Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফল সাখাওয়াত-কালাম

Icon

লিমন দেওয়ান

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফল সাখাওয়াত-কালাম

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফল সাখাওয়াত-কালাম

Swapno



# না.গঞ্জে কোনো চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব চলবে না : সাখাওয়াত
# হকারের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স, হকার আর ফিরবে না : কালাম


নগরীর ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের পর থেকেই নগর জুড়ে লক্ষ্য করা গেছে এক চাপা উত্তেজনা। হকার ইস্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন স্বগরম থাকায় সংঘাতেরও আশঙ্কা করেছিলেন অনেকেই। তা ছাড়া হকার উচ্ছেদে ২০১৮ সালের সেই সংঘর্ষের গল্প হচ্ছিল। যা নিয়ে হকার উচ্ছেদ অনেকটাই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু সম্মিলিতভাবে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফল হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।


এদিকে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগেই হকাররা ‘রণে ভঙ্গ দেওয়ায়’ জটিলতা পোহাতে হয়নি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কর্মীসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের। প্রায় বিনা বাধাতেই হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগ আমলে সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী উন্নয়নে পটু হলে ও সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সম্মিলিতভাবে ঐক্যজোট করতে ব্যর্থ থাকায় দীর্ঘ ১৫ বছর হয়নি স্থায়ী হকার উচ্ছেদ।


কিন্তু সাখাওয়াত ও কালাম সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও  সকল ব্যবসায়ী এবং দোকান মালিক সমিতিকে সম্মিলিত করে হকার উচ্ছেদে নেমে সকল বিতর্ককে বেস্তে ফেলে প্রসংশায় ভাসছেন সাখাওয়াত-কালাম। শেষ পর্যন্ত ফুটপাত হকারমুক্ত ধরে রাখতে পরালেই নগরবাসীর নয়নের মনি কোঠায় জায়গায় করে নিবে সাখাওয়াত-কালাম। এদিকে, হকার উচ্ছেদের হুঙ্কারে গতকাল সকাল থেকেই ফাঁকা ফুটপাত পেয়ে স্বস্তিতে চলাচল করতে পেরেছে নগরবাসীর। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সাধুবাদও জানিয়েছেন তারা।


দাবি করেছেন, এই ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। কোনোভাবেই যেন ফুটপাতে নির্বিঘ্নে হাঁটার পথ বাধাগ্রস্ত না হয়। তবে, তা কতদিন ধরে রাখা যাবে সেই প্রশ্ন থাকলে ও জনপ্রতিনিধিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন হকার আর থাকবে না, আসতে ও পারবে না।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম সমস্যা-হকারদের ফুটপাত দখল। বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ভোটারদের চাহিদার মধ্যে অন্যতম ছিল- হকারমুক্ত ফুটপাত। কিন্তু এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে এই দাবি আরো জোরালো হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম ও সিটি প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেন। বসেন, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথেও।


গত শুক্রবার রাজনৈতিক, সামাজিক, নাগরিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সাখাওয়াত হোসেন। ওই বৈঠকে সকলেই হকারমুক্ত ফুটপাতের ব্যাপারে ঐকমত্যে আসেন এবং ১৩ এপ্রিল হকার উচ্ছেদে অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত হয়। যদিও এর আগেও একাধিকবার এই শহরের ফুটপাতে হকারদের উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সীমিত কিছু সময়ের জন্য হকারমুক্ত ফুটপাত থাকলেও তা আর টেকসই সমাধান হয়নি। এমনকি ২০১৮ সালে এই হকার ইস্যুকে কেন্দ্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।


ওই সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত সাধারণ নগরবাসীর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার উদ্যোগ নিলে ও তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ান সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি হকারদের পক্ষ নিয়ে নগরবাসীর আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন যাকে ঘিরে দলীয় বিভেদে হয়নি হকারমুক্ত। কিন্তু এবার দলীয় কোন বিভেদ না থাকায় সফল হয়েছেন দুই জনপ্রতিনিধি। এদিকে বিগত দিনে হকার নিয়ে চলে ‘ইদুর বেড়াল’ খেলা চলতো। প্রশাসনের অভিযানে হকাররা পালিয়ে যেতেন আবার ফিরে আসতেন কিছুক্ষণ পর। এভাবে কয়েকবছর চললেও গণঅভ্যুত্থানের পর হকারদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে যায়। শহরে হকারের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।


এমনকি বেড়ে যায় ফুটপাতে চাঁদাবাজিও। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার নারায়ণগঞ্জ নগরীর ব্যস্ততম তিনটি সড়কে অবৈধ হকার উচ্ছেদে অভিযানে নামে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। এতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন। শহরকে ‘গ্রিন ও ক্লিন’ করার লক্ষে সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগে গতকাল দিনভর ফুটপাত ছিল অনেকটাই হকারমুক্ত। এবার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সর্বদা হকারের দিকে নজর রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন নগরবাসী। তা ছাড়া গোপন সূত্র বলছে, হকার ১৩,১৪,১৫,১৬ এপ্রিল পর্যন্তই বসবে না এর পর থেকে আবার বসবে। এমন গুঞ্জন উঠছে যাকে ঘিরে দ্রুত সিটি প্রশাসকের ঘোষিত ১০০ সদস্যের কর্মী হকার নিরসনে সর্বদা মাঠে পাহাড়া দেওয়ার জন্য দ্রুত নামানো প্রয়োজন বরে মনে করছেন অনেকই।


এদিকে সর্বশেষ গত ২০২৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে যানজট ও হকার ইস্যুতে বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। সেই সভায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত দখল নিয়ে হকারদের প্রসঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়। একপর্যায়ে সভায় উপস্থিত সবাই ফুটপাতে হকার না বসানোর বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছে। সেই সঙ্গে হকারদের বসার বিষয়ে কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আর সেই হিসেবেই হকারদের করা হয় মাঠ ছাড়া। কিন্তু ্এতে কোন প্রকারের তদারকি না থাকায় সপ্তাহ খানের পর থেকেই আবার হকার দখল করে ফেলে ফুটপাত। এদিকে এয়োদশ নির্বাচনের আড়াই মাসেই শহরে বিশাল বাজিমাত দিলেন সাখাওয়াত-কালাম।


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে কোনো চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব চলবে না। নিজ দলের ভেতর থেকেও যদি কেউ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।


তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে রাস্তা দখল করে রাখার সুযোগ আর দেওয়া হবে না। এতে করে পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে এবং শহরের যানজটও অনেকাংশে কমে আসবে।


তিনি আরো বলেন, এই অভিযানে কাউকে লক্ষ্য করে নয়, বরং নগরবাসীর স্বার্থে কাজ করা হচ্ছে। একটি আধুনিক, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত শহর গড়তেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শহরের অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে ডিজিটাল লাইসেন্স প্লেট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে অবৈধ যানবাহন শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধুলাবালি, যানজট ও ফুটপাত দখলের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এসব সমস্যা দূর করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং শহরকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা জরুরি।


নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম বলেছেন, হকার ও যানজটমুক্ত একটি সুন্দর নগরী গড়ে তোলার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা আজ বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। এ উদ্যোগকে তিনি একটি “ঐতিহাসিক দিবস” হিসেবে উল্লেখ করেন।


তিনি বলেন, অতীতে এককভাবে হকার উচ্ছেদের চেষ্টা সফল হয়নি। কিন্তু এবার সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে, যা একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।


তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব প্রশাসনের। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছেন।“আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। অতীতের মতো যেন পুনরায় হকার বসতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।” বর্তমান সরকার এ ধরনের কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন