হকার পুনর্বাসনে ফুটপাত নয়
হকার উচ্ছেদ এবং পুনর্বাসন ইস্যুটি সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সকলের সমর্থনে ১৩ এপ্রিল শহরের ফুটপাত এবং বিভিন্ন রাস্তার অংশবিশেষ হকারমুক্ত করা হয়। যানজটময় শহরে এর ইতিবাচক প্রভাব বেশ লক্ষ্যণীয়। অনেকের আশংকা এমন অবস্থা কতদিন থাকবে! এমন আশংকার মাঝেই ২০ এপ্রিল পুনর্বাসনের দাবিতে দু‘একটি রাজনৈতিক দলের স্বল্প সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে হকাররা মাঠে নামে।তাদের দাবি পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা যাবে না।
এমন দাবি সমালোচনার মুখে পড়ায় রাজনৈতিক দলের নেতৃস্হানীয় কাউকে দেখা না গেলেও আন্দোলন থেমে নেই।গুঞ্জন রয়েছে সুবিধাভোগী মহল আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।সিটি করপোরেশন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে ফুটপাত এখনও হকারমুক্ত রয়েছে।এমন ঐক্য ধরে রাখতে পারলে নারায়ণগঞ্জের সব সমস্যাই সমাধান করা সম্ভব বলে বিজ্ঞজনদের অভিমত।
এসব দেশে ছুটির দিনে স্কুল কলেজ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের খোলা জায়গা বা খেলার মাঠে অস্হায়ী বাজার বসে।কম ব্যস্ত সড়কে সন্ধ্যার পর হকারদের ব্যবসা করার সুযোগ দেয়া হয়। সারারাত ব্যবসা করে সকাল হওয়ার সাথে সাথেই সব রাস্তা আগের অবস্থায় ফিরে যায়।জনবহুল নারায়ণগঞ্জে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কি না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখতে পারেন।ব্যস্ততম সড়ক ছাড়া কিছু কিছু সড়কে সন্ধ্যার পর থেকে পরীক্ষা মূলক ভাবে হকার বসতে দিয়ে ফলাফল দেখা যেতে পারে।
ইতিবাচক হলে একরকম, উল্টো হলে অন্যরকম সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ থাকছে। ছুটির দিনেও এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ হতে পারে বিকল্প অস্হায়ী বাজারের স্হান।যে ব্যবস্থায় অস্হায়ী বাজার বসালে নগরবাসীর দুর্ভোগ হবে না তেমন পরিকল্পনা সুফল বয়ে আনবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।আয়তনে ছোট শহরটি জনসংখ্যার চাপে বিপর্যস্ত,যানজট সার্বক্ষনিক সমস্যা।ফুটপাতে হাঁটা চলা দুষ্কর।শহরটি শৃঙ্খলায় আনতে ফুটপাত এবং রাস্তা হকারমুক্ত রাখার কোন বিকল্প নেই।
একথা ভুললেও চলবে না স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষগুলোর অধিকাংশই হকারদের ওপর নির্ভরশীল।হকার পুনর্বাসনে মানবিক কারণ যেমন রয়েছে পাশাপাশি বিশাল সংখ্যক হকার নির্ভর ক্রেতার কথাও ভাবতে হবে।বিকল্প ব্যবস্থায় প্রকৃত হকারদের পূণর্বাসন করা হলে প্রকারান্তরে স্বল্প আয়ের মানুষগুলোও উপকৃত হবে।এমন বাস্তবতায় প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নীতিমালা প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়ন,যেখানে সবার স্বার্থই সংরক্ষিত হবে।
কম জনবহুল দেশগুলোর মত পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা আমাদের নেই তাই হুবহু সেসব দেশের মত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব না হলেও তাদের আদলে কিছুটা পরিবর্তিত রূপে হকার পূণর্বাসন অসম্ভব নয় বলেই সচেতন মহলের ধারণা।দলমত নির্বিশেষে সকল পক্ষের ঐকমত্য ছাড়া সমস্যার স্হায়ী সমাধান কখনই সম্ভব নয়।হকার পূণর্বাসন নিয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করবে না। তাই বলে যান চলাচল বন্ধ করে রাস্তা দখল,হাঁটার রাস্তা বন্ধ করে ফুটপাত দখল, কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
এমন দাবি নিয়ে সামাজিক আন্দোলন বা রাজনীতি করারও সুযোগ নেই,যে বা যারা এমনটি করবেন তারা কারও সমর্থন পাবেন না বরং গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।বৃহত্তর জনস্বার্থে জনগণের পাশে থেকে,হকার পূণর্বাসনের যৌক্তিক দাবি অধিক গ্রহনযোগ্য হবে।যে কোন গ্রহণযোগ্য বিকল্প ব্যবস্থা সর্বস্তরের মানুষ অবশ্যই সমর্থন করবে। তবে তা কোনভাবেই রাস্তা এবং ফুটপাতের বিনিময়ে নয়।ফুটপাত হবে শুধুমাত্র নিরাপদ হাঁটাচলার জন্য, হকারদের জন্য নয়। লেখক: বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি ও পোশাক শিল্পের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা।


