সপ্তাহে একবার উইজডমে আসেন সেলিম ওসমান, রক্ষাকবচ কে?
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
সপ্তাহে একবার উইজডমে আসেন সেলিম ওসমান, রক্ষাকবচ কে?
ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরে সেলিম ওসমানের মালিকানাধীন উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড নামে গার্মেন্টস গত ৫ই আগষ্টের পর সেই গার্মেন্টস নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারাই নিয়মিত সেখানে আসা যাওয়া ও উইজডম পরিচালনায় করছেন সহযোগীতা। কিন্তু এই উইজডমে প্রতি সপ্তাহে একবার সেলিম ওসমান আসেন এমনটাই দাবি করেছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু। এদিকে শতাধিক মামলার আসামী হয়ে ও এখনো অধরা সেলিম ওসমান। বর্তমানে মহানগর বিএনপির এই বিষফোঁড়ক মন্তব্য নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিকমহলে উঠছে নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রশ্নে মুখে পরছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
তা ছাড়া মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু সেলিম ওসমান সপ্তাহে একবার আসেন কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে পরে না। কিন্তু গত ২ বছরেও তাকে এখনো গ্রেফতারের আওতায় আনা হয়নি যা নিয়ে উঠছে নানান প্রশ্ন। এদিকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী জাতীয় পার্টি নেতা সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জের ৭২টি ব্যবসায়ী সংগঠন শুধু জিম্মি করে নয় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন টেন্ডারবাজি, আইনজীবী সমিতি, সদর-বন্দরের সকল স্কুল-কলেজের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন এই দুর্ধর্ষ সেলিম ওসমান। তার নির্যাতনের খড়্গ পোহাতে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণের। এদিকে ২০১৪ সালে তৎকালীন জাতীয় পার্টির এমপি একেএম নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর ভাইয়ের কোঠায় সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্যের দায়িত্ব পান।
পরবর্তীতে সেলিম ওসমানের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। তবে এক দিকে সদ্য গত হওয়া সাংসদের ছোট ভাই হিসেবে ভক্তদের সহানুভূতি ও অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমর্থনে সে যাত্রা পার হয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের বড় থেকে বড় ব্যবসায়ী সংগঠন বিকেএমইএ সেই ২০১০ সাল থেকে এককভাবে ফ্যাসিস্ট সরকারের আজ্ঞাবহ ওসমান পরিবারের সেলিম ওসমানের দখলে ছিল। নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স দখলে ছিল সেলিম ওসমান তথা ওসমান পরিবারের আজ্ঞাবহ কর্মচারী খালেদ হায়দার খান কাজলের দখলে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশন ছিল সেলিম ওসমান-শামীম ওসমানের আরেক মাসেল ম্যান লিটন সাহার দখলে, নারায়ণগঞ্জ হোসেয়ারি সমিতি সেলিম ওসমানের কল্যাণে দখলে ছিল নাজমুল আলম সজলের।
মূলত এসব সংগঠনে নির্বাচন তো দূরের কথা সিলেকশনই ছিল মূল কথা। ২০১০ থেকে যারাই এসব বড় বড় ব্যবসায়িক সংগঠনে স্থান পেয়েছে তারা সবাই ছিল সেলিম ওসমান অনুগত। তা ছাড়া এই সেলিম ওসমান এককভাবে সকল ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতেন এবং সেখান থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজি করতেন। এর পাশাপাশি শামীম ওসমানসহ ভাতিজা আজমেরী ওসমান। সেলিম ওসমানের নামে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ব্যবসায়ীদের খড়্গ লাগিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করতেন। তার নির্যাতনে নারায়ণগঞ্জ ছেড়েছে বহু ব্যবসায়ী। তা ছাড়া বন্দরের সেলিম ওসমান কয়েকটি স্কুল স্থাপন করে সেগুলো নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া এই সেলিম ওসমানের নিয়ন্ত্রণেই ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি যা বর্তমান ওসমান মুক্ত রয়েছে। তা ছাড়া এই সেলিম ওসমানের দ্বারা নারায়ণগঞ্জের ৭২টি ব্যবসায়ী সংগঠনের ব্যবসায়ীরা নির্যাতিত শুধু তাই নয় নারায়ণগঞ্জের বহু সরকারি দপ্তর, স্কুলকলেজের প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ সকলেই তার দ্বারা নির্যাতনের শিকার। এদিকে গত ৫ আগস্টের পূর্বের সময় পর্যন্ত অসুস্থ থেকে ও তার লাঠিয়াল বাহিনী দ্বারা ছাত্র-জনতার উপরে গুলি চালিয়ে হত্যা করে ও সেই শত শত মামলার আসামি হয়ে ও দেশে অবস্থান করে গ্রেফতার এড়িয়ে রয়েছেন সেলিম ওসমান।
বর্তমানে সমালোচনা উঠছে কোনো ক্ষমতার জোরে এখনো সেলিম ওসমানকে গ্রেফতার করা হচ্ছে সেই সালোচনা ধারাবাহিকভাবে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক-সদস্য সচিব উঠালে ও সর্বশেষ সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো জরুরি পদক্ষেপ আসেনি। এদিকে গত বছরের (১৫ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানকে খুঁজতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফতুল্লার উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড কারখানায় ফতুল্লা মডেল থানার একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। কিন্তু এর পর থেকেই তার বিরুদ্ধে এখন আর কোন অভিযান লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও নারায়ণগঞ্জবাসীর জনমনে ক্ষুদ্ধতা বিরাজ করছে।


