Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

রূপগঞ্জে চুক্তিতে ভূমি দখলে যেতেন আলী

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

রূপগঞ্জে চুক্তিতে ভূমি দখলে যেতেন আলী

রূপগঞ্জে চুক্তিতে ভূমি দখলে যেতেন আলী

Swapno

নারায়ণগঞ্জ শহর ছাপিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলায় ভূমি দখলে যেতেন কুখ্যাত আলী হোসেন। নারায়ণগঞ্জ শহরের ভূমিদস্যুদের সাথে নিয়ে একের পর এক ভূমি দখল করেই খ্যান্ত হন হননি আলী। শহরের বাইরে রূপগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদ দখলে আলীর নেতৃত্বে একটি চক্র কন্ট্রাক্ট করতো। এসব কাজে আলীর শেল্টারদাতা হিসেবে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাখাওয়াত ইসলাম রানা। এছাড়া রূপগঞ্জের এই ভূমির দখলের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের ভূমি দালাল সিন্ডিকেট সম্পৃক্ত ছিল এবং এর সিন্ডিকেট মেম্বার হিসেবে ছিলেন রানা।


সূত্র নিশ্চিত করেছে, রূপগঞ্জে ৬ বিঘা জোত সম্পত্তি, ১৬ বছর যাবৎ জোর পূর্বক দখল নিয়ে আবু ভূঁইয়া গং এবং মোহাম্মদ আলী গংদের উক্ত জমিটি নিয়ে বিরোধ ছিল। জমিটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন এবং গোলাকান্দাইল মৌজাস্থিত জে.এল নম্বর আর.এস-২০৮ নং খতিয়ানে দাগ নং- সি.এস, এস.এ-১২৩৮, ১২৩৫, ১২৪৬ এর মোট জমির পরিমাণ ৬ বিঘা ১৮১ শতাংশ মালিক সাইজুদ্দিন বেপারীর ওয়ারিশ মোহাম্মদ আলী নালিশা জমির সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ডভুক্ত মালিক। বিগত ১৬/১৭ বছর পূর্বে উক্ত জমিটি জোর পূর্বক দখলের জন্য গোলাম দস্তগীর গাজী, বালু সন্ত্রাসী হাবিব ও আবু ভূইয়া গং ইট ভাটা নির্মাণ করে।


এর পর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে জোত মালিক মোহাম্মদ আলী উক্ত জমিটির দখলের পায়তারার বিষয়ে ভূমিদস্যু আবু ভূঁইয়া গংদের জিজ্ঞাসা করলে তারা একাধিক বার বিচার- সালিশের নামে বসে কোন যথাযথ কাগজপত্র দেখাতে সক্ষম হয়নি। পরবর্তীতে সাবেক মন্ত্রী গাজী, তার সহযোগী বালু মহলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী হাবিব জমিটির প্রকৃত জোত মালিক মোহাম্মদ আলীকে বলেন, কাগজপত্রে যাচাই-বাছাই করে দেখেছি জায়গাটির মালিক আপনি হন বটে। কিন্তু আমরা এই জায়গাটি ভোগদখল করে খাবো। আপনি অন্যথায় কিছু টাকা নিয়ে জায়গাটি আমাদের আবু ভূঁইয়ার নামে লিখে দিন। আর না হয়, যা পারেন গিয়ে করে।


পরবর্তীতে ভুক্তভোগী জমিটির জোত মালিক মোহাম্মদ আলী নালিশা জমির জন্য চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নং- ৩  নারায়ণগঞ্জ এ পিটিশন মামলা নং- ২২৬/২৪ রুজু করেন এবং একই আদালতে ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ অনুযায়ী ৭৪/২০-০১-২৫ রুজু করেন। বর্তমানে মামলা দুটি মহামান্য আদালতের নির্দেশক্রমে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)'র নিকট তদন্তাধীন রয়েছে। ডিবি তদন্তে ভূমিদস্যু আবু ভূঁইয়া গং উক্ত নালিশা জমির কোন বৈধ কাগজপত্র সহ মালিকানার প্রমাণ দেখাতে সক্ষম হয়নি। এ বিষয়ে প্রায় পাঁচ বারের বেশী ভূমি দস্যু আবু ভূঁইয়া গংদের সাথে আপোষ মিমাংসা জন্য বসলেও তারা উপযুক্ত কোন সমাধান করেনি।


আওয়ামী লীগের মন্ত্রী গাজী ও বালু সন্ত্রাসী হাবিব ওরফে বালু হাবিব তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ভূমি দস্যু আবু ভূঁইয়ার পক্ষে জোরপূর্বক এতদিন জায়গাটি দখলে রেখেছিলো। তাছাড়া ভূমি দস্যু আবু ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে কালু ভূঁইয়া ব্রিক ফিল্ড এর আশপাশের রূপগঞ্জ থানাধীন এলাকায় অন্যের জমি জোর পূর্বক দখলের অভিযোগে প্রায় ৩০-৩৫ টি মামলা রয়েছে বলে সরজমিন তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়। এদিকে সূত্র নিশ্চিত করেছে, নারায়ণগঞ্জের সিন্ডিকেটে জমির মূল মালিক মোহাম্মদ আলীর থেকে পাওয়ার অফ এ্যাটর্নী নিয়ে আবু ভূঁইয়া গংদের অবৈধ দখল হটিয়ে জমিটি বিক্রয়ের মাধ্যমে চুক্তিপত্র অনুয়ায়ী মোহাম্মদ আলীকে বুঝিয়ে দিবেন নারায়ণগঞ্জের সিন্ডিকেটটি। এদিকে মোহাম্মদ আলী গংদের সম্পত্তি পাওয়ার অব অ্যার্টনি দিলে তাদের পক্ষে  দুর্ধর্ষ হোয়াইট ক্রিমিনাল আলী দখল করতে রূপগঞ্জে হানা দেয় । তবে শুভ হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার পর আলী  এখন পর্যন্ত একাজে সফল হননি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন