আইভীর ২০ দিন, অনড় সাখাওয়াত
বিএনপি ও বিগত আওয়ামী লীগ এ দুটি সরকারের আমলেই নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত করতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের আবেদন ছিল। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে সে সময়ের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী হকারদের সঙ্গে সাংঘাতে জড়িয়ে দীর্ঘ ৬ বছর চেষ্টার পর ২০২৪ সালের (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে যানজট ও হকার ইস্যুতে বৈঠক করে সাবেক মেয়র আইভী, সাবেক সাংসদ শামীম ও সেলিম ওসমান যৌথভাবে আলোচনা সাপেক্ষে উচ্ছেদ করলে ও আন্দোলনে তোপের মুখে পরে হলি ডে মার্কেট চালু করে ও ২০ দিন নিয়মিত চোর-পুলিশ খেলা করে শহর হকারমুক্ত রেখেছিলেন।
এবার বিএনপি ক্ষমতায় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান পদক্ষেপ নিয়ে সাংসদ আবুল কালামের সঙ্গে বৈঠক করে গত ১৩ এপ্রিল হকার উচ্ছেদের পর গতকাল ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত শহর ছিল ফাঁকা। কিন্তু এটা কতদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে সেটাই দেখার বিষয়। সেই দিকেই নজর নগরবাসীর।
ওই সময়ে মেয়র ডা. আইভীর উপর চাষাঢ়া সায়াম প্লাজার সামনে হামলা চালায় হকাররা ও শামীম ওসমানের লোকজন। এরপরও ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফুটপাত থেকে হকার সরানো চেষ্টা করেছিলেন আইভী ও ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়। কয়েক সপ্তাহ হকার নিয়ে কৌশল ভূমিকা মাঝে ২৪ এর জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যূথানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচ্যূত হয়ে পড়েন। এরপর নারায়ণগঞ্জ শহরের হকারদের মধ্যে বেপরোয়া রূপ দেখা দেয়। দেড় বছর ফুটপাতে এক পাশে স্থলে দুই পাশে বসা কারণে সাধারণ মানুষ চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে রূপ নেয়। তা ছাড়া এবার ভ্যান গাড়ি বসিয়ে রাস্তা ও দখলে নিয়েছিলেন হকাররা।
কিন্তু এবার উচ্ছেদের পর এমপি ও সিটি প্রশাসক হকার ও তাদের নেতাদের হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছেন ফুটপাতে কোন হকার বসবে না। সিটি কর্পোরেশন ও সকল দলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং নগরবাসী থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। বেশিভাগ হকার না থাকলেও আগামীতে কোনভাবে বসার সুযোগ দেয়া হবে না। তা ছাড়া ফুটপাত দখল ও রাস্তা বন্ধ করে নারায়গঞ্জে কোর চাঁদাবাজি চলবে না।
বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ভোটারদের চাহিদার মধ্যে অন্যতম ছিল- হকারমুক্ত ফুটপাত। নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে এই দাবি আরো জোরালো হয়। সেই অনুযায়ী ইতিমধ্যে হকারমুক্ত ফুটপাত পেয়েছে নগরবাসী। কতদিন থাকে সেটা নিয়ে উঠছে নানা আলোচনা। ইতিমধ্যে কিছু কিছু ছোট ছোট হকার মাঠে থাকলে ও নিয়মিত সিটি কর্পোরেশনের অভিযানে আবার পালিয়ে যাচ্ছেন হকাররা।
কিন্তু বর্তমানে স্থায়ী দখলে রাখা হকাররা নেই মাঠে। তা ছাড়া উচ্ছেদের আগেই কৌশলী অবলম্বন করে হকারদের মাঠ ছাড়ার বিষয় উঠছে নানা প্রশ্ন। অনেকেই বলছে, এবার শহরের মূল ৬৭২ জন যথাস্থানে পূর্ণবাসন করে বাকি হকারদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে দীর্ঘ স্থায়ী পাওয়া যাবে হকারমুক্ত নগরী এমনটাই বলছে সুধীমহল।


