এবার আসবেন কি হাফিজুল?
হকার ইস্যুতে উত্তপ্ত শহরতলী। সত্যিই কি হকার উচ্ছেদ হবে নাকি বিগত দিনের মতো ফাঁকা বুলি এমনই নানা প্রশ্নে ইতিমধ্যে হকার উচ্ছেদের ডেড লাইন (১৩ এপ্রিল) ঘোষণা করেছেন নাসিক প্রশাসক। যাকে ঘিরে ইতিমধ্যে নানা প্রস্তুতি শুরু হলেই গত ২০১৮ সালে মেয়র আইভীর হকার উচ্ছেদে শামীম ওসমানের সঙ্গে হকারদের মায়া কান্নার সীম্প্রতি দেখিয়ে তার সহযোগী হয়েছিলেন ছিঁচকে শ্রমিক নেতা হাফিজুল ইসলাম। যিনি শুধু তখনই নয় ২০২৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে যানজট ও হকার উচ্ছেদ হলে হকারদের নিয়ে মাঠে আন্দোলনে নেমেছিলেন এই হাফিজুল।
অনেকেই বলছেন, আবারো কি হকারদের পক্ষে নগরবাসীকে অস্বস্তি¡ দিতে মাঠে নামছেন শ্রমিক নামধারী নেতা হাফিজুল। বিগত দিনে তিনি শ্রমিকদের সীম্প্রতি বিক্রি করে বিসিক এলাকায় ওসমানদের সহযোগীতায় করতেন নানা ব্যবসা-বাণিজ্যে। তা ছাড়া আড়াইহাজার-২ আসনের সাংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর আত্মীয় হিসেবে ও পরিচিত সেই পরিচয় ও বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে হাসিল করেছেন স্বার্থ। তা ছাড়া শ্রমিক নেতা পরিচয় নিয়ে সর্বদা শহরের হকারদের পক্ষ নিয়ে গড়েছেন একের পর এক আন্দোলন। এদিকে ২০১৮ সালের (১৬ জানুয়ারি) বিকেল চারটায় সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কাউন্সিলর ও অন্যদের সঙ্গে নিয়ে নগর ভবন থেকে পদযাত্রা শুরু করেন।
বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা এবং পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের স্বার্থে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে হেঁটে প্রচারণা শুরু করেন মেয়র। বিকেল সাড়ে চারটায় পদযাত্রাটি বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া সায়েম প্লাজার সামনে এলে শামীম ওসমান বাহিনী তার উপরে অতর্কিত হামলা চালায়। যেখানে স্বশরীরে হকারদের পক্ষে শামীম ওসমানের পাশে শ্রমিক নেতা হাফিজুলকে লক্ষ্য করা যায়। যা নিয়ে নানা সমালোচনা উঠলে ও কিছুদিন পর ফের হকারদের নানা সমস্যার আন্দোলনে হাফিজুলকে সম্মূখ সারিতে দেখা গেলে হাফিজুলের বিরুদ্ধে নগরবাসীর শুরু হয় বিরল মন্তব্য। পরবর্তীতে যখনই হকার নিয়ে আলোচনা শুরু হয় তখনই হাকারদের পাশে এসে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে থাকেন হাফিজুল।
সর্বশেষ গত ২০২৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে যানজট ও হকার ইস্যুতে বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। সেই সভায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত দখল নিয়ে হকারদের প্রসঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়। একপর্যায়ে সভায় উপস্থিত সবাই ফুটপাতে হকার না বসানোর বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছে।
সেই সঙ্গে হকারদের বসার বিষয়ে কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আর সেই হিসেবেই হকারদের করা হয় মাঠ ছাড়া। যতক্ষন হলি ডে মার্কেটের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নিয়মিত হাফিজুলের নেতৃত্বে শহরে আন্দোলনের নামে নেতৃত্বে দিয়ে বিশৃঙ্খলা চালিয়ে যান শ্রমিক নেতা হাফিজুল। পরবর্তীতে কিছুদিন এভাবে চলতে থাকলে মাসখানেক গেলে হঠাৎ ফুটপাতে হকার বসতে শুরু করেন। কিন্তু এবার চিরতরে হকার উচ্ছেদের আলোচনায় উৎফুল্লহ হয়ে উঠছে নগরবাসী, সকলের চোখ এবার (১৩ এপ্রিল)। কি হতে যাচ্ছে সেদিন তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা উৎকন্ঠা।
এদিকে এবার হাফিজুল হকারদের মায়া কান্না নিয়ে মাঠে নামলে নগরবাসীই ৫ আগষ্টের মতো তাকে প্রতিহত করার হুঙ্কার জানিয়েছেন। আগামী ১৩ এপ্রিলে হকার উচ্ছেদের পর হকারদের মায়া কান্না নিয়ে হাফিজুল মাঠে নামবে কি না তা জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তা ব্যস্ত পাওয়া যায়।


