ফুটপাতে সেই পুরনো ‘চোর-পুলিশ খেলা’
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
ফুটপাতে সেই পুরনো ‘চোর-পুলিশ খেলা’
নগরীর বেশিরভাগ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসিয়ে রেখেছিলেন হকাররা। যাকে ঘিরে কোথাও কোথাও যান চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছিলো। এমনকি হাঁটাচলাও অনেক জায়গায় কষ্টকর হয়ে উঠেছিলো। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে নগরবাসীর সেই কষ্ট লাগবে। গত (১৩ এপ্রিল) সিটি প্রশাসক-এমপিসহ সকল রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে মাঠে নেমে হকার উচ্ছেদ করেন। কিন্তু সপ্তাহ না পেরুতেই (গান্ধি পোকা) নাম খ্যাত বাম নেতা অঞ্জন-ইকবালরা মাঠে হকারদের সাহস দিয়ে আন্দোলনে নামান। তা ছাড়া দ্রুত পুর্নবাসনের জোরালো দাবি জানান। এর পর থেকেই হকাররা নিয়মিত ফের মাঠ দাবরিয়ে বেড়াচ্ছেন। তা ছাড়া সেই লক্ষে ইতিমধ্যে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নিয়মিত অভিযানসহ সদর থানা পুলিশ অভিযান চালালে নিয়মিতই সেই বিগত আওয়ামী লীগ আমলের ‘চোর পুলিশ খেলা’ চিত্রর দেখা মিলছে।
অনেকেই বলছে, এভাবেই ধীরে ধীরে স্থায়ী হওয়ার পথে হকাররা। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পঞ্চম তলায় সম্মেলন কক্ষে মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়। যার মধ্যে বিদ্যমান হকার উচ্ছেদ ও তা নিয়ে উদ্ভূত সংকট বিষয়েও আলোচনা হয়। ওই সময় হকার ইস্যুতে সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। যাকে ঘিরে আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে এ অভিযানিক দলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাকে সহযোগিতা করবেন জেলা পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা।
যাকে ঘিরে জোরালো হচ্ছে হকারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ। যাকে ঘিরে রোববারের পর থেকে হকার পরিস্থিতি আরো নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলছে অনেকেই তা ছাড়া এবার বন্ধ বলে ‘চোর পুলিশ খেলা’। এ দিকে হকার উচ্ছেদের পরেও হকাররা ‘চোর পুলিশ খেলে’ ফুটপাতে বসছেন। যাকে ঘিরে আবারো সেই অসহনীয় যানজটে বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন নগরবাসী। মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে সময় লাগছে আধাঘণ্টা। পুলিশ বলছে, প্রতিদিন চারবার অভিযান চালিয়েও হকারদের সরানো যাচ্ছে না। উচ্ছেদ করার একটু পরই আবার দখল করে তারা। যা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা চলছে।
এর আগে গত ২০১৮ সালের জানুয়ারিতেও শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেবার নাসিকের মেয়র ছিলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। কিন্তু ওইবার এ উদ্যোগ সফল না হওয়ার পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও প্রশাসনিক অসহযোগিতার বিষয়টি সামনে আসে। এমনকি হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ১৬ জানুয়ারি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনাও ঘটে। এতে শামীম ওসমানের অনুসারী ও হকাররা সম্মিলিতভাবে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নাগরিক মহলের উপর হামলা চালায়।
তা ছাড়া পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে যৌথভাবে বৈঠক করে ফুটপাতের হকার উচ্ছেদ করলে ও ঈদুল ফিতরের হাওয়া বসায় ফের সেই হকার ‘চোর পুলিশ খেলে’ আবারো ফুটপাত দখলে নিতেন। কিন্তু তা এবার আর সম্ভব হবে বলে গুঞ্জন উঠছে। তা ছাড়া এখনো শক্ত শেল্টার দাতা পায়নি হকাররা। যাকে ঘিরে এবার তারা নিশ্চুপ। রবিউল নামে এক হকার বলেন, ‘সবকিছু ম্যানেজ করেই এখানে বসেছিলাম। এখানে না বসলে কোথায় বসব? জায়গা বের করে দিতে হবে।’


