আলীকে গ্রেফতারে অনীহায় প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
আলীকে গ্রেফতারে অনীহায় প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা
শুভ হত্যায় সম্পৃক্ত এবং অপহরণ মামলার আসামী আলী হোসেনের অপরাধের জগৎ প্রকাশ্যে আসলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন নজরদারীতে রাখছেন না আলীকে। সেই সাথে আলী হত্যার ঘটনায় ফেঁেস থাকার পর গ্রেফতারে বিলম্ব হওয়ায় প্রতারক আলীর দ্বারা অত্যাচারিত নির্যাতিত এবং সর্বস্ব হারানো ব্যক্তিবর্র্গ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ না করলেও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মহলেও হোয়াইট ক্রিমিনাল আলীকে গ্রেফতারের আওতায় না আনায় প্রশ্ন তুলছেন। কেননা ইতিমধ্যে আলীর দৈন্দিন অপকর্ম এবং বিগত সময়ের অপকর্মের চিত্র গণমাধ্যমে সংবাদগুলোতে দৃশ্যমান।
আলীর চিহ্নিত অপকর্মগুলো ছিল-, আওয়ামীলীগ শাসন আমলে প্রথম দিকে কাউন্সিলর বাবু ওরফে ডিস বাবুর লাইন ম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন আলী। পরবর্তীতে ডিশ বাবুর সঙ্গ ত্যাগ করে কখনো হয়েছেন কথিত সাংবাদিক এবং পুলিশের সোর্স পরিচয় বহন করে বিভিন্ন সেক্টরে এসকল পরিচয় দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে বেড়াতেন। এছাড়া অসাধু কিছু সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে নামমাত্র মূল্যে বিশেষ পেশার কার্ড ব্যবহার করে নয়া মিশনে পা দেন।
পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কখনো সড়ক পথে চাঁদাবাজি। এছাড়া সাংবাদিকতার নামের অবৈধ অটো রিকশাকে বৈধতা দিতে সাংবাদিকতার কার্ডকে অটো চালকদের লাইসেন্সে পরিণত করেন। শহরজুড়ে হাজার হাজার অটো চালক/মালিকদের কার্ড দিয়ে মাসিক চাঁদা উত্তোলন করতেন। এছাড়া যে সকল অটো চালক/মালিকরা তার কার্ড সংগ্রহ করতেন না তাদেরকে ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে ধরে নিয়ে ডাম্পিংয়ে নিয়ে তার কার্ড ব্যবহারে বাধ্য করে ডাম্পিং চার্জ হিসেবে পুলিশের মাধ্যমে ১০০০/১৫০০/২০০০টাকার বিনিময়ে আবার ছেড়ে দিতেন।
আওয়ামীলীগ শাসন আমলে তার এই অপকর্মে দিব্বি পরিচালিত হলেও ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টে আওয়ামীলীগ পতনের পর সাংবাদিকতার নামে সাংবাদিক কার্ডকে অটো চালকদের লাইসেন্সে পরিণত করার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। তখনই আশ্রয় নেন নারায়ণগঞ্জ শহরের আলোচিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক রানার। এছাড়া রানাকে সকল অপকর্মের দিকে ধাবিত করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন। রানাও তার কথা শুনতে শুনতে ভূমি দুস্যতা থেকে শুরু ডিস ব্যবসা,মাদক ব্যবসা,স্ট্যান্ড দখল,বাস কোম্পানী দখল,অটো প্লেট ব্যবসা এসকল কিছুর নিয়ন্ত্রক এবং হোতা বানান রানাকে।
এদিকে মার্ক টাওয়ারে আলীর মালিকানার দুটি দোকানসহ আশেপাশের মার্কেটে ডিস এবং ইন্টারনেট ব্যবসাগুলো আলীই নিয়ন্ত্রণ করে বলে কথিত রয়েছে। এছাড়া চাষাড়া রূপায়ন টাওয়ারে দুটি ফ্লট আলী দখল করে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন রানার সগযোগীতায়। চাষাড়া চেইনজেস স্কুলের সামনে খাবারের দোকানের নামে ভূমি দখল করে একাধিক দোকান স্থাপন করেছেন রানার সহযোগীদতায়।
উত্তর চাষাড়ার সাবেক হোয়াইট হাউজ সংলগ্ন ভূমি দখল করে হকারদের কাছে গোডাউন ভাড়া দিয়েছেন রানার সহযোগীতায়। সেই সাথে রানার অপকর্মের জোন হিসেবে বিভেচিত ইসদাইর রেল লাইন এলাকায় ভূমি দখল এবং মাদককারবারী থেকে শুরু করে গ্যাড়েজগুলোতে বিভিন্ন অপকর্মের শেল্টার ও অটো গ্যাড়জগুলোতে প্লেট ব্যবসা স্থাপন করতেন। সেই সাথে ৫ই আগষ্টের পর শহরজুড়ে ডিস ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রানাকে সহযোগীতা করেছিলেন আলী।


