তখন হাফিজুল এখন অঞ্জন-ইকবাল
গুরুর পথেই হাঁটছেন শিষ্য। এখানে গুরু বলে সম্বোধন করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম এবং শিষ্য বলে সম্বোধন করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি আন্দোলন নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস ও জেলা সিপিবির সদস্য ইকবাল হোসেনকে। কারণ নারায়ণগঞ্জ হকার ইস্যুতে একটি বিতর্কিত এবং ঘৃণীত নাম হচ্ছেন হাফিজুল। যখনই নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় তখন কথিত শ্রমিক সংগঠক হাফিজুল এমন মায়াকান্না ভঙ্গি করতেন যেন ভূত তাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। ঠিক সেই সময় হকারদের পক্ষে অযাচিত দাবির নামে আন্দোলনে এবং রাজনৈতিক উস্কানি ও হকার চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটকে উস্কে দিয়ে রণক্ষেত্রের মহাপরিকল্পনা করতেন।
এছাড়া ২০১৮ সালের হকার উচ্ছেদের সময় নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন গডফাদার শামীম ওসমানের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটকে উস্কে হকারদের দ্বারা রণক্ষেত্র সৃষ্টি করে তৎকালীন সিটি মেয়রকে প্রাণনাশের হুমকিতে ফেলারও মহানায়ক ছিলেন হাফিজুল। এদিকে ২০২৬ সালে ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হওয়ার সাপ্তাহ ঘুড়তেই হাফিজুলের শিষ্য খ্যাত বামদলের ছিঁচকে নেতা এবং বিভিন্ন চাঁদাবাজি শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বধানকারী অঞ্জন দাস ও ইকবাল হোসেনদের দ্বারা উচ্ছেদকৃত হকার চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটকে উস্কে দিয়ে রণক্ষেত্রের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আবারও রাজপথে নামিয়েছেন। যার ফলে সহজভাবেই বলা যাচ্ছে হকার উচ্ছেদ এবং রণক্ষেত্রে রূপ দিতে হাফিজুলের ভূমিকায় অঞ্জন-ইকবাল।
সেই সাথে হকারদের সিটি করপোরেশনে স্মারকলিপি দেয়ার নামে ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। বাম নেতাদের এমন কান্ড ঘৃণবড়ে প্রত্যাখান করেছেন নগরবাসী। সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এদিকে হকার উচ্ছেদের পরিকল্পনা সিটি করপোরেশন থেকে প্রকাশ করার পর থেকেই তথাকথিত হকারদের সংগঠন বাম নেতারা হকার উচ্ছেদের বিরোধীতাকারী এবং হকার উস্কানোর মহানায়ক হাফিজুলে মিশনপাড়ার অফিসে দফায় দফায় মিটিং করেছেন। তবে কোন ক্রমেই হকার উচ্ছেদ ঠেকাতে না পেরে হকার উচ্ছেদের এক সাপ্তাহ পর হকারদের আবারও পুনর্বাসনের অযুহাতে মাঠে নামানোর মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গতকাল ২০এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি আন্দোলন নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস ও জেলা সিপিবির সদস্য ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে হকাররা আবারও মাঠে নামেন।
ঠিক একইভাবে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদকে ঘিরে গোলাগুলি আর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর। সংঘর্ষের এক পক্ষে ছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী আর অন্য পক্ষে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান এবং হকার উস্কে দিয়ে রণক্ষেত্রে রূপ দেয়া মহানায়ক হাফিজুল।
তৎকালীন সিটি মেয়র আইভী চেয়েছিলেন নগরীর ফুটপাত থেকে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করে দিতে কিন্তু সাংসদ শামীম ওসমান হকারদের পক্ষ নিয়ে এবং বামনেতা এবং হাফিজুলদের মত তথকথিত হকার সংগঠকদের মদদে যেকোনো মূল্যে হকারদের ফুটপাতে বসিয়েছিলেন। সেই হকারদেরই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি উচ্ছেদের পরিকল্পনা করে উচ্ছেদ করে সফল হলে আবারও সেই হকারদের পুনর্বাসনের নামে আন্দোলনের নামে উস্কে দিয়ে রাজপথে নামিয়েছেন বর্তমানের তথাকথিত হকার সংগঠক অঞ্জন দাস ও ইকবাল হোসেন।


