কঠোরতার মাঝেও হকারদের আস্ফালন
# বিশৃঙ্খলায় গ্রেপ্তার হতে পারে হকাররা
# আরও কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত সম্মিলিত প্রশাসনের
নাগরিকদের দাবি, তারা নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে চান। তাদের সেই দাবি পূরণ করতে ১৩ এপ্রিল হকার উচ্ছেদ হওয়ার মাধ্যমে সেই দাবী পূরণ হয়। কিন্তু হকারদের উচ্ছেদ করার পর তারা এবার শক্তিশালী হকারদের পক্ষে কোন নেতা না পাওয়ায় তারা তেমন ভাবে পুনর্বাসনের দাবী আন্দোলন জমাতে পারে নাই। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান কঠোরভাবে হকার দমনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এছাড়া এমপি আবুল কালামও হকাররা যেন ফুটপাতে বসতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসনকে। এমনকি নাগরিক সমাজ, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী সমাজেরও দাবী শহরের মুল সড়কের ফুটপাতে হকার বসতে না পারে। কিন্তু হকাররা উচ্ছেদের দুই সপ্তাহ না যেতেই আস্ফালন দেখিয়ে আবারও বসা শুরু করেছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা ও নগরবাসীর নির্বিঘ্নে হাঁটার সুবিধার্থে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। নাসিকের এক সভায় নগর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে একটি দল সপ্তাহে প্রতিদিন শহরের সড়কগুলোতে অভিযান চালাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ফুটপাত হকারমুক্ত হকার রাখার সিদ্ধান্তে নগর কর্তৃপক্ষ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে বলেও জানিয়েছেন সিটি প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেন, “হকার কোনোভাবেই ফুটপাতে বসতে পারবে না। নগরবাসীর চলার পথে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। এজন্য সমন্বিত টিম করা হবে এবং প্রতিদিন অভিযান চলবে। তবে তাদের নিয়ে আমরা আলাদা ভাবে চিন্তা করছি। যারা নারায়ণগঞ্জের ভোটার তাদের শহরের সড়ক বাদ দিয়ে অন্য কোথায় বসানোর চিন্তা করা হচ্ছে।
সিটি কর্পোরেশন সূত্র বলছে, হকার ইস্যুতে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শহরের প্রধান সড়কে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। গত ১৩ এপ্রিল হকার উচ্ছেদ করা হলেও কয়েকটি জায়গায় হকাররা বসার চেষ্টা করছেন। যদিও উচ্ছেদ কর্মীদের নিয়মিত কার্যক্রমের কারণে তারা স্থায়ীভাবে বসতে পারছে না। এখন কাপড় বিছায়ে বসে, উচ্ছেদের গাড়ি দেখলে চারকোনা গুছিয়ে গলির ভেতরে ঢুকে যায়। গাড়ি চলে গেলে আবার ফুটপাতে এসে বসে। এইটাও যাতে করতে না পারে, সেজন্য গলির ভেতরে গিয়েও ধরা হবে। একই কাজ একাধিক করলে গ্রেপ্তারও করা হবে।”
অপরদিকে নাসিক কর্র্তৃপক্ষের সাথে সাংসদ আবুল কালামের পরামর্শে ভলেন্টিয়ার স্বেচ্ছাসেবিরা এক দিকে হকারদের উচ্ছেদ করে আরেক দিকে তারা পুনরায় বসে পড়ে। আর এজন্য সকলের সমন্বয়ে প্রশাসন আরও কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা যে সকাল গলিতে পালিয়ে থাকে সেখানে গিয়েও তাদের উচ্ছেদ করা হবে। এমনকি প্রয়োজনে আটক করে দণ্ডিত করা হতে পারে। এই কঠোর সিদ্ধান্তের পরেও যদি হকাররা তাদের স্বভাব থেকে সরে না আসে তাহলে সামনে হয়ত তাদেও জেলা জরিমানা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য সরকার বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে, যাতে তাদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়।


