Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

জননিরাপত্তা হুমকিতে ফেলে বহুতল ভবন নির্মাণ

চাষাঢ়া বালুর মাঠে ক্রেন স্থাপন নিয়ে গুরুতর আইনগত প্রশ্ন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

চাষাঢ়া বালুর মাঠে ক্রেন স্থাপন নিয়ে গুরুতর আইনগত প্রশ্ন

চাষাঢ়া বালুর মাঠে ক্রেন স্থাপন নিয়ে গুরুতর আইনগত প্রশ্ন

Swapno


নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ততম এলাকা চাষাঢ়া বালুর মাঠ সংলগ্ন সড়কের পাশে একটি বহুতল ভবন নির্মাণকাজে সু-উচ্চ ক্রেন স্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই ভারী যন্ত্র পরিচালনা করছে। প্রতিদিন হাজারো পথচারী ও যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করলেও সেখানে নেই কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী, ওভারহেড প্রটেকশন নেট, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড কিংবা বিকল্প নিরাপদ চলাচল ব্যবস্থা।


স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু অবহেলা নয়—বরং জননিরাপত্তার প্রতি চরম দায়িত্বহীনতা এবং আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কোন কোন আইন লঙ্ঘিত হতে পাওে ১. বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (ইঘইঈ) বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুযায়ী, নির্মাণকাজ চলাকালে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে নির্মাণসাইট ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন, পথচারীদের জন্য ওভারহেড প্রটেকশন, বিপজ্জনক এলাকা চিহ্নিতকরণ, ভারী যন্ত্র পরিচালনায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এসব বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ।


এগুলো না থাকলে তা সরাসরি কোড লঙ্ঘনের শামিল। ২. শ্রম আইন, ২০০৬ বাংলাদেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর আওতাধীন শ্রম আইন অনুযায়ী, যেকোনো নির্মাণকাজে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। ক্রেন পরিচালনায় নিরাপত্তাহীনতা প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠতে পারে। ৩. দণ্ডবিধি (চবহধষ ঈড়ফব) বাংলাদেশ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অবহেলাজনিত বিপজ্জনক কাজের মাধ্যমে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হতে পারে।


প্রশ্নের মুখে তদারকি সংস্থাগুলোর ভূমিকা
স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা ব্যস্ত সড়কের পাশে পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কোনো দৃশ্যমান তদারকি নেই। অথচ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এসব সংস্থার দায়িত্ব ছিল নির্মাণকাজের নিরাপত্তা মান যাচাই ও জনসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে যদি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া দিনের পর দিন এ ধরনের কাজ চলতে থাকে, তাহলে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো কি তাদের দায়িত্ব পালন করছে, নাকি রহস্যজনক নীরবতা বজায় রেখেছে?


জনস্বার্থে জরুরি দাবি, ১. অবিলম্বে নির্মাণসাইটে নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ওভারহেড নেট স্থাপন ২. ক্রেন পরিচালনায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ ৩. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পরিদর্শন ৪. জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা ৫. দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।


সুতরাং  উন্নয়ন কখনোই মানুষের জীবনের ঝুঁকির বিনিময়ে হতে পারে না। একটি ক্রেনের সামান্য ত্রুটি, ভারসাম্যহীনতা বা নির্মাণসামগ্রী নিচে পড়ে গেলে মুহূর্তেই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে এখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। জননিরাপত্তা রক্ষা রাষ্ট্র ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন