Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

হাফিজ-অঞ্জন-ইকবালে বাম নেতাদের দুয়োধ্বনি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

হাফিজ-অঞ্জন-ইকবালে বাম নেতাদের দুয়োধ্বনি

হাফিজ-অঞ্জন-ইকবালে বাম নেতাদের দুয়োধ্বনি

Swapno

আওয়ামী লীগ আমল থেকেই শামীম ওসমানের হাতিয়ার ফুটপাত দখলবাজদের (হকার) সঙ্গে প্রকাশ্যে লিয়াজু রেখে চলতেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। সেই সুবিধায় হর্কাস লীগ থেকে পেতেন মোটা অংকের চাঁদা জানিয়েছে সূত্র।


এদিকেগত ৫ আগষ্টের পর বিভিন্নস্থানে দোকান বসিয়ে শ্রমিকদের রক্ত চোষা এই একাংশের বাম নেতারা হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকার চাঁদা। এই বিতর্কিতদের কারণেই বাম সংগঠন অবহেলিত ও লাঞ্চিত হয়ে রয়েছেন তাদের দ্বিমুখী আচরণে বাম নেতাদের দুয়ো ধ্বনি। এদিকে যখনই নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় তখন কথিত শ্রমিক সংগঠক হাফিজুল এমন মায়াকান্না ভঙ্গি করতেন যেন ভূত তাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।


ঠিক সেই সময় হকারদের পক্ষে অযাচিত দাবির নামে আন্দোলনে এবং রাজনৈতিক উস্কানি ও হকার চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটকে উস্কে দিয়ে রণক্ষেত্রের মহাপরিকল্পনা করতেন। এছাড়া  ২০১৮ সালের হকার উচ্ছেদের সময় নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন গডফাদার শামীম ওসমানের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটকে উস্কে হকারদের দ্বারা রণক্ষেত্র সৃষ্টি করে তৎকালীন সিটি মেয়রকে প্রাণনাশের হুমকিতে ফেলারও মহানায়ক ছিলেন হাফিজুল। তা ছাড়া সর্বশেষ ২০২৪ সালে ও হকার উচ্ছেদ হলে পুর্নবাসনের দাবিতে এই হাফিজুলের নেতৃত্বেই মাঠে নেমেছিলেন হাকাররা।


সূত্র জানিয়েছে, শুধু হকার ইস্যু নয়, নিজের সংগঠনের নাম বিক্রি করে নানাভাবে নানা কায়দায় বিগত দিনে ওসমানদের কাছে হয়েছেন বেনিফেসিয়াল। তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু তার চাচাতো ভাই হওয়ায় তার থেকে ও নিয়েছেন নানা সুবিধা। আওয়ামী লীগ আমলে শ্রমিক নেতা ট্যাগ বিক্রি করে ব্যবসা-বানিজ্যেসহ নানা ভাবে সুবিধা পেয়েছেন এই হাফিজুল।


এদিকে ২০২৬ সালে ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হওয়ার সাপ্তাহ ঘুড়তেই হাফিজুলের শিষ্য খ্যাত বামদলের ছিঁচকে নেতা এবং বিভিন্ন চাঁদাবাজি শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বধানকারী অঞ্জন দাস ও ইকবাল হোসেনদের দ্বারা উচ্ছেদকৃত হকার চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটকে উস্কে দিয়ে রণক্ষেত্রের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আবারও রাজপথে নামিয়েছেন। যার ফলে সহজভাবেই বলা যাচ্ছে হকার উচ্ছেদ এবং রণক্ষেত্রে রূপ দিতে হাফিজুলের ভূমিকায় অঞ্জন-ইকবাল। যাকে ঘিরে বর্তমানে নগরবাসীকে স্বস্তি¡ না দেওয়ার পায়তারায় গণশত্রু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে এই তিন একাংশ বাম নেতা।


সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা বিশাল চ্যালেঞ্জের কাজ ছিলো কিন্তু সেই কঠিন কাজটা সহজেই করে ফেললেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে দলমত নির্বিশেষে নারায়ণগঞ্জের সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে চাষাড়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত দুইপাশের সড়কের ফুটপাত দখল মুক্ত করেন। এ সময় হাজার হাজার নগরবাসী উচ্ছেদ কাজে অংশ নেন এবং প্রশাসক ও এমপির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে উচ্ছেদে অংশগ্রহণ করেছিলেন অঞ্জন দাসরাও। সেদিন অঞ্জন দাস বক্তব্যে বলেছিলেন, ফুটপাতে হকারদের কারণে নগরবাসীর চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।


ফুটপাতটা মুক্ত হওয়া দরকার সিটি করপোরেশনের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিকদলের মত আমরাও আছি। আর এই উদ্যোগে সাথে নগরবাসীর সাথে আমরা আছি। অথচ এক সাপ্তাহ পর এই ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী তুলকালাম কান্ড দেখল নগরবাসী। নারায়ণগঞ্জ শহরের উচ্ছেদকৃত হকারদের উস্কে আবারও এক সপ্তাহ পর পুনর্বাসনের নামে প্রথমে সিটি করপোরেশন ঘেরাও এবং ধীরে ধীরে সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি করে রণক্ষেত্রের মহাপরিকল্পনা রেখে সেই হাফিজুলের শিষ্যররা কথিত হকার সংগঠক অঞ্জন দাস এবং ইকবাল হোসেনরা হকারদের রাজপথে নামিয়েছেন। সেই সাথে হকারদের সিটি করপোরেশনে স্মারকলিপি দেয়ার নামে ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। বাম নেতাদের এমন কান্ড ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছেন নগরবাসী।


সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এদিকে হকার উচ্ছেদের পরিকল্পনা সিটি করপোরেশন থেকে প্রকাশ করার পর থেকেই তথাকথিত হকারদের সংগঠন বাম নেতারা হকার উচ্ছেদের বিরোধীতাকারী এবং হকার উস্কানোর মহানায়ক হাফিজুলে মিশনপাড়ার অফিসে দফায় দফায় মিটিং করেছেন। তবে কোন ক্রমেই হকার উচ্ছেদ ঠেকাতে না পেরে হকার উচ্ছেদের এক সপ্তাহ পর হকারদের আবারও পুনর্বাসনের অযুহাতে মাঠে নামানোর মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে


গত (২০ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি আন্দোলন নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস ও জেলা সিপিবির সদস্য ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে হকাররা আবারও মাঠে নামেন। যা নিয়ে শহরের পরিস্থিতি অনেকটাই বিশৃঙ্খলায় পরিণত হলে। এই নামধারী ডান-বাম নেতা দাবী করা চাঁদাবাজারা জনগণের কাছ থেকে বাম সংগঠনের আস্থা হারাচ্ছেন। এদিকে গতকাল এই নামধারী একাংশের বাম নেতাদের হুঁশিয়ারী দিয়ে মাঠে হকার উচ্ছেদের পক্ষে বিশাল শোডাউন দিয়েছেন মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জকে অস্থিতিশীল করার পায়তারায় এর পিছনে থাকা হাফিজুল ও বর্তমানে সম্মূখসারির অঞ্জন ও ইকবালের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়ার দাবী নগরবাসীর।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন