Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

রানার সহযোগী আলী গ্রেপ্তার হলে শুভ হত্যার জট খুলবে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

রানার সহযোগী আলী গ্রেপ্তার হলে শুভ হত্যার জট খুলবে

রানার সহযোগী আলী গ্রেপ্তার হলে শুভ হত্যার জট খুলবে

Swapno

কথায় আছে ‘কান টানলে মাথা আসে’ ঠিক একই ভাবে শুভ হত্যাকান্ডে অন্যতম অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানার অন্যতম সহযোগী শুভ হত্যায় অভিযুক্ত আলী হোসেনকে গ্রেফতার করলেই রানার সকল অপকর্মের রহস্য ফাঁস শুভ হত্যার অন্যতম অভিযুক্ত রানার গ্রেফতারের মাধ্যমে জট খুলবে। কথিত রয়েছে আলী হোসেন এক সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের ত্রাস দুর্ধর্ষ ডিস বাবুর সহযোগী ছিলেন। সেই ডিস বাবুর সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই অপকর্মের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয়ে  এসে কখনো অটো চাঁদাবাজ, পুলিশের সোর্স,কথিত সাংবাদিক,মাদককারবারীদের শেল্টারদাতার রূপ ধারণ করে।


এদিকে আওয়ামীলীগ পতনের পর শহরের সম্ভাব্য ত্রাস হওয়ার সক্ষমতা শাখাওয়াত ইসলাম রানার থাকায় রানার অন্যতম সহযোগী হয়ে উঠেন আলী হোসেন। আওয়ামীলীগ পতনের পর আওয়ামীলীগের সকল অপকর্মের ভান্ডারগুলোর সন্ধান এবং সেখানে রানার নিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতে অন্যতম সহায়ক ভূমিকা রাখেন। রানাও তার কথা শুনতে শুনতে ভূমি দুস্যতা থেকে শুরু ডিস ব্যবসা,মাদক ব্যবসা,অবৈধ দোকান স্থাপন,স্ট্যান্ড দখল,বাস কোম্পানী দখল,অটো প্লেট ব্যবসা এসকল সেক্টরের নিয়ন্ত্রক হয়ে বেপরোয়া হয়ে যান।


তারই ফলশ্রুতিতে মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে রানার সাথে বিরোধের জেরে শুভ হত্যার ঘটনা ঘটে। এদিকে শুভ হত্যায় অভিযুক্ত অনেকের সাথেই লম্পট আলী হোসেনের সখ্যতা ছিল। এদিকে শুভ অপহরণের পর যে মামলা হয়েছে সেখানে আলী নিজেকে কথিত সাংবাদিক হিসেবে দাবি করে শুভ অপহরণ মামলাকে বিতর্কিত করে নিজেকে সেইফ করতে চেয়েছিলেন। সেই সাথে প্রধান আসামী রানাকে সেইফ করতে শুভর পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে কৌশলে চাপ সৃষ্টিসহ প্রশাসনের কাছেও হস্তক্ষেপ করেন।


সূত্র বলছে, আওয়ামীলীগ শাসন আমলে প্রথম দিকে কাউন্সিলর বাবু ওরফে ডিস বাবুর লাইন ম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন আলী। পরবর্তীতে ডিশ বাবুর সঙ্গ ত্যাগ করে কখনো হয়েছেন কথিত সাংবাদিক এবং পুলিশের সোর্স পরিচয় বহন করে বিভিন্ন সেক্টরে এসকল পরিচয় দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে বেড়াতেন। এছাড়া অসাধু কিছু সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে নামমাত্র মূল্যে বিশেষ পেশার কার্ড ব্যবহার করে নয়া মিশনে পা দেন। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কখনো সড়ক পথে চাঁদাবাজি। এছাড়া সাংবাদিকতার নামের অবৈধ অটো রিকশাকে বৈধতা দিতে সাংবাদিকতার কার্ডকে অটো চালকদের লাইসেন্সে পরিণত করেন।


শহরজুড়ে হাজার হাজার অটো চালক/মালিকদের কার্ড দিয়ে মাসিক চাঁদা উত্তোলন করতেন। এছাড়া যে সকল অটো চালক/মালিকরা তার কার্ড সংগ্রহ করতেন না তাদেরকে ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে ধরে নিয়ে ডাম্পিংয়ে নিয়ে তার কার্ড ব্যবহারে বাধ্য করে ডাম্পিং চার্জ হিসেবে পুলিশের মাধ্যমে ১০০০/১৫০০/২০০০টাকার বিনিময়ে আবার ছেড়ে দিতেন। আওয়ামীলীগ শাসন আমলে তার এই অপকর্মে দিব্বি পরিচালিত হলেও ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টে আওয়ামীলীগ পতনের পর সাংবাদিকতার নামে সাংবাদিক কার্ডকে অটো চালকদের লাইসেন্সে পরিণত করার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। তখনই আশ্রয় নেন নারায়ণগঞ্জ শহরের আলোচিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক রানার।


এছাড়া রানাকে সকল অপকর্মের দিকে ধাবিত করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন। রানাও তার কথা শুনতে শুনতে ভূমি দুস্যতা থেকে শুরু ডিস ব্যবসা,মাদক ব্যবসা,স্ট্যান্ড দখল,বাস কোম্পানী দখল,অটো প্লেট ব্যবসা এসকল কিছুর নিয়ন্ত্রক এবং হোতা বানান রানাকে। যার পরিপ্রেক্ষিতেই অপকর্ম করতে করতে ইসদাইর এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে হত্যা হওয়া শান্ত হত্যার মত ঘটনায় আলীসহ/বিএনপি নেতা রানা ফেঁসে যান।


এদিকে শুভ হত্যা নিয়ে এখনো প্রশাসনের ভূমিকা এবং মামলায় ধীরগতি থাকায় শুভ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন নিয়ে প্রশাসনের দিকেও আঙুল উঠছে। কিন্তু স্থানীয় সূত্র বলছে, শুভ হত্যার সাথে সম্পৃক্ত এবং ইসদাইর রেল লাইনের মাদক ষ্পটের অন্যতমদের সাথে আলীর সখ্যতা ছিল। এরমধ্যে পাপ্পুর সাথেও ভাল সখ্যতা ছিল আলীর। সেই সাথে শুভ হত্যায় অন্যতম অভিযুক্ত রানার অন্যতম সহযোগী হওয়ায় শীঘ্রই আলীকে গ্রেফতারের মাধ্যমে  রানার সকল অপকর্মের রহস্য উদ্ ঘাটন সহ শুভ হত্যার রহস্য এবং শুভ হত্যায় অন্যতম অভিযুক্ত রানার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। সেই সাথে রানাকেও গ্রেফতারের আওতায় আনা সম্ভব।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন