Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

হকারদের বিক্ষোভে স্থবির নগরী, জনজীবনে চরম ভোগান্তি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

হকারদের বিক্ষোভে স্থবির নগরী, জনজীবনে চরম ভোগান্তি

হকারদের বিক্ষোভে স্থবির নগরী, জনজীবনে চরম ভোগান্তি

Swapno

নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদের পর সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। পুনর্বাসনের দাবিতে সংগঠিত হয়ে মাঠে নেমেছেন মাত্র পাঁচ শতাধিক হকার। দিনভর তাদের মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচিতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে পুরো শহর। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরীর হাজারও সাধারণ মানুষ, যাত্রী ও পথচারীরা। গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হকাররা।


সেখানে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে হকারদের প্রধান দাবি ছিল পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জীবিকার জায়গা থেকে উচ্ছেদের আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। সমাবেশ শেষে হকাররা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি চাষাঢ়া থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে চাষাঢ়া, নিতাইগঞ্জ, বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষ পড়েন চরম দুর্ভোগে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন হকার বলেন, আমরা কেউ চুরি-ডাকাতি করি না, ব্যবসা করে খাই। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করলে পরিবার নিয়ে বিপদে পড়ি। পুনর্বাসন ছাড়া আমাদের সরানো হলে আমরা বাধ্য হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।


এদিকে সমাবেশ ও মিছিলে বাম ঘরানার কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে দেখা গেলেও অধিকাংশ মুখই ছিল অপরিচিত। অঞ্জন দাস ছাড়া অন্যদের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে কে বা কারা পেছন থেকে হকারদের সংগঠিত করছে।


উল্লেখ্য গত ১৩ এপ্রিল শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশপাশের এলাকায় হকার উচ্ছেদে অভিযান চালায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। তবে অভিযানের আগের রাতেই বেশিরভাগ হকার তাদের দোকান সরিয়ে নেওয়ায় সেদিন বড় ধরনের কোনো সংঘাত হয়নি।


সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে তিনি পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেও এ ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের ভোটারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন।


তবে হকারদের সাম্প্রতিক এই সক্রিয়তা দেখে অনেকেই মনে করছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার অংশ। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে হকারদের একাধিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে বলেও জানা গেছে। পুনর্বাসনের অগ্রগতি না হলে বড় ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।


নগরবাসীর একাংশ এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অতীতের মতো আবারও সংঘাতময় পরিবেশ তৈরি হতে পারে। উত্তর চাষাঢ়ার এক ব্যবসায়ী বলেন, “উচ্ছেদ হয়, আবার কিছুদিন পর সব আগের মতো হয়ে যায়—এটাই আমরা দেখে আসছি। এবার যদি স্থায়ী সমাধান না হয়, তাহলে সমস্যার শেষ হবে না।”


এর আগে ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে শহরে বড় ধরনের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে সেই উদ্যোগও স্থায়ী হয়নি।


বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে কোনো বড় রাজনৈতিক দলের সক্রিয় উপস্থিতি না থাকলেও আড়ালে বিভিন্ন পক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে আপাত শান্ত নারায়ণগঞ্জ শহরে আবারও অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


নগরভবনের সামনে হকারদের বিক্ষোভ


নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পুনর্বাসনের দাবিতে নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক হকার। গতকাল সকাল প্রায় ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে জড়ো হন বিভিন্ন এলাকার হকাররা। পরে তারা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় সড়কের একাংশে চাপ সৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।


বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হকাররা জানান, পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না করে হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, যা তাদের জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। তাদের দাবি, বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হলে হাজারো পরিবার পথে বসবে। তাই পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তারা। একাধিক হকার বলেন, “আমরা অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছি। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করলে আমরা কোথায় যাবো? আগে আমাদের বসার জায়গা ঠিক করে দিতে হবে, তারপর উচ্ছেদ করুক।


” উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ এপ্রিল শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশপাশের এলাকায় হকার উচ্ছেদে যৌথভাবে মাঠে নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ওই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম।  উচ্ছেদের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও পুনর্বাসন ইস্যুতে আবারও সংগঠিত হয়ে মাঠে নামছেন হকাররা—এমন ইঙ্গিতই মিলছে সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ থেকে। এতে নগরজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন