লাশের স্তুপে পরিণত না.গঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে একের পর এক লাশ উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ জেলা জুড়ে আতঙ্ক এখন সর্বত্র। গত ২দিনে নারায়ণগঞ্জের পৃথক পৃথক অঞ্চলে চারটি লাশ মিলেছে। এরমধ্যে প্রতিটি লাশই নৃশংসভাবে হত্যার পর ডোবা পুকুর অজ্ঞাত স্থানে ফেলে দেয়া হয়েছে। যার কারণে নারায়ণগঞ্জের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন জনসাধারণ।
এদিকে অপহরণের মামলা ভিন্নখাতে প্রভাহিত করে প্রধান আসামি রানাকে সেইফ করার বহু নাটকীয়তার প্রক্কালেই রোববার ৫এপ্রিল সকালে শুভর পরিবারের লোকজন পুলিশের মোবাইলে তোলা লাশের ছবি দেখে তা শুভর লাশ শনাক্ত করেন বাবা সোহেল ও মা মাকসুদা বেগম। অথচ,শুভ অপহরণের পর ৩০ মার্চ সকালেই মরদেহটি উদ্ধার হয় ফতুল্লা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকায়। তবে, তখন আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় তথ্য বাতায়নে পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পরে মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবেই ৩১ মার্চ রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। সোনারগাঁ: সোনারগাঁওয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে লিটন (২৬) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত ৯টায় উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত লিটন রংপুর জেলার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি সোনারগাঁ পৌরসভার হামছাদী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যার শিকার লিটন সাইনবোর্ড এলাকায় একটি গাড়ির শোরুমের কর্মচারী ছিলেন। তার সঙ্গে স্থানীয় ডাকাত ও সন্ত্রাসী সাকিব গ্রুপের দ্বন্দ্ব ছিল।
গত শনিবার নিহতের সঙ্গে ওই গ্রুপের ঝগড়া হয়। রবিবার রাতে লিটন পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোনারগাঁ থানার কাঁচপুর: গত ৬এপ্রিল সোনারগাঁ থানাধীন কাঁচপুর বাজারের পাশে পশ্চিম বেহাকুর এলাকার একটি দিঘির ভেতর থেকে এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আজ সোমবার দুপুর ১টায় এই লাশটি উদ্ধার করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে দিঘির পানিতে একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। ফতুল্লা থানা কাশিপুর: নারায়ণগঞ্জে সৈকত (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের একদিন পর সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফতুল্লার কাশীপুরের উত্তর নরসিংহপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সৈকত গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা অঞ্জু মিয়ার ছেলে। তার বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং মা গার্মেন্টসকর্মী।
তারা পরিবারসহ নরসিংপুরের হাসেম স্পিনিং মিল সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিহত সৈকতের বাবা আঞ্জু মিয়া বলেন, ‘সৈকত রবিবার দুপুরে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে দোকান থেকে চকলেট কেনার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও সন্ধান মেলেনি। সোমবার বিকালে স্থানীয় লোকজন পরিত্যক্ত স্থানে সৈকতের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে বলে জানান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।’


