সন্দেহের তীর প্রধান আসামী রানা এবং সহযোগী আলীর দিকে
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
আলোচিত শুভর মৃত্যুর এক মাস অতিক্রম না হতেই মৃত্যু ঘটেছে শুভর মা বাদী মাকসুদা বেগমের। ছেলে শুভ হত্যার মামলার বাদী মা মাকসুদার মৃত্যুতে এবার জনমনে প্রশ্ন উঠেছে শুভর মায়ের ‘পরিকল্পিত হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে’? শুভ অপহরণের মামলার বাদী হয়েছিলেন মা মাকসুদা বেগম এবং ছেলে হত্যার পর বিচারের জন্য মা মাকসুদা যেখানেই যেতেন অলৌকিকভাবে শুভ হত্যাকারীদের নিকট তথ্য চলে যেত। এছাড়াও মা মাকসুদা বেগম শুভ হত্যার পর দাবি করেছিলেন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা রানাকে প্রধান আসামী করায় বিভিন্ন ভাবে প্রশাসনের মাধ্যমেও প্রেসার দেয়া হচ্ছিল রানার নাম মামলা থেকে বাদ দেয়ার জন্য এমন অভিযোগ উঠে। এধরণের প্রেসারে মাকসুদা বেগমও তার পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছিলেন। এরমধ্যেই আকস্মিকভাবে অটোর সাথে কাপড় পেঁচিয়ে তার মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, ২ এপ্রিল আনুমানিক বেলা ৩টার দিকে ফতুল্লার স্টেডিয়াম এলাকা দিয়ে অটো যোগে ফেরার পথে অটোর সাথে কাপড় পেঁচিয়ে মৃত্যু ঘটে মাকসুদা বেগমের। শুভর পরিবার মা মাকসুদা বেগমের মৃত্যুর খবর রহস্যজনক কারণে প্রচার না করেই এক প্রকার তড়িগড়ি করে লাশ দাফন সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি শুভর পিতা সোহেল কারো সাথেই স্ত্রী মাকসুদার মৃত্যুর ঘটনা শেয়ার করছে না। তাছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেই স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানতে চাওয়া হলে পরে জানাবেন বলে আর ফোন ধরেন না। এতে করে শুভ হত্যা মামলার বাদী মা মাকসুদার আকস্মিক মৃত্যু বরাবরই সন্দেহর তীর প্রধান আসামী নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক রানার দিকে যাচ্ছে। কারণ এখনো প্রধান আসামী রানা গ্রেফতার এড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে গোপনে বিচরণ করলেও প্রশাসন রানাকে চোখে দেখছে না।
এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের হকার উচ্ছেদ এবং একটি খেলার অনুষ্ঠানে স্বশরীরে রানাকে উপস্থিত দেখা গেলেও প্রশাসন তার পক্ষে স্টেটমেন্ট দিয়েছিলেন এখনো তদন্ত প্রক্রিয়াধীন তদন্তের দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। এদিকে গত ৩০এপ্রিল শুভর মা মাকসুদা বেগম জানিয়েছিলেন, ‘প্রথমে সকলেই আমার ছেলে হত্যার পর সহনাভূতি দেখালেও ধীরে ধীরে কেন যেন সকলের মুখই বন্ধ হয়ে গেল এবং আমার ছেলে হত্যার ঘটনায় বিচার কার্যের বিষয় নিয়ে প্রশাসন থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে নীরব ভূমিকায় চলে গিয়েছে। তাই আমিও নীরব। প্রশাসন ময়না তদন্তের রিপোর্টটা দিচ্ছেনা। আমাদের সাথে প্রশাসন বিভিন্ন তালবাহানা করে যাচ্ছে রিপোর্টটির বিষয়ে। এর ঠিক দুদিন পরেই আকস্মিক ভাবে মৃত্যু ঘটে মাকসুদা বেগমের। শুভর পর এক মাসের ব্যবধানে শুভ মায়ের মৃত্যুতে শহরজুড়ে তীব্র আলোচনা সমালোচনা চলছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে চাঞ্চল্যকর শুভ হত্যার ঘটনা সূত্রপাত ঘটে এবং শুভর হত্যার পর প্রশাসনের ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। কারণ শুভ হত্যা মামলার আসামীরা কেউ প্রকাশ্যে কেউ গোপনে নারায়ণগঞ্জে বিচরণ করলেও আসামীদের নজরদারী করতে পারছে প্রশাসন। শুভ হত্যায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা ক্ষোভে ফুঁসছে জনগণ।
এ বিষয়ে শুভ হত্যা মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসই মিলন ফকির জানান, শুভ হত্যার বিচারকার্য চলমান থাকবে। পাশাপাশি তার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টিও আমরা তদন্ত করে দেখব, আসলেই স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে কিনা?
এ বিষয়ে শুভর পিতা সোহেলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ চেষ্টা করা হলেও তার সাথে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।


