তনু হত্যা মামলায় সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ড
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
তনু হত্যা মামলায় সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ড
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার বিকেলে কুমিল্লার আদালতে তাকে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোমিনুল হক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিনজন সন্দেহভাজন- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আজ মামলার তদন্তের স্বার্থে হাফিজুর রহমানকে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তনুর ভাই মো. রুবেল বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা আজ দুপুরে কল করে আদালতে থাকতে বলেছিলেন। মা-বাবাকে নিয়ে বিকেলে আদালতে এসেছি। আদালতে এসে একজনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানতে পারি। আশা করি দীর্ঘ ১০ বছর পর বোনের হত্যার রহস্য বের হবে।’
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটি তদন্ত করে কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।
নিহত তনুর বাবা-মা : ‘কাঠগড়ায় আসামি দেখলাম, আমরা খুব খুশি’
কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত তনুর পরিবার। এক দশক পর কাঠগড়ায় কাউকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে দেখে ন্যায়বিচারের আশা দেখছেন তারা।বুধবার (২২ এপ্রিল) কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হকের নির্দেশে এ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে এই মামলায় প্রথমবারের মতো কাউকে আদালতে হাজির করা হলো।
গ্রেপ্তারের খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিহত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, আমরা খুব খুশি, আসামি একটা ১১ বছর পর দেখলাম, কাঠগড়ায় দেখলাম। সাত দিনের রিমান্ড চাইলো। আমিও বিচার চাই, দেশবাসীও এটার জন্য বিচার চায়।
দীর্ঘ আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যে জায়গায় যাই, দেশবাসী খালি আমাকে জিজ্ঞেস করতো, বিচারটা কী হইলো, বিচারটা কী হইলো? আমি কিছু বলতে পারতাম না। এখন বলতে পারবো যে, আসামি ধরা পড়ছে, দেখা যাক কোর্ট কী করে। আমি কোর্টকে শ্রদ্ধা করি, কোর্টকে মান্য করি, কোর্টের ওপর আমি শ্রদ্ধাশীল।তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ১১ বছরের মাথায় ধরা পড়লো এই একজন আসামি। তো আশা করি, কষ্ট করেছি বিচারটা পাবো। আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করেছে, আমিও চাই তাদেরও একই শাস্তি হোক। আমরা ফাঁসি চাই। দেশবাসীও যেন বলতে পারে যে তনু হত্যার ফাঁসি হয়েছে।
তবে ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানান।
সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।


