ফতুল্লায় ঝুট নিয়ে গুলির ঘটনায় যুবদল নেতা মশিউর রনির নামে মামলা, আসামি ১২
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
ফতুল্লায় ঝুট নিয়ে গুলির ঘটনায় যুবদল নেতা মশিউর রনির নামে মামলা, আসামি ১২
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার হরিহরপাড়া চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ওয়েস্টিজ মালামাল (ঝুট) নামানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হওয়ায় ঘটনায় সারজিল আহম্মেদ অভি ও জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন এক গুলিবিদ্ধের পিতা। রোববার (১২ এপ্রিল) মামলাটি ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা হয়।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— সারজিল আহম্মেদ অভি (৩০), আব্দুল হামিদ প্রধান (৫২), মোঃ আব্দুস সালাম (৪০), আকাশ (২৮), সুমন মোল্লা রকেট (৪৩), খায়রুল কবির জসিম (৫৫), মোঃ ইয়াসিন (২৮), মশিউর রহমান রনি (৩৫), মোঃ আলী রতন (৩৮), মোঃ মুরাদ হাসান (৩৮), আদনান আজিজ প্রাপ্ত (৩২) ও পল্লব (৪৫)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী মোঃ হোসেন খোকা (৫২) এজাহারে উল্লেখ করেন, তার ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব (২৩) পড়াশোনার পাশাপাশি এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করে আসছিলেন। চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত বেষ্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড নামীয় একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে ওয়েস্টিজ মালামাল নামানো নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গার্মেন্টসটির সামনে লোকজন জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে বাদী ঘটনাস্থলে যান। এসময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি, রামদা, ছোরা, চাকু, লোহার রড, কাঠের লাঠি ও ককটেলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে অবরোধ করে এবং টানা-হেঁচড়া করে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকজন আসামি পিস্তল ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং এক পর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে বাবার উপর হামলার খবর পেয়ে তার ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। গুলি তার বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পথচারী ইমরান (১৩) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রও গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে তার স্বজনরা চিকিৎসা দিয়েছেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা গার্মেন্টস থেকে ওয়েস্টিজ মালামাল নামাতে না পেরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও মালিকপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুলিতে আহত রাকিবের বাবা মোঃ হোসেন খোকা বাদী হয়ে মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, একপক্ষ মামলা করেছে আবার অপর পক্ষও অভিযোগ দায়ের করেছে। আমরা বিভিন্ন ভাবে তদন্তের মাধ্যমে মূল অপরাধীদের ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেই সাথে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।


