Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

Swapno



# পুলিশ একটিভলি কাজ করছে, অবনতির কিছু দেখি না : পুলিশ সুপার
# এমন সংবাদে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক বেড়ে যায় : আফজাল হোসেন পন্টি



সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলার বেশ কয়েকটি জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত  পুলিশ-র‌্যাব সদস্যদের উপর গত একমাসে বারবার হামলার ঘটনাকে সুধীসমাজ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মনে করছেন। গত ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে পুলিশ ও র‌্যাবের উপর হামলার ঘটনাকে এই আশঙ্কাকে আরো প্রকট করে তুলেছে। তবে এসব ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বলতে নারাজ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।


সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে শহরের মাসদাইর বোয়ালিয়াখাল লিচুবাগ এলাকায় আসামি ধরতে ও মাদকবিরোধী অভিযানে র‌্যাবের উপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এসময় র‌্যাবের তিন সদস্যকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে মাহী ও ইব্রাহীম নামে র‌্যাবের দুই সদস্যকে নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গুরুতর আহত এস.আই নজিবুলকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। যদিও এই ঘটনার পর র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা আটঘাট বেঁধে হামলাকারীদের ধরতে মাঠে নেমেছে।


এই ঘটনার মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যে সোমবার (৪ মে) দিনগত রাত আড়াইটায় রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয়। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার এ ঘটনা ঘটে। হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযানে গিয়ে শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় তার অনুসারীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এক পর্যায়ে তারা পুলিশের পিকআপ ভ্যানের চাকা কেটে দেয় এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। পরে হামলা চালিয়ে শামীমকে ছিনিয়ে নেয়।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে হামলাকারীদের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন। পরে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে শামীমের স্ত্রী সাথী আক্তারসহ ১৩ জনকে আটক করে।


এই ঘটনার মাত্র চারদিন আগে ৩০ এপ্রিল মাদকবিরোধী অভিযান ও ছিনতাইয়ের অভিযোগের তদন্তে গিয়ে টহল পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের একটি শর্টগান ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। চার ঘণ্টা পর অভিযান চালিয়ে পরদিন ভোরে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) ভোরে বন্দর উপজেলার পুরান বন্দর চৌধুরী বাড়ী এলাকার হাবিব নগর রোডের একটি বেল গাছের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিনতাইকৃত শর্টগানটি উদ্ধার করা হয়।


এই ঘটনায় পুলিশ জানায়, রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই (নিরস্ত্র) মো. সোহেল রানা সঙ্গীয় ফোর্সসহ লিমা-৪ টহল ডিউটিতে ছিলেন। এ সময় সিফাত ওরফে টুটুল (২৮), শাহারিয়া তানভীর (২৯) ও আবু সুফিয়ান ওরফে চমক (২৯) নামে তিন ব্যক্তি তাদের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল হাবিব নগর রোডের গুলু মিয়ার বাড়িতে প্রাথমিক তদন্তে গেলে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া ১৪-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা কনস্টেবলের কাছে থাকা সরকারি শর্টগান ছিনিয়ে নেয়। পরে তা উদ্ধারসহ তিনজনকে আটক করে।


গত ৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরে ছিনতাইয়ের শিকার হন দায়িত্বরত পুলিশের একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান। ছিনতাইকারীরা তার সরকারি পিস্তলটিও লুট করে নেয়। সকাল পৌনে ছয়টার দিকে বিবি রোডে নিতাইগঞ্জ এলাকায় নগর ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসমিন আক্তার এই ঘটনা জানান, ছিনতাইয়ের শিকার সেই পুলিশ সদস্য অন-ডিউটিতে ছিলেন। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি টয়লেট ব্যবহারের জন্য টিমের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তার সঙ্গে নিজের মোটরসাইকেলও ছিল। পথে তিনজন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে এবং তার সঙ্গে থাকা সরকারি পিস্তলটি লুট করে নিয়ে যায়।” ঘটনার সময় ওই পুলিশ সদস্য পুলিশের পোশাকে ছিলেন।’


এরআগে শহরের জিমখানায় ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাতে জিমখানা রেলওয়ে কলোনিতে পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। যদিও এ ঘটনায় পরবর্তীতে মাদক কারবারি আলম চানসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


পুলিশ ও র‌্যাবের উপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগেও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর আক্রমনের ঘটনায় তারা ব্যাপক তৎপরতা দেখাতো, চিরুণী অভিযান পরিচালনা করতো। তবে এখন সেসব কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। এটি আমাদের আতঙ্কিত করে, কেননা সন্ত্রাসীরা যদি নিশ্চিত হয়ে যায়, পুলিশ-র‌্যাবের উপর আক্রমণ করে পার পাওয়া যায়, সেসব ক্ষেত্রে আমাদের সাধারণ মানুষের আতঙ্ক আরো বেড়ে যায়।’


অপরাধীরা কোন দলের সদস্য হলে শুধু তাদের ‘বহিষ্কার’ কোন শাস্তি হতে পারে না বলে মনে করেন আফজাল হোসেন পন্টি। তিনি বলেন, ‘এটি হাস্যকর, যে অপরাধ ধরা পড়লে তাকে বহিষ্কার করা হবে। আবার দুই তিন মাস পর দলে টেনে নেওয়া হবে। যে দল ক্ষমতায় থাকবে তাদের দায়-দায়িত্বও বেশি। অপরাধীদের ব্যাপারে যে কোন দলের জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া দরকার।’


তবে এসকল ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বলতে নারাজ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। তিনি বলেন, ‘এসকল হামলার ঘটনা পরিকল্পিত বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে না। কারণ আমরা আসামী ধরতে যাচ্ছি, ধরতে যাওয়ার পরে দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। সেখানে আমরা আসামীকেও পাকড়াও করেছি, শুধু একটা ক্ষেত্রে আমরা ধরতে পারিনি। গতকালকে রাতে যে ঘটনা ঘটেছে, এটাও ধরেছি, বন্দরেরটাও ধরেছি। আজকে র‌্যাবের যে ঘটনা, সেখানে তাদের একটি সিস্টেম রয়েছে। ’


পুলিশ সুপার জানান, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির যে কথাটা বলা হচ্ছে। আসলে প্রতিনিয়ত আমাদের পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান চলছে। এই বিশেষ অভিযানের পার্ট হিসেবে আমাদের প্রচুর মাদক উদ্ধার হচ্ছে। এখন পুলিশ খুব একটিভলি কাজ করছি। সুতরাং আইনশৃঙ্খলার অবনতি আমরা বলবো না, কারণ আমাদের উদ্ধার অভিযান তো চলছে। এখানে আমরা অবনতির কিছু দেখি না।’  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন