তোলারাম কলেজের নবীনবরণ নিয়ে তিন ছাত্র সংগঠনে উত্তেজনা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
তোলারাম কলেজের নবীনবরণ নিয়ে তিন ছাত্র সংগঠনে উত্তেজনা
# সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতঙ্কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা
# ছাত্রদলের ভাইয়ের ছাত্রলীগ হতে চাচ্ছে: আমিনুল
# অনুষ্ঠানকে বাঞ্চাল করতে চেয়েছিল : জিয়া
ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়সহ সারাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে অস্থিরতা চলছে। তারই ছোঁয়া পড়েছে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে। গত ১৬ বছর যাবত শহরের তোলারাম কলেজকে জিম্মি করে শিক্ষার পরিবেশকে উন্নত না করে শামীম ওসমানের ছাত্রলীগ বাহিনীর টর্চার সেল বানিয়েছিল এখানে।
কিন্তু জুলাই আন্দোলনের পরে এককভাবে পেশি শক্তি কায়েম করে শিক্ষার্থীদেও কেউ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। যদিও নির্বাচনের পরে ক্ষমতাসীন দল নিয়ন্ত্রণ নিতে নানাভাবে চেষ্টা করে আসলেও তারা তা অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের বাধার কারণে তা পেরে উঠছে না। তবে গতকাল ৭ মে নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠান নিয়ে শিক্ষার্থী সহ ছাত্র সংগঠন গুলোর মাঝে উত্তেজনা তৈরী হয়।
এদিকে দীর্ঘদিন পর নারায়ণগঞ্জের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান সরকারি তোলারাম কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ শুক্রবার।মজার বিষয় হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নবীন বরন অনুষ্ঠান স্বাভাবিক ভাবে কলেজ খোলার দিনে হয়ে থাকে। কিন্তু শুক্রবারে তেমনভাবে তোলারাম কলেজের নবীন বরণ হয় নাই। আর এজন্য এই অনুষ্ঠান নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝর। অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নানা আলোচনা সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীই এই আয়োজন নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। অন্যান্য ছাত্র শক্তির বন্ধের দিনে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও তাতে কর্ণপাত করা হয় নাই।
জানা যায়, শুক্রবার ৮ মে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কলেজ প্রাঙ্গণে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
কিন্তু এই আয়োজনটি শুক্রবার জুম্মার দিনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই জুমআর দিনে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ভালোভাবে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে কলেজের পাশেই রয়েছে মসজিদ। মসজিদকে পাশে রেখে জুমআর দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এছাড়া বিগ্ম ঘটতে পারে জুময়ার নামাজে এমন ধারনা করা হচ্ছে
অপরদিকে সকালে ১১ টার দিকে তোলারাম কলেজের নবীন বরণ নিয়ে অনুষ্ঠান নিয়ে এনসিপির সহযোগি সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি,ছাত্র শিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সাথে তোলারাম কলেজ ছাত্র দলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া মিলে তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলামের সাথে উত্তেজনা তৈরী হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বন্ধের দিন নবীন বরন অনুষ্ঠান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় ছাত্র দলের জিয়াকে উদ্দেশ্য করে শিক্ষার্থীরা ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দেন। বিপরীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গুপ্ত বলে স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগানের মাধ্যমে উত্তেজনা তৈরী হয়।
জেলা ছাত্রশক্তির আহবায়ক মাহফুজ খান বলেন, আমরা হঠাৎ করে জানতে পারি মহানগর ছাত্র সভাপতি প্রার্থী আজিজুল ইসলাম রাজিব শিক্ষকদের সাথে উপস্থাপনায় থাকবেন। আমরা বলেছি শিক্ষকদের সাথে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী উপস্থাপনায় থাকবেন। আমরা বিগত সময়ে দেখিছি ওয়ন ওসমানের ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ তোলারাম কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানের স্টেজ দখল কওে রেখে নিজেদের অনুষ্ঠান বানিয়ে ফেলত। ছাত্রদলের তারাও একই পথে হাঁটছে। এই বিষয়ে আমরা শিক্ষকদের সাথে বসে আলোচনায় কোন সমাধান না পেয়ে সংবাদ করতে গেলে ছাত্র দলের নেতারা বাধা প্রদান করেন। তারা সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ করতে দেন নাই। এমনকি কলেজের অধ্যক্ষ এসে বলে আমরা যেন এখান থেকে সরে সংবাদ সম্মেলন করি।
মহানগর জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের ভাইয়ের জুলাই আন্দোলনে আমাদের সাথে ছিল। কিন্তু তারা এখন ক্ষমতায় আসার পরে ছাত্রলীগের মত আচরন করছে শিক্ষার্থীদের সাথে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাবো। কিন্তু কেউ যদি পেশি শক্তি কায়েম করতে আসে তাহলে তাদের ছাত্রজনত্র নিয়ে প্রতিহত করা হবে।
তোলারাম কলেজের ছাত্র দলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া বলেন, আমরা সকলের সাথে সমন্বয় করে নবীন বরণ নিয়ে অনুষ্ঠানের আলোচনা হয়। একটা অনুষ্ঠান হতে হলে বন্ধের দিন হতে হয়। তাছাড়া খোলার দিন নানা পরীক্ষা থাকে। তারা এই অনুষ্ঠানকে বাঞ্চাল করতে চেয়েছিল। শুক্রবার অনুষ্ঠান হবে। তাছাড়া বিগত সময়ে সরকারি তোলারাম কলেজের নবীন বরণ বরণ বৃহস্পতিবার আয়োজন করা হতো। অনুষ্ঠানের পরদিন ছুটি থাকতো। শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিতেন। কিন্তু এবারের শুক্রবার ছুটির দিনে জুম্মার দিনে আয়োজন ভালোভাবে নিতে পারছেন না।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক করা হয়। আর এ বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনুষ্ঠানে আয়োজন নিয়ে তেমন প্রভাব না পড়লেও বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিকে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। যদিও বাধ্যতামূলক উপস্থিতিকে শিথিল করা হয়েছে। সেই সাথে শিক্ষার্থীরা ইচ্ছা করলে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নাও করতে পারবেন। তাদের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
তবে একই দিনে তোলারাম কলেজ থেকে ৩০০ গজ দুরে মাসদাইর কবরস্থান মসজিদে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারি জুম্মার নামাজ আদায় করবেন বলে জানিয়েছে। সেখানে অনেক শিক্ষার্থীরা তার সাথে দেখা করবে। আর এতে করে তোলারাম কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করছে সচেতন মহল।
সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার নবীন বরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করার কোনো ইচ্ছা ছিলো না। কিন্তু এখন কলেজের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলমান রয়েছে। যার কারণে কর্মদিবসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সুযোগ নেই। আমরা চেয়েছিলাম শনিবার নবীন বরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য। কিন্তু এদিনও আমাদের অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন না। তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম রয়েছে। যার কারণে আমরা বাধ্য হয়েই শুক্রবার নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হচ্ছে। ’


