নগরবাসীর চোখের মনি হবেন সাখাওয়াত-কালাম
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ফুটপাতে অবৈধ হকারমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানে যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দলের নেতা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে উচ্ছেদে মাঠে নামতে যাচ্ছেন নাসিকের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম। আজ (১৩ এপ্রিল) ডেড লাইন হিসেবে আজ থেকে হকারমুক্ত ফুটপাত নগরবাসীকে উপহার দিতে সক্ষম হলে এবার চোখের মনি হয়ে উঠবেন সাখাওয়াত ও কালাম।
এদিকে গত ২০১৮ সালের হকার সমস্যার এই জটিল সমীকরণ ঠেকাতে উওর মেরু ও দক্ষিণ মেরুতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও যানজট ও হকার নিয়ে নগরবাসী কোন সুফল পায়নি। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় এই যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিলেও ব্যর্থ হয়েছেন প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল। যেখানে মূল সমস্যা ছিলো টানাপোড়েন। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসলে নগরবাসীকে স্বস্তি¡র কথা চিন্তা করে সরকারি নির্দেশনায় সকল বিভেদ না রেখে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে মাঠে নামছেন এই সাংসদ সদস্য ও সিটি প্রশাসক যা নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন এই দুই নেতা।
তা ছাড়া বিগত দিনে হকার উচ্ছেদের নামে সাবেক মেয়র কিংবা সাংসদ সদস্য কোন ব্যবসায়ী বা রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে করেনি আলোচনা। কিন্তু কালাম ও সাখাওয়াত সকল ব্যবসায়ী-সাংবাদিক-রাজনৈতিক মহল-নগরবাসী সকলের সম্মত্বিতে এবার অক্যাশনে যাচ্ছেন। আর তারা এবার সফল হবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন কারণ তারা বিশ্বাস করেন ঐক্যের বন্ধন অটুট থাকলে নারায়ণগঞ্জবাসীকে নিয়ে যানজট ও হকার নিরসন করা সম্ভব। তা ছাড়া বর্তমানে নগরবাসীর মূল সমস্যা তালিকায় দুটি যানজট ও হকার সমস্যা এই দুটি নিরসন করে ৫০% সমস্যা থেকে স্বস্তি¡ পাবে নগরবাসী।
সেই দিক লক্ষ্য রেখেই এবার পরিকল্পনা বাস্তাবায়নে মাঠে নামছে গুরুত্বপূর্ণ দুইজন। তা ছাড়া শহরের এই দুই জনপ্রতিনিধি হকার উচ্ছেদের চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছেন যা বাস্তবায়ন হলে সাবেক মেয়র আইভীকে ছাঁড়িয়ে যাবেন সাখাওয়াত-কালাম। তা ছাড়া ইতিমধ্যে এমপি ও সিটি প্রশাসকের নগরবাসীকে ঘিরে যে পরিকল্পনা তা বাস্তবায়ন হলে আজীবন সাখাওয়াত-কালাম নগরবাসীর চোখের মনি কোঠায় থাকবেন।
এতে একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা হলেও আইভী-শামীম ওসমানের দ্বন্দ্বে ছিলো বিশ্বব্যাপী। যার কারণে হকার উচ্ছেদ থেকে বিরত থাকতে হয় আইভী। পরবর্তিতে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হকার ইস্যুতে তৎকালীন এমপি-মেয়র মধ্যে বৈঠক হয়ে সমাঝোতা এক পর্যায়ে দেখে ছিলেন নগরবাসী। কিন্তু কয়েক মাস পর ছাত্র-জনতা আন্দোলনের কারণে আবারো ফুটপাতে হকারদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পায়। এমনকি ২৪-এর ৫ আগষ্টের পর অন্তবর্তী সরকার আমলে ফুটপাতে হকারদের ছড়াছড়ি বৃদ্দি পায়। তার কারণে হকার ও ভয়াবহ যানজট বর্তমান সময়ে অভিশাপ রূপ নিয়েছে। বর্তমানে নগরবাসীকে এবার এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করলেই স্বস্তি¡ পাবে নগরবাসী।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ নগরীর বিবি রোড, মীর জুমলা সড়ক, কালীরবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব এলাকায় ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হবে। এর মধ্যে আজ (১৩ এপ্রিল) ডেড লাইনের দিন বিবি রোড পুরো দমে হকার মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন সূত্র। এই হকার উচ্ছেদে এবার সাখাওয়াত-কালামে চমক দেখিয়ে এতে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, জেএসডি, ইসলামী আন্দোলন, সাম্যবাদী দল ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দোকান মালিক সমিতি সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থেকে অবৈধ হকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ গড়ে তুলবেন।
এদিকে ঈদের আগেই সকল হকারদের নিয়ে বসে আলোচনা করে জানান দেন ঈদের পরে তারা রাস্তা কিংবা ফুটপতে বসতে পারবে না। সেই অনুযায়ী তদারকি করা শুরু করেন ঈদের পরে। মীর জুমলা সড়ক অভিযান চালিয়ে রাস্তা খালি করার নির্দেশনা দেন সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য এড, আবুল কালাম। ইতিমধ্যে শহরের দখলের একদিকে রয়েছে ফুটপাত, অন্যদিকে মূল সড়ক। ফুটপাতজুড়ে হকারদের দখল, অন্যদিকে সড়কে ইজিবাইক ও অবৈধ যান চলাচলের কারণে নিত্যদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা। শহরের ফুটপাতে অবৈধ ভাবে হকাররা বসে। তবে এখন হকাররা ফুটপাতের সাথে মুল সড়কের অর্ধেক দখল করে নিয়েছে।
ঈদের পরে যেন চকি বিছিয়ে হকাররা বসতে পারবে না আর ঈদের পর হকার থাকবে না সাফ জানিয়ে দেন এই দুই জনপ্রতিনিধি। তবে ঈদ পরবর্তীতে তার এই কাজ বাস্তবায়নে তিনি নিজে মাঠে নেমে তদারকি করেছেন। জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দ্বারা শহরে অভিযান চালিয়ে সড়কে হকারদের উচ্ছেদ করলেও ফুটপাতে কোন উচ্ছেদ করে নাই। অথচ ফুটপাতে হকাররা বসতে পারবে না। তাছাড়া বিকেলে ম্যাজিষ্ট্রেট অভিযান চালিয়ে রাস্তা দখল করা হকারদের উচ্ছেদ করে আবার যাওয়ার পরে সন্ধ্যার পরে রাস্তা দখল করে হকাররা।
যা নিয়ে নগরবাসী বিব্রত হয়ে রয়েছে। এমনকি ব্যবসায়ী মহলও তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। কেননা ব্যবসায়ীরা যানজট মুক্ত রাখতে স্বেচ্ছাসেবক দিলেও হকাররা রাস্তা দখল করে যানজট তৈরী করে। কিন্তু আজ থেকে হকার উচ্ছেদের পর কাল থেকে হকার বসে কিনা যাকে ঘিরে ১০০ জনের একটি টিম সিটি কর্পোরেশনের আন্ডারে থেকে সর্বদা তদারকি করবেন। শেষ পর্যন্ত ফুটপাত হকারমুক্ত চিরতরে করতে পারলেই নগরবাসীর চোখের মনি হয়ে উঠবেন সাখাওয়াত-কালাম। বর্তমানে রাজধানীতে হকার উচ্ছেদ হলে ও তা মুক্ততা স্থায়ী রাখা যাচ্ছে না। সেই হিসেবে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে ও এমন বিরল মন্তব্য উঠলে ও আলোচনা উঠছে এবার পারবে সাখাওয়াত-কালাম।


