Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

আইভীর মুক্তি বিএনপির চাপ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

আইভীর মুক্তি বিএনপির চাপ

আইভীর মুক্তি বিএনপির চাপ

Swapno



নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে থাকা হত্যাসহ ১০টি মামলায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে, আইভীর কারামুক্তিতে আইনগতভাবে আর বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার পক্ষে আদালতে শুনানি করা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু। আইভীর মুক্তিতে বাধা নেই সেই আভাসে বিএনপি শিবিরে নেমে এসেছে হতাশা। তা ছাড়া এমন সময় তার মুক্তি হলে এই প্রভাব পড়তে পারে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এমনটাই শোনা যাচ্ছে।


এদিকে গতকাল রোববার (১০ মে) দুপুরে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনগুলো খারিজ করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদেশের পর তিনি বলেন, “আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।” তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরও দুটি মামলায় হাই কোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে তিনি জানান। ওই দুই মামলার এজাহারে আইভীর নাম না থাকলেও তাকে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


সূত্র জানিয়েছে, আইভীর বিরুদ্ধে প্রথমে পাঁচটি মামলা হয় যেখানে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেগুলোতে জামিন পান। এরপর আরও পাঁচ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায়ও জামিন দেন আদালত। তারপর আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই দুই মামলায়ও জামিন হয়েছে। কিন্তু প্রথম দুই দফার ১০ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত হয়েছে। সর্বশেষ দুই মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানির অপেক্ষায়।


নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আইভী দেশের প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের মেয়র। ২০০৩ সাল থেকে নগরপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ অগাস্ট সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।
এর পরপরই গত বছরের (৯ মে) ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


এক বছর পার হলেও তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এদিকে মামলাগুলোর মধ্যে ৯টি হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যা মামলা। দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা। গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব মামলা হয়। অপর মামলাটি হচ্ছে গত বছর তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা। আইভীকে গ্রেপ্তারের পর প্রথমে তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এসব মামলায় অধস্তন আদালতে জামিন চেয়ে বিফল হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। সিদ্ধিরগঞ্জে আরও একটি হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র আইভী গ্রেপ্তার (১৩ এপ্রিল) ২০২৬ সিদ্ধিরগঞ্জে আরও একটি হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র আইভী গ্রেপ্তার


গত বছরের ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট ওই পাঁচ মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। এরপর ১২ নভেম্বর চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনগুলো এখনো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়। নতুন করে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হলে সাবেক এ সিটি মেয়রের কারামুক্তিতে আর বাধা থাকছে না। এমন সংবাদে দুপুর থেকেই আইভী শিবিরে উৎফুল্ল মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


এদিকে জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উঠছে নানা আলোচনা। তা ছাড়া দলীয়ভাবে আইভীর পর সিটি প্রশাসক হিসেবে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগর ভবনে নিজ কার্যালয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব বুঝে নেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। এর পর থেকেই একের পর এক চমক দিয়ে নগরীতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। তা ছাড়া বিগত দিনে আইভী না পারা শহরের হকার সমস্যা সমাধান করেছেন এই এড. সাখাওয়াত।


কিন্তু এরপরে ও আইভীর মুক্তির গুঞ্জন বিএনপি‘র শিবিরে হতাশা বিরাজমান হয়েছে। তা ছাড়া বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী আলোচনা একই সাথে আইভীর মুক্তির গুঞ্জন। দুটি এক কাতারে নিয়ে চিন্তায় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সরকারের সঙ্গে ম্যানেজ করেই কি আইভী পাচ্ছেন মুক্তি এমন গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন