শহরে হকারের পর বেড়েছে অটোরিক্সা চালকদের দাপট
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
শহরে হকারের পর বেড়েছে অটোরিক্সা চালকদের দাপট
নগরীর অলিগলি ছাড়িয়ে প্রধান সড়কেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এলাকাভিত্তিক সড়কে চলাচলের অনুমতি থাকলেও এসব রিকশা এখন নির্ভয়ে চলছে ব্যস্ততম সব রাজপথে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি তীব্র হচ্ছে যানজট। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এই যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নিয়মিত ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট প্রশ্ন উঠছেÑ এই বিশৃঙ্খলার লাগাম টানবে কে, আর কবে কার্যকর হবে আইনি নিয়ন্ত্রণ?যা নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে নানা প্রস্তুতি নিলে ও এখনো হচ্ছে না কার্যকর।
এদিকে চলতি মাসের ( ১৩ এপ্রিল) নগরীর সর্বময় মহলকে নিয়ে হকার উচ্ছেদ করা হয়। গত তিন চার দিন যাবৎ শহরের মানুষ ফুটপাতে চলাচল করে স্বাচ্ছন্দ অনুভব করছে। নগরবাসি থেকে এবার দাবী উঠেছে শহরে যেভাবে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করে লাগাম টেনে ধরা হয়েছে, ঠিক একইভাবে অবৈধ অটো-মিশুক চালকদের লাগাম টেনে ধরলে যানজট নিরসন সম্ভব হয়ে যাবে। তাছাড়া শহরের যানজট নিরসনের এবার বেপরোয়া লাগামহীন অটোচালকদের লাগাম টেনে ধরা সময়ের ব্যাপার। হকার উচ্ছেদ হওয়ায় ফুটপাতে শহরে মানুষ স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারলেও যানজট নিয়ে বিরক্ত বাড়ছে। কেননা অতিরিক্ত অটো মিশুক শহরের বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে।
তাদেরকে সঠিক ভাবে শৃঙ্খলায় আনায় এখন সময়ের দাবি। তা ছাড়া ইতিমধ্যে বার বার সিটি প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান হকার উচ্ছেদের পরপরই অটোরিক্সা নিয়ন্ত্রণে লাগাম টানার ঘোষণা দিলে ও তা এখনো হয়ে উঠছে না। সিটি সূত্র জানিয়েছে, অন্তবর্তীকালীন সরকারের নিয়োজিত প্রশাসক নারায়ণগঞ্জ শহরে ১৭ হাজারের বেশি অটোরিকশার অনুমোদন দেয়া হওয়ায় এই ভার শহর নিতে পারছে না। তা ছাড়া বিগত দিনে এমনও অটো-মিশুক মালিক ছিলেন যাদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো ৩০০ অধিক অটো রিক্সার অনুমোদন, ১৫০ অটোরিক্সার অনুমোদন। যা নিয়ে ১৭ হাজার নকল হয়ে পরে ৩০/৩৫ হাজার যাকে ঘিরে যানজটের তীব্রতা ভয়াবহ। যাকে ঘিরে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুতই নাসিকের কাছে অটোরিক্সার লাগাম টানার জোর আবেদন জানিয়েছেন নগরবাসীর। বর্তমানে ফুটপাতের মতো স্বস্তি¡ রাস্তায় চলাচল করতে ইচ্ছুক নগরবাসী।
এদিকে শহরের বাসিন্দা দখলদার হকারদের থেকে মুক্তি পেলেও যানজট নিয়ে এখনো তারা হতাশায় রয়েছেন। শহরের মূল সড়ক অটো মিশুক যান চলাচলের কারণে নিত্যদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা। এছাড়া অটো-মিশুক চালদের সাথে ভাড়া নিয়ে প্রতি নিয়ত ঝগড়া তর্কাতর্কি হচ্ছে যাত্রীদের সাথে। এমনকি তর্কের এক পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষের সাথে হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে।
তাছাড়া শহরের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত অবৈধ অটোমিশুক চলাচল করায় মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারা লাগামহীন বেপরোয়া হয়ে শহরে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। বছরখানিক আগে জেলা প্রশাসনের সভায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ থেকে অটো ইজিবাইক মালিক সমিতি সহ সকলে মিলে সিদ্ধান্ত হয়, ‘অবৈধ অটো ইজিবাইক চালকরা নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রবেশ করতে পারবে না।’ একই সিদ্ধান্ত জেলা আইনশৃখলা কমিটিতেও নেয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত মানছে না, স্বয়ং অটো-মিশুক চালকরা। বর্তমানে দ্রুত হকারের মতোই হাজারো হাজরো অটো রিক্সা থেকে ও মুক্তি চাইছেন নগরবাসী।
নির্দিষ্ট সড়ক ও এলাকায় ভিন্ন রঙের রিকশা চালু, ডিজিটাল নাম্বার প্লেট এবং চালকদের জন্য পরিচয়পত্র চালুর কাজ চলছে। এছাড়া নির্দিষ্ট এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে চেকপোস্ট বসানো হবে। তা দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে। বর্তমানে আমাদের অটো সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে ভাঙার কাজ চলছে। সব নিয়ন্ত্রণে নিয়েই পুরনো প্লেট বাতিল করে আমরা নির্বিঘ্নে অটোর নতুন প্লেট একজনকে একটা এমনভাবেই ছাড়বো। এতেই আশা করছি নগরবাসীর বর্তমানে হকার নিয়ন্ত্রণের পর যে যানজটের যে ৫০% বাকি রয়েছে তা পূরণ হয়ে শতভাগ যানজটমুক্ত নগরী হবে নারায়ণগঞ্জ।


