ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে স্বস্তির আভাস মিললেও দেশে ভোগান্তি কাটেনি। নারায়ণগঞ্জের পাম্পগুলোয় দীর্ঘসময় সারিতে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্রাহকরা পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। মোটরসাইকেলসহ পরিবহণগুলোর চালকদের দীর্ঘ সারি আর অপেক্ষার ক্লান্তি আগের মতোই। এতদিন সরবরাহ বন্ধের শঙ্কায় অতিরিক্ত তেল নিয়েছেন কেউ কেউ। কিন্ত এতে ও কোন প্রকারের সমস্যা লাগোবে আসেনি কিছুতেই।
যুদ্ধবিরতির খবরেও কেন এত লম্বা সারি জানতে চাইলে অধিকাংশ চালকরা বলছেন, তেল তো দেওয়া হয় না। আগেই মতোই ঘন্টায় ঘন্টায় লাইনে দাঁড়িয়েই ডিজেল-অকটেন নিতে হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি হলে ও নারায়ণগঞ্জে সুরাহ হয়নি। এখানো বাইকে ২০০ ও গাড়ি ৫ থেকে ৬ লিটার করেই নারায়ণগঞ্জের শহরের তিনটি বলাকা, প্রান্তিক ও আজগর পাম্পে অকটেন ও ডিজেল দিয়ে যাচ্ছেন । তা ছাড়া তা ও যখন তেল আসে তখনই এর আগে নয়। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। এছাড়া পাম্প এলাকা ঘিরে ব্যাপক যানজট ছিল। গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ শহরের তিনটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪ টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া বলাকা ও প্রান্তিক পাম্পে শতশত গাড়ির উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পাম্প থেকে মোটরসাইকেলের সারি অন্তত ৩০০। অন্যদিকে প্রাইভেট কারের সারি চাষাড়া থেকে প্রায় কালিরবাজার পর্যন্ত ছড়িয়েছে। এতে গন্তব্যে বের হওয়া মানুষজনকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এদিকে পাম্পগুলো স্বল্প পরিমাণে তেল বিক্রি করায় চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না চালকরা। এতে ভোগান্তি পোহাতে ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের।
চালকদের অভিযোগ, পেট্রোল পাম্পগুলো থেকে ট্যাক্সিসহ বড় যানবাহনে এক হাজার টাকার এবং মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল নির্ধারণ করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে তাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। সীমিত এই তেল নিয়ে দূরের পথে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। তা ছাড়া ইতিমধ্যে নিয়মিত ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে ডিপোর আশ পাশ থেকে প্রায় সময় হাজার হাজার লিটার চোরাই তেল অভিযান দিয়ে জব্দ করছেন প্রশাসন। যাকে ঘিরে আলোচনা উঠছে এখানে ডিপোতেই তেল নিয়ে নয়ছয় করছে সিন্ডিকেট গ্রুপ।
হাবিব নামে মোটরসাইকেল চালক বলেন, আমি অকটেন নেওয়ার জন্য এসেছিলাম। এসে দেখি অকটেন নেই। এখন অন্য পাম্পে যেতে হবে। আবার কোনো কোনো পাম্পে অকটেন দিলেও পরিমাণে কম দিচ্ছে। যতটুকু দরকার ততটুকু পাচ্ছি না।
শহরের চাষাড়া এলাকার প্রান্তিক সার্ভিস স্টেশনের অপারেটর আনিস বলেন, আমাদের ডিজেলের কোনো সংকট নেই। অকটেন সংকট রয়েছে সেটা ডিপো থেকেই কম দেওয়া হচ্ছে। যার কারণে আমরা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী অকটেন দিতে পারছি না। মোটরসাইকেল ২০০ টাকা এবং মাইক্রোবাসকে ১ হাজার টাকা পরিমাণের অকটেন দেওয়া হচ্ছে। যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ দিতে পারবো। তা ছাড়া ডিপো এখনো আমাদের পর্যান্ত দিচ্ছে না দিলেই আমরা দিতে পারবো।
প্রান্তিক সার্ভিস স্টেশনের মালিক মোহাম্মদ মশিউর বলেন, ডিপো থেকে তেল কম দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে কিছু কিছু ব্যাংক বন্ধ থাকায় তেলের এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিবি রোডের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের ক্যাসিয়ার নাজমুল মিয়া বলেন, আমাদের এখানে গতকাল থেকে অকটেন দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। ডিজেল তেল দেওয়া হচ্ছে কিন্তু অকটেন বন্ধ। কারণ চালকদের চাহিদা অনুযায়ী অকটেন দিতে পারছি না। চালকদের সঙ্গে কোনো রকমের ঝামেলায় জড়াতে চাই না।
চাষাড়া আজগর পাম্পের মালিক শাহজাহান বলেন, আমাদের যতটুকু দরকার ততটুকুই পাই না। ডিপো আমাদের তেল দেয় না। যার কারণে আমরা সুন্দরভাবে আগের মতো দিতে পারি না। শুধু শুনছি দেশে অকটেন ভরপুর। কিন্তু পাম্পের বেলায় নাই কেন। আমরা দ্রুত সকল সমস্যা সমাধান চাই। প্রয়োজনে যারা চুরি করে সরকার দ্রুত প্রশাসন দিয়ে তাদের লিষ্ট করে আইনের আওতায় আনুক এবং পাম্পগুলো আগের মতো সচল করুক।