। কিন্তু এতে নাসির কোন মতেই রাজি হয়নি। যাকে ঘিরে এই বিষয়ে এলাকা জুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়।


সূত্র আরো জানিয়েছে, এলাকা মাদক ব্যবসার বড় বাধা নিহত নাসির এমনটাই শুনে ডিস ব্যবসায় পার্টনার বাবু তার সাথে থাকা দ্বন্দ্বের প্রতিশোধ নিতেই তার মাকদক সেবনকারী ছেলে আবিরের মাধ্যমে রুমীর মাদক কারবারির লোক শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি প্ল্যান মোতাবেক জের ধরেই গত বৃহস্পতিবার অফিসে ফাঁকা পেয়ে দরজা বন্ধ করে কুপিয়ে জখম করে হত্যা করা হয়।

জানা যায়, চানমারী মাউরাপট্টি ও আশেপাশে এলাকায় ডিস ও ইন্টারনেটের একাধিক ব্যবসার পয়েন্টে অফিস রয়েছে। সেগুলো ডিস বাবু, নাসিরের ভাই,ভাতিজা, ভাগিনা ও আস্থাভাজনদের দিয়ে পরিচালিত করা হয়। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর আব্দুস সাত্তার বাবু সাথে নাসির হোসেনের হিসেব নিকেশে অমিল দেখা দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেগুলো নিয়ে নাসির হোসেন চিন্তিত না থাকলেও প্রতিপক্ষরা ছিলো সুযোগ সন্ধানী। সেই সুযোগই ইতিমধ্যে কাছে লাগিয়েছে বলে ও মনে করছেন অনেকেই। এ ছাড়া ও এই কিলিং মিশনে অনেকেই বিভিন্নভাবে ইন্দন দিয়েছেন তা এবার প্রকাশ্যে ফুটে আসছে।
এ ঘটনায় নিহত নাসিরের স্ত্রী মামলা দায়ের করেন যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- শরিফ (৪০), জুয়েল (২০), আরিফ (৩০), সজিব (৩৬), শান্ত (২৮), নাঈম (২৫), মজিদ (৪২), আব্দুস সাত্তার বাবু (৫২), আবির (২৪) ও রুমি (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন।


মামলায় উল্লেখ করা হয়, “ফ্রেন্ডস ক্যাবল নেটওয়ার্কস” নামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন আসামি আব্দুস সাত্তার বাবু। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিহত নাছিরকে ব্যবসার কোনো হিসাব দিচ্ছিলেন না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সাত্তার বাবু নিহত নাছিরের ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসাটি এককভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।


এছাড়া মামলায় বলা হয়, আসামি শরিফ, রুমি সহ অন্যান্য কয়েকজন এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। নিহত নাছিরের কারণে তারা এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছিল না। কয়েক মাস আগে ডিশ ক্যাবল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আব্দুস সাত্তার বাবুর সঙ্গে নিহত নাছিরের বাকবিতণ্ডা হয়। তখন সাত্তার বাবু ও তার ছেলে আবির নাছিরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


ডিশ ক্যাবল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনায় বাধার জেরে সাত্তার বাবু, শরিফসহ অন্য আসামিরা পরিকল্পিতভাবে একত্রিত হয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, ইতোমধ্যে এজাহারনামীয় সজিব,শান্ত,আরিফ ও নাঈম সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।


Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন